fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বায়না হয়নি, ছোট কয়েকটি দুর্গা প্রতিমা তৈরিতেই মন দিয়েছেন মৃৎশিল্পীরা

জেলা প্রতিনিধি, দিনহাটা: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো আসন্ন। করোনা আবহের মধ্যে এবছর পুজোর এক মাস আগেও প্রতিমার এখনও কোনও বায়না হয়নি। শেষ পর্যন্ত দিনহাটায় পুজো হবে কিনা তা নিয়েও সন্দিহান মৃৎশিল্পীদের পাশাপাশি উদ্যোক্তারাও। অন্যান্য বছর পুজোর কয়েক মাস আগে থেকেই শুরু হয় পুজো উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি মৃৎশিল্পীদের প্রস্তুতি।

দিনহাটা শহরেই শীতলাবাড়ি, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ রোড সহ মহকুমার অন্যান্য এলাকাতেও রয়েছে বেশ কয়েক ঘর মৃৎশিল্পী। পূর্বপুরুষদের সেই পেশা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তারা। অথচ এ বছর করোনা ভাইরাসের থাবায় তাদের গত ৬ মাস ধরে কাজকর্ম প্রায় সব বন্ধ হয়ে পড়েছে।

বৈশাখ মাসের শুরু থেকেই দিনহাটার মৃৎশিল্পীরা দুর্গা প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করে। বিশ্বকর্মা পুজার মধ্যেই অধিকাংশ প্রতিমার কাজ হয়ে যায়। পুজোর কয়েক মাস আগেই পুজো উদ্যোক্তারাও প্রতিমার বায়না পত্র সম্পন্ন করে। সেই অনুযায়ী তারা প্রতিমা তৈরির প্রস্তুতি শুরু করে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে গত মার্চের প্রায় শেষ দিক থেকে সমস্ত রকম পুজো অনুষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এবছর এখনও কোনও প্রতিমার বায়না না হওয়ায় কয়েকজন মৃৎশিল্পী ছোট ছোট কয়েকটি দুর্গা প্রতিমা তৈরি শুরু করেছেন।
দিনহাটা শীতলাবাড়ি মৃৎশিল্পী প্রদীপ পাল বলেন, প্রতিবছর কালীপুজোর পর থেকেই পরবর্তী বছরের জন্য ধীরে ধীরে দুর্গা প্রতিমা তৈরি শুরু করেন। করোনার আগে পর্যন্ত কয়েকটি প্রতিমা তৈরি হয়।

আরও পড়ুন: বিভিন্ন বন্দরে আটকে পড়া পেঁয়াজ রফতানিতে অনুমতি দিল কেন্দ্র, বাংলাদেশ পাবে ২৫ হাজার টন

পরবর্তীতে করোনার থাবায় সব অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের প্রতিমা তৈরিতে ও আঘাত আসে। এমনকি বাড়ির পুজোর জন্য প্রতিমা বায়না করতে এসেও অনেকেই সাহস পাচ্ছেন না। দুর্গাপুজো কমিটির গুলির এখনও কোনও সাড়া মিলছে না। আরেক মৃৎশিল্পী ধীরেন পাল বলেন, পুজো উদ্যোক্তাদের কেউ কেউ এসে খোঁজ করছেন কিন্তু প্রতিমার বায়না করছেন না। তাই তাদের মন ভালো নেই। প্রবীণ শিল্পী বঙ্কিম পাল বলেন লকডাউনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তারা। সব ধরনের পুজোপাঠ বন্ধ। যদি পুজো হয় তবে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা এই চিন্তার মধ্যেও রয়েছেন অনেকেই। তবে কঠিন এই পরিস্থিতিতে মৃৎশিল্পীদের অনেকেরই রুটিরুজি বন্ধ হয়ে পড়ায় নিজেদের প্রতিষ্ঠানের সামনেই কেউ পানের দোকান কেউবা আবার শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সরঞ্জামের দোকান খুলেছেন। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, পুজো পাঠ কবেই বা শুরু হবে সেদিকে তাকিয়ে মৃৎশিল্পীরা।

Related Articles

Back to top button
Close