fbpx
অন্যান্যঅফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শোলার দাম বেশি, শিল্পীরা ঝুঁকছেন জরি চুমকির চাঁদমালায়

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক: চাঁদ আর চাঁদমালার মধ্যে যেমন ফারাক, চাঁদমালার রঙিন কারিকুরির সঙ্গে চাঁদমালা শিল্পীদের ম্যাড়মেড়ে জীবনের ফারাকও তেমনই। উৎসব এলেই যাঁদের নাওয়া খাওয়ার সময় থাকে না, বছরের বাকি সময়টায় সেই তাঁদের দিনাতিপাত হয় অন্য পেশায় যুক্ত থেকে।
প্রায় ৫০-৬০ ধরনের শোলার সামগ্রী সহ নানা ধরনের চাঁদমালা যাঁরা তৈরি করেন, তাঁদের জীবনে কিন্তু ‘চাঁদ’ ওঠে না। অন্ধকার তমিস্রার জমাটবাঁধা কালো হয়ে যাওয়া জীবন উঁকি মারে চাঁদমালা শিল্পীদের সংসারের করিডোরে।
সামনেই শারদোৎসব। কিন্তু লকডাউনের থাবাতে এই শোলার চাঁদমালা শিল্পীদের বরাত মিলছেনা তেমন। আসলে শোলার চেয়েও ডাকের সাজ, চুমকি, জরি, রাংতা, ভেলভেট, গোখুরা, আর্ট পেপার, রোলেক্স দিয়ে তৈরি চাঁদমালা সহ দেবদেবীর অলঙ্কার বেশি উজ্জ্বল এবং রংবাহারি। ফলে তথাকথিত শোলা দিয়ে ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর চাহিদা ম্রিয়মান। ম্যাড়মেড়ে হয়ে পড়েছে এই জীবিকার সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের জীবন। শিল্পীরাও বাধ্য হচ্ছেন সাবেকিয়ানা ভুলে যেতে। অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু লাভের গুড় পিঁপড়ায় খায়। ফড়ে, দালালদের শোষনের শিকার হয়ে চলেছেন এঁরা।

শোলার আকাল এখন। মূলত, ভোগপুর, নন্দাইগাজন, পটাশপুর, গোবর্ধনপুর, সবং, মহতপুর থেকে আনা হয় শোলা। ওড়িশা থেকেও অনেকে শোলা নিয়ে আসেন। ৬০-৭০ পিসের শোলার বাণ্ডিলের ( দু হাত লম্বা ) দাম পড়ে ১৭০-২০০ টাকা। তাও মিলছেনা চাহিদা মতো। ফলে শোলা শিল্পীরা এখন শোলার পাশাপাশি অন্য উপাদান ব্যবহার করছেন।

তমলুকের শালিকা গ্রামের চণ্ডী মালাকার এবং লক্ষ্মীকান্ত মালাকার পাঁশকুড়ার মহতপুর থেকে শোলার বাণ্ডিল কিনে নিয়ে গেছেন পুজোর অনেক আগেই। সারা বছর ধরে এগুলো দিয়েই তৈরি হবে নানা সামগ্রী। কিন্তু লাভের মুখ দেখা হবে না এবার। আসলে চাহিদা তেমন নেই। শোলার জিনিসের দাম বেশি। তাই সস্তার জিনিসের প্রতি চাহিদা বেশি বেড়েছে। এখন বিভিন্ন দেবী প্রতিমাতে সাবেকি শোলার সাজের পরিবর্তে রাংতা, জরি, কাগজ, চুমকির সাজ ব্যবহার করা হচ্ছে। দেখতেও চিকন লাগছে। ফলে তথাকথিত শোলা শিল্পীদের এখন রুজিরুটিতে টান পড়েছে। কাখর্দা, মোহাড়, কাঁকটিয়া, রুইনান, মহিষদা, কেশাপাট, হ্যামিল্টন ব্রিজ, দশগ্রাম, দেহাটি, লাঙলকাটা, বিষ্ণুপুর, নোনামাধবচক, দুবরাজপুর, শিমুলিয়া, অর্জুননগরের শিল্পীরা বাধ্য হচ্ছেন যুগের সাথে তাল মেলাতে।

আরও পড়ুন:ভারী বর্ষণের জেরে বিপর্যস্ত হায়দরাবাদ.. জলের তোড়ে ভেসে গেল একই পরিবারের ৯ জন

নানা ধরনের চাঁদমালা সহ টোপর, ফুলঘর, ঝাড়া মালা, দেবদেবীর গয়না তৈরিতে এখন অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছে। আগে যেমন পুরোটাই শোলা দিয়ে বানানো হোতো, এখন অবশ্য আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। জরি, চুমকির মেলামেশায় চাঁদমালা সহ সব সামগ্রী হয়ে উঠেছে আরও ঝকমকে। কিন্তু হারিয়ে গেছে আভিজাত্য। অভিমানের সুর কাখর্দার স্বপন মালাকারের গলায়। আসলে ক্রেতাদের চাহিদার পরিবর্তনের জন্য এই পরিবর্তন। সারাদিন কাজ করে একজন চাঁদমালা শিল্পী আয় করেন মাত্র ৬০-৭০ টাকা! ফলে বেশিরভাগ শিল্পী এখন এটা আর পেশা হিসেবে নিচ্ছেনা। স্রেফ উৎসবের দিনগুলোকে রঙিন করার লক্ষ্যে হাজার সমস্যার ঘেরাটোপে আবদ্ধ থেকে তৈরি করছেন শোলার সামগ্রী।

Related Articles

Back to top button
Close