fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পুলিশ এক মিনিট সরে গেলে তৃণমূল তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে! বিস্ফোরক অর্জুন সিং

রক্তিম দাশ, কলকাতা: পুলিশ এক মিনিট সরে গেলে তৃণমূল তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে এমনটাই দাবি করলেন বঙ্গ বিজেপির নব নিযুক্ত সহ সভাপতি তথা ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং। তাঁর মতে, তৃণমূল দলে আর ভালো মানুষের জায়গা নেই।

বিজেপির নবনিযুক্ত সহ সভাপতি হওয়ার পরে অর্জুন সিংয়ের প্রতিক্রিয়া,‘ মা এবং বাবা আমার নাম রেখেছিলেন অর্জুন। আমার সব সময় মাছের চোখের উপর নজর থাকে সেই নজর রেখেই একুশের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব অভিনন্দন। আমাদের এই দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। দল ২০২১ কে সামনে রেখেই আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। তার ফল যাতে সঠিক ভাবে দিতে পারে, বাংলায় পরিবর্তনের পরিবর্তন আনতে সেটাই আমার লক্ষ্য।’

তৃণমূলের সমলোচনা করে অর্জুনবাবু বলেন, ‘অন্য রাজ্যেও বিরোধিদলের সরকার চলছে। কিন্তু বাংলা যে সরকার চলছে তারা অন্যায়ের পর অন্যায় করে যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। ফাঁস হওয়ার পরেও এখানে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন না। মুখ্যমন্ত্রী চিকিৎসক না হয়েও স্বাস্থ্যমন্ত্রী! তারপরে যিনি অলিখিত মন্ত্রী তিনি ল’ইয়ার। পুলিশের কাছে গেলে কোনও সুরাহা নেই। বাড়ি-ঘর লুট হবে, মেয়ে-বোনদের উপর অত্যাচার হবে, পরিবারের উপর হবে কোনও জায়গায় কমপ্লেন করা যাবে না। আপনি নিজে বাড়ি তৈরি করতে গেলে তৃণমূলকে কাটমানি দিতে হবে। কোনও কারখানায় কাজ করতে গেলে পয়সা দিতে হবে। কতো অন্যায় বলতে গেলে রাত-ভোর হয়ে যাবে।’

অর্জুনবাবু আরও বলেন, ‘করোনা নিয়ে তথ্য চাপা হল। বলতে গেলে মার খেতে হচ্ছে। নিজের পরিবারের মৃতদেহ আনতে গেলে ১৫ দিন লাগছে। মিথ্যা মামলায় জেল হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে সত্য ঘটনা প্রকাশ করলে আপনার উপর কেস হবে। এতবড় সাইক্লোন গেল ১৫ দিন ধরেও বিদ্যুৎ এল না। এই অন্যায়ের শেষ নেই। তাই আমরা বলছি আর নয় অন্যায়।’
তৃণমূলকে কটাক্ষ করে এই সাংসদ বলেন,‘ বহু মানুষ আমার মতো ওই দলে সম্মান পাচ্ছেন না। তার মধ্যে হয়তো মন্ত্রীও আছেন। অনেকে তাও পরে আছেন শেষ বয়সে কোথায় যাবেন এই ভেবে। তৃণমূল এখন বাংলা সবচেয়ে বড় রাজনীতির নাটকের মঞ্চ। আজ যদি পুলিশ নিরপেক্ষ হয়ে যায়। তৃণমূলে কেউ থাকবে না। মন্ত্রী-বিধায়করাও থাকবেন না। সবাই হুহু করে দল ছাড়বে।’

তাঁদের কি বিজেপিতে নেওয়া উচিত? এই নিয়ে অর্জুনবাবুর সাফ কথা, ‘আমাদের দলে তাঁদের নেওয়া হবে কিভাবে সেটা দলই ঠিক করবে।’

পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফিরে আসার পর তাঁদের রাখা কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলো অব্যবস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন অর্জুন সিং। তিনি বলেন,‘ এঁদের ফিরিয়ে আনার পরে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করছে না প্রশাসন। বারাকপুরে আমাদের কর্মীরা খাবার দিতে গেলে পুলিশ তাঁদের তাড়া করে। এখন শ্রমিকদের পরিবারের লোকজনদের হাত দিয়ে খাবার পাঠানো হচ্ছে সেন্টারগুলোতে।’

পরিযায়ী শ্রমিকদের দূরবস্থা সারা রাজ্য জুড়েই দাবি করে অর্জুন সিং বলেন, ‘যেখানে দিদির ভোটব্যাংক আছে সেখানেইও একই অবস্থা। তৃণমূলকে পরিযায়ীরা গালাগালি দিচ্ছে, সামাজিক মাধ্যমে তা বের হয়ে আসছে। কিন্তু অন্য রাজ্যের দিকে তাকিয়ে দেখুন তাঁরা কত ভালো ভাবে এই সেন্টারগুলো চালাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বাংলাকে শ্মশানের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসন ফেল করে যাচ্ছে। সবাই সবাইকে মিথ্যা বলছে। মোদিজি এসে হাজার কোটি সাহায্য দিলেন আমফানে। আর তৃণমূল গাছ বিক্রি করে লাভবান হল।’

Related Articles

Back to top button
Close