fbpx
দেশহেডলাইন

ধর্ষণ করে তা নিয়ে বই লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ধর্ষক! ৮টি ভাষাও জানে ‘উচ্চশিক্ষিত’ অভিযুক্ত

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: একাধিক মহিলা ও নাবালিকাকে অপহরণ করে ধর্ষণ করার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। সবার চোখে ধুলো দিয়ে পালাতে পালাতে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল ৫০ বছরের ধবল ত্রিবেদী। ধরা পড়ে আজব দাবি করে ধবল। সে জানায় ধর্ষণ করে ধর্ষিতাদের নিয়ে বই লেখার পরিকল্পনা ছিল তার। সেই বইয়ের নামও ঠিক করা ছিল, ‘টেন পারফেক্ট উইমেন ইন মাই লাইফ’। গুজরাট, ওড়িশা, পঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড ঘুরে অবশেষে রবিবার হিমাচল প্রদেশের সোলাং থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার হয়। গ্রেফতারির পর তার জবানিতে এমন পরিকল্পনার কথা শুনে কার্যত হতবাক পুলিশ!

সূত্রের খবর, ২০১২ সালে প্রথমবার দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল ধবল ত্রিবেদীকে। অভিযোগ, ১৬ বছরের দুই নাবালিকাকে টানা ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে ধর্ষণ করেছে সে। এই মামলায় গুজরাতের একটি আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়। সেখান থেকে গত ২০১৮ সালে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ফের শুরু হয় অপরাধ! আরও এক নাবালিকাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এখানেই থামে না সে, আরও এক নাবালিকাকে নিয়ে পালিয়ে যায় ধবল। মামলা যায় সিবিআই-এর হাতে। অবশেষে সিবিআই-এর তরফে তাকে ধরে দিয়ে পারলে ৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ২০২০ সালে সেই অপহৃত মেয়েটি ফিরে আসে, সঙ্গে ১১ মাসের শিশু। সেই পুলিশকে তথ্য দেয়, লুধিয়ানায় লুকিয়ে রয়েছে ত্রিবেদী।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৯৭০ সালে মহারাষ্ট্রের ঠাণেতে জন্মগ্রহণ করে গুজরাত ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স করে ত্রিবেদী। তার বাবা ছিলেন ভদোদরার একটি কলেজের দর্শনের অধ্যাপক। রীতিমতো শিক্ষিত পরিবারে স্বচ্ছল জীবন কেটেছে ত্রিবেদীর। এক তদন্তকারীর কথায়, ‘ত্রিবেদী উচ্চশিক্ষিত। স্কুলের প্রিন্সিপাল হিসেবে কাজ করেছে কয়েক বছর। আট রকমের ভাষা আয়ত্বে রয়েছে তার। খুবই বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিজের ভুয়ো নাম-পরিচয় তৈরি করত সে।’ দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি তদন্ত করতে করতে সিবিআইয়ের হাতে একটি তথ্য আসে, যে ত্রিবেদী বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়ায় এবং নতুন নতুন পরিচয়ে টিউশন পড়াতে শুরু করে। সেখানে পসার জমিয়েই নাবালিকাদের লক্ষ্যবস্তু করে অপরাধের ঘুঁটি সাজায় সে। সেই মতো শুরু হয় তদন্ত ও অনুসন্ধান। একাধিক জেলায় হানা দেয় তদন্তকারী দল। শেষমেশ জানা যায়, হিমাচল প্রদেশের সোলাং জেলার বদ্দি এলাকায় রয়েছে ত্রিবেদী। দুবছর ধরে দেশের একাধিক রাজ্য চষে ফেলার পরে অবশেষে হাতে এল অপরাধী।

আরও পড়ুন: সেনার পাশে দাঁড়িয়ে গোটা দেশ, বার্তা দিক সংসদ, অধিবেশনের আগে মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে ১৯৯৬ সালে বিয়ে করে ধবল কিন্তু তার স্ত্রী বিয়ের কয়েক মাস পরেই মারা যান। এরপর ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয়বার বিয়ে করে সে, দ্বিতীয় পক্ষে তার ১টি কন্য সন্তানও রয়েছে। দিল্লি পুলিশের ডিসিপি মণিকা ভরদ্বাজ বলেন, ‘একটি বিশেষ টিম তৈরি করে গোপনে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বদ্দি। সেখানেই ঘাঁটি গেড়ে বসে ওই টিম। তারাই গোটা এলাকায় ছানবিন করে সমস্ত তথ্য সরবরাহ করে দিল্লি পুলিশকে। জানা যায়, বদ্দি এলাকার একটি কারখানায় নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে কাজ নিয়েছে ত্রিবেদী। যথারীতি এবারেও নিজের নাম-পরিচয় ভাঁড়িয়েছে সে। সব কিছু ঠিক করে, ফাঁদ পেতে যেদিন তাকে ধরতে পৌঁছয় পুলিশ, জানা যায় দুদিন আগে চাকরি ছেড়ে পালিয়েছে সে। এর পরে ফের একদফা রুদ্ধশ্বাস অভিযান করে ধরা হয় তাকে।’ মণিকা ভরদ্বাজ আরও বলেন, ‘ও যখন পালিয়ে বেড়াত, গা ঢাকা দিয়ে থাকত, তখন গুরুদুয়ারাগুলোয় আশ্রয় নিত। শিখ সেজে রান্নাবান্নার কাজে জুড়ে যেত। কেউ কোথাও সন্দেহ করত না, পুলিশও কোনও ভাবে খুঁজে পেত না।’

Related Articles

Back to top button
Close