fbpx
কলকাতাহেডলাইন

তোষণের প্রচার মিথ্যা! তৃণমূল আমলে মুসলিম উন্নয়ন কই? প্রশ্ন সংখ্যালঘু নেতাদের

মোকতার হোসেন মন্ডল:  তোষণের প্রচার মিথ্যা বলে মনে করছেন রাজ্যের মুসলিম নেতারা। তাদের প্রশ্ন, তৃণমূল আমলে মুসলিম উন্নয়ন হচ্ছে কই? বিজেপি অভিযোগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলিম তোষণের রাজনীতি করছেন। কিন্তু সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলছেন, রাজ্যে তো হিন্দু তোষণের প্রতিযোগিতা চলছে। সরকারি তহবিল থেকে ৩৭ হাজার পুজো কমিটিকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান থেকে শুরু করে দিঘায় দেশের সবথেকে বড় জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠা, পুরোহিত ভাতা সব কিছুই তো চলছে।”

জমিয়তে আহলে হাদিসের রাজ্য সম্পাদক আলমগীর সরদার বলেন,’বিজেপির উত্থানের মূলে ছিল বাবরি মসজিদ ধ্বংস। ধ্বংসের মধ্য দিয়েই তাদের উত্থান। আর হিন্দু- মুসলিম বিভেদ তৈরি করাই বিজেপির মূল এজেন্ডা, আর তাতেই তারা সফল। আজও তারা মূল এজেন্ডা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি,এটা অত্যান্ত দুঃখজনক। তবে তাদের কাছ থেকে এর চেয়ে আর বেশি কিছু আশা করা যায় না। তবে এটা সত্য যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলিমদের নিয়ে যত ঢাক ঢোল পিটিয়েছেন, পরিসংখ্যান তার বিপরীত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতা দখলের সময় সাচার কমিটির রিপোর্ট যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা রেখেছিল। মুসলিমরা যথেষ্ট আশা রেখেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে, তবে মুসলিমরা হতাশ। বরঞ্চ মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযের মুসলিম তোষণ নয়, সরকারের কিছু ভুল নীতির কারণে বিজেপির উত্থান ঘটেছে।’

ওয়াকফ সম্পদ থেকে সংখ্যালঘুদের সার্বিক উন্নয়ন, সব কিছুতেই রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সভাপতি ড: নুরুল ইসলাম। বামফ্রন্ট জামানার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, কিন্তু মুসলিমরা কতটা লাভবান হয়েছেন,সাচার কমিটির রিপোর্ট, রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের সুপারিশ কতটা কার্যকর হয়েছে তার হিসাব কষছে মুসলিম সমাজ। বামফ্রন্ট জামানার বঞ্চনার কি অবসান হয়েছে নাকি সেই হজ হাউজ, আলিয়া, সম্প্রীতিকে উন্নয়ন বলা হচ্ছে তাও দেখা হচ্ছে সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের পক্ষ থেকে। ওই সংগঠনের রাজ্য সভাপতি নুরুল ইসলাম জানান,”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন বৈচিত্র্যময়। তিনি রাজনৈতিক উচ্চাভিলাসী। সক্রিয় রাজনীতি তাঁর আজীবন পেশা। বামফ্রন্টের সক্রিয় বিরোধিতা করে তাঁর রাজনৈতিক সাফল্য।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘গ্যাং ওয়ার’, ৮ জন নিহত

বামফ্রন্টের তথাকথিত কট্টর ধর্মনিরপেক্ষতার সাম্প্রদায়িক শাসনে মুসলিম সম্প্রদায় যখন বীতশ্রদ্ধ, তখন মমতা তাদের অসন্তোষ ও ক্ষোভকে প্রজ্বলিত করে রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন করেন। তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে প্রত্যক্ষ আবেদন করে বলেছিলেন, তারা যদি তাদের আশির্বাদের হাত তাঁর মাথার উপর রাখে, তাহলে তিনি তাদের বঞ্চনার পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে ন্যায্য অধিকার পাইয়ে দিবেন। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার প্রথম বর্ষে তিনি দাবি করেন, মুসলিম সম্প্রদায়কে দেওয়া প্রতিশ্রুতির নব্বই শতাংশ কাজ তিনি করে দিয়েছেন। বস্তুত পরবর্তী নয় বছরে উগ্র মুসলিম বিরোধী শক্তির কথিত ‘মুসলিম তোষণ’ এর অভিযোগ খন্ডন ও অপনোদন করতে তিনি সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আপোস করে চলেছেন। বিজেপির আগ্রাসী হিন্দুত্বের মোকাবেলায় নরম হিন্দুত্বের নীতি বাস্তবায়নে সক্রিয় থেকেছেন।

আজ তাঁর দশ বছরের শাসন কালে মুসলিম সম্প্রদায় কি পেয়েছে তা মূল্যায়ন করা জরুরি।” নুরুল ইসলাম বলেন, “বামফ্রন্টের প্রতি মুসলিমদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ ওয়াকফ সম্পদের অপব্যবহার ও দূর্নীতি। এই সম্পদ উদ্ধার ও সম্প্রদায়ের উন্নয়নের কাজে লাগানোর তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন। কিন্তু তাঁর সরকার এবিষয়ে কিচ্ছু করেনি। সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় নামে একটি দফতর আছে। এই দফতর মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে এত লোভনীয় কেন জানি না! দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মুখ্যমন্ত্রী এই দপ্তর নিজের কাছে রেখে কি করতে চেয়েছেন তা বোধ হয় আপামর মুসলিম জনতা বুঝে গেছে।”

 

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close