fbpx
কলকাতাহেডলাইন

সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ! মা-কে মেডিক্যালে আনা হল না জুনিয়র চিকিৎসকদের

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: কলকাতার তিন কোভিড হাসপাতালের মধ্যে মূল লড়াইটা লড়ছে উত্তর কলকাতার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ। তাই সেখানকার জুনিয়র চিকিৎসকরা মেন বয়েজ হস্টেল প্রাঙ্গণে এবার দেবী দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গার পুজো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্যান্ডেল বাঁধা হয়ে গিয়েছিল,  ঠাকুর তৈরিও প্রায় শেষের পথে। মণ্ডপে মাস্ক, স্যানিটাইজার-সহ সমস্ত কোভিড নির্দেশাবলী মানার প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে সিদ্ধান্ত বদলে জানানো হল, মেডিক্যালে আর হচ্ছে না দুর্গাপুজো।
কিন্তু কেন আচমকা এই সিদ্ধান্ত বদল? কোনওভাবে কি ওপরমহলের কোনও চাপ এসেছিল? কলকাতা মেডিক্যালের সুপার ইন্দ্রনীল বিশ্বাস বলেন, “হাসপাতালে পুজো হচ্ছিল না, বাইরে জুনিয়রদের পুজো করার কথা ছিল। যেহেতু হাসপাতাল চত্ত্বরে পুজো নয়, সেহেতু অনুমতি বা বন্ধ করিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই নেই।” তবে জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবি, এখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনও দোষ নেই। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর মন্তব্য, পারিপার্শ্বিক চাপে শেষ পর্যন্ত পুজো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হল হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকরা। পুজোর মুখে কাজের এতটাই চাপ যে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা বিন্দুমাত্র সময় দিতে পারছিলেন না। তার ওপর কোভিডযুদ্ধে মনোযোগ না দিয়ে দুর্গাপুজোয় ব্রতী হওয়ায় কটাক্ষ হেনেছিলেন নেটিজেনদের একাংশ। এই যুগ্ম চাপের মধ্যে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেস রিলিজ দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হল “মা আসছেন না মেডিক্যালে।”
প্রেস রিলিজের একটি অংশে বলা হয়েছে, “এতদূর এগোনোর পরেও আমরা সমস্ত ‘সচেতনতার’ দায় মাথায় নিয়ে পুজো ও আনুষঙ্গিক সব পরিকল্পনা বন্ধ করছি। আমরা আমাদের কলেজ, হাসপাতাল তথা চিকিৎসক সমাজের প্রতি কোনও অযথা মিথ্যা অভিযোগ-সমালোচনার কারণ হতে চাই না।” প্রায় ছ’মাস ধরে যেই ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাইকর্মীরা এখানে প্যানডেমিকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, যাঁরা মহোৎসবের দিনগুলোতে বাড়িও ফিরতে পারছেন না তাঁদের সাময়িক মনের আরাম দিতেই এই পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। সম্প্রতি রাজ্য সরকারও এক নির্দেশাবলী প্রয়োগ করে  জরুরী পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কোনও কর্মীই পুজোর সময় ছুটি পাবেন না বলে ঘোষণা করেছিল। এখন এই পুজো বন্ধের ঘোষণায় পালটা প্রশ্ন উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ার সমালোচকদের বিরুদ্ধেই। বাস্তব পরিস্থিতিতে কোভিডযুদ্ধে সামনের সারিতে লড়াই করেও চিকিৎসকদের ওই সমালোচনা প্রাপ্য ছিল  কি না, তা নিয়েই এবার পালটা প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

Related Articles

Back to top button
Close