fbpx
দেশহেডলাইন

নিজের বক্তব্যের অর্থ কী দাঁড়াতে পারে তা নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত প্রধানমন্ত্রীর: মনমোহন

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: লাদাখ সংঘাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘরোয়া রাজনীতিতে আরও চাপে ফেলে দিতে চাইছে কংগ্রেস। শুক্রবার লাদাখ নিয়ে সর্বদল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী যে বিবৃতি দিয়েছিলেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে রীতিমতো বিবৃতি দিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ বললেন, মিথ্যা কথা বলা কূটনীতি নয়।নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর পরামর্শ, ‘নিজের বক্তব্যের অর্থ কী দাঁড়াতে পারে তা নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত প্রধানমন্ত্রীর।

গত শুক্রবার সর্বদল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেন, ভারতীয় ভূখণ্ডের কোনও অংশ বা সেনা পোস্ট দখল করতে পারেনি চিন। এর পরই বেজিং দাবি করে, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেই স্পষ্ট, সেদিনের সংঘর্ষ চিনা ভূখণ্ডেই ঘটেছিল এবং তাঁদের জমিতে অনুপ্রবেশ করেছিল ভারতীয় সেনা। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে হাতিয়ার করে দেশের মধ্যেও একই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে নিশানা করেই এবার মোদিকে বিঁধলেন তাঁর পূর্বসূরী মনমোহনও।

বিবৃতিতে মনমোহন লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপর আমাদের ভবিষ্যত্‍ প্রজন্মের অনেক কিছুই নির্ভর করছে। যাঁরা আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁদের উপরেই এই মহত্‍ দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের গণতন্ত্র অনুযায়ী এই দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর দফতরের উপরে ন্যস্ত রয়েছে। তাঁর কথার কী মানে দাঁড়াতে পারে এবং দেশের নিরাপত্তা, রণকৌশল ও স্বার্থের উপরে তার কী প্রভাব পড়তে পারে, প্রধানমন্ত্রীর সেই বিষয়ে সব সময়ে সতর্ক থাকা উচিত।’একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের কাছে আবেদন করে বলেছেন, ‘দেশের নিরাপত্তা এবং অখণ্ডতার স্বার্থে কর্নেল সন্তোষবাবু এবং অন্যান্য জওয়ানরা যে চূড়ান্ত আত্মবলিদান দিয়েছেন, তা যাতে বৃথা না যায়, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।’ মনমোহন আরও বলেছেন, সরকার যদি তা করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তা ‘মানুষের আস্থার প্রতি ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

আর পড়ুন: পর পর যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন পাক সেনার, জবাব ভারতেরও

মনমোহন এদিন বলেছেন, ‘গত এপ্রিল মাস থেকে বারবার গালওয়ান উপত্যকা ও প্যাঙ্গং লেকের কাছে ঢুকে পড়ে চিন অতিশয় নির্লজ্জ ভাবে ও বেআইনি ভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডের অংশকে তাদের বলে দাবি করছে। ওদের হুমকি ও হম্বিতম্বির সামনে আমরা মাথা নত করতে পারি না। প্রধানমন্ত্রীর কথাকে ব্যবহার করে তাদের দাবির যথার্থতা প্রমাণের সুযোগও দিতে পারি না। সরকারের উচিত সমস্ত রকমের ব্যবস্থা নিয়ে এই সংকটের মোকাবিলা করা।’ অতীতে মনমোহন জমানাতেও লাদাখ ও অরুণাচল সীমান্তে চিনের বেয়াদপি কম ছিল না। কিন্তু এ ধরনের সংকট কখনও তৈরি হয়নি। তাত্‍পর্যপূর্ণ হল, শুক্রবার সর্বদল বৈঠকে তাঁর বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী কার্যত কংগ্রেস নেতৃত্বকে খোঁচা দিয়ে বলেছিলেন, আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কেউ বাধা দিত না। কিন্তু এখন ভারতীয়রা জওয়ানরা বাধা দেন, তাই ঘন ঘন সংঘাতের পরিস্থিতি হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে তা নিয়ে এখন পাল্টা আক্রমণাত্মক কংগ্রেস।

Related Articles

Back to top button
Close