fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা আবহে শারদ উৎসব নিয়েও সিঁদূরে মেঘ দেখছেন মৃৎশিল্পিরা

বিজয় চন্দ্র বর্মন, মেখলিগঞ্জ: করোনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে আজ দিশাহীন বিভিন্ন পেশার মানুষ। সে তালিকা থেকে বাদ পড়েনি মৃৎশিল্পিরাও। আজ করোনার প্রভাবে এক ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তারা।

 

 

ধর্মীয় রীতিতেও পড়েছে করোনার প্রভাব। আর এর ফলে প্রায় বন্ধ মূর্তি তৈরীর কাজ। বন্ধ মেলা, বন্ধ ধর্মীয় উৎসব। অথচ হিন্দু বাঙালির সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত উৎসব দূর্গোৎসবের আর মাত্র কয়েক মাসের অপেক্ষা। উৎসবের কয়েক মাস আগের থেকেই শুরু হয়ে যায় তার প্রস্তূতি পর্ব। হিন্দু বাঙালিরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে এই শারদীয়া উৎসবকে বরন করে নেওয়ার জন্য। উৎসব ঘিরে চারিদিকে সাজো সাজো রব পড়ে যায়। বিশেষ করে কুমোরটুলিতে বায়না দেওয়ার হিড়িক পড়ে, শুরু হয়ে যায় মূর্তি তৈরীর চরম ব্যাস্ততা। কিন্তু এবারে করোনা আবহে সেই শারদ উৎসব নিয়ে মৃৎশিল্পিদের মনে দেখা দিয়েছে সংশয়, হতাশা আর অনিশ্চয়তা। যে ভাবে ক্রমশঃ করোনার সংক্রমন ছড়িয়ে পড়ছে তাতে এই উৎসব কাল স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে মৃৎশিল্পিরা।

 

 

 

 

যেভাবে করোনা পরিস্থিতিতে দফায় দফায় লক ডাউন চলছে, আর তার জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে পুজা পার্ব্বন, তাতে শারদীয়া উৎসবও সে পথে হাঁটবে কিনা সেটা হয়তো সময়ই জানা যাবে। কিন্তু করোনা যেভাবে তার ডালা পালা ক্রমশঃ বাংলার বুকে মেলে ধরছে তাতে ভয় আরও গ্রাস করছে। দীর্ঘ লক ডাউনে এক ভিন্ন অবস্থা তৈরী হয়েছে গোটা সমাজে। বাংলার যে উৎসব ঘিরে মানুষের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার হয়, রচিত হয় নতুন দিন লিপি। কিন্তু করোনা আবহে এবারের দুর্গোৎসবেও যে তার প্রভাব পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর তাতেই সিঁদূরে মেঘ দেখছে মৃৎশিল্পীরা। হতাশা তাদের গ্রাস করছে।

 

 

 

ফাল্গুন মাসের পর বৈশাখ মাস প্রায় শেষ হয়ে আসলেও এখনো পর্যন্ত তারা কোনও মূর্তি তৈরীর অর্ডার পাননি। তাই কি আশাতে তারা মূর্তি তৈরী করবেন সেটা ভেবে পাচ্ছেন না। এই করোনা ময় আবহে অনেক পেশা-ই রয়েছে সংকটের মধ্যে। তার মধ্যে মৃৎশিল্পীরা আরও চরম সংকটের মুখে। এর মধ্যে অনেক পুজাই হয়ে গেছে। সে সব পুজোতেও তারা মূর্তি তৈরীর অর্ডার পায়নি। লকডাউনে পুজো যেখানে বন্ধ, সেখানে অর্ডার আসবে কোত্থেকে ? অন্যদিকে ইচ্ছে থাকলেও এবারের পূজো নিয়ে চিন্তায় পূজো কমিটি গুলো। তারাও ভেবে পাচ্ছে না আসছে শারদীয়া উৎসবে তারা সামিল হতে পারবেন কিনা? এই হতাশার মাঝেও সুদিনের প্রতীক্ষায় কিছু কিছু মূর্তি তৈরীতে হাত লাগিয়েছেন মৃৎশিল্পীরা। যদি দূর্গোৎসবের মুখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে তাহলে মূর্তির চাহিদা থাকতে পারে, সেই আশাতে আগাম কিছু মূর্তি বানিয়ে রাখছেন তারা।

Related Articles

Back to top button
Close