fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে সংস্কার করলেন সাঁকো

সোমা কর, দিনহাটা: ধরলা নদী দ্বারা বেষ্টিত মাতালহাট এলাকায় প্রতিবছর বিভিন্ন গ্রামে বাঁশের সাঁকো মেরামতি করতে সরকারিভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়। নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন এলাকার ভলকা গ্রামের যাতায়াতের ভরসা বাঁশের সাঁকো। গত কয়েক মাস ধরে বেহাল হয়ে সাঁকোটি কার্যত ভেঙে থাকায় এর ফলে গ্রামবাসীদের চলাচলের ক্ষেত্রে বিরাট সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও সাঁকোটি সংস্কার না হওয়ায় সাঁকোর দুই পাড়ের বাসিন্দারা নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে সংস্কার করলেন। দিনহাটান এক ব্লকের মাতালহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ভলকা গ্রাম।

নদী দ্বারা বেষ্টিত গ্রামের তিন দিক। প্রতিবছর বর্ষার আগে এই সাঁকো মেরামতি হয়ে থাকে। কিন্তু এবছর সাঁকো বেহালা হয়ে থাকলেও কোনরকম সংস্কারের উদ্যোগ নেই গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের এমনই অভিযোগ বাসিন্দাদের। তাই স্থানীয় এলাকার বাসিন্দারা চলাচলের জন্য নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে বাসের এই সাঁকোটি তৈরি করেন।

এলাকার বাসিন্দাদের রঞ্জিত বর্মন, সুনীল দাস, নারায়ণ বর্মন, সুধীর দাস প্রমুখ জানান সাঁকোটি বেহাল হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে ওঠে। বাসের এই সাঁকোর উপর দিয়ে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে ধরলা নদীর শাখা দুই পারের কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকে।

উল্লেখ্য, মাতালহাট গ্রামে ইতিপূর্বে বছর কয়েক আগে বাসের সাঁকো পার হতে গিয়ে সেখান থেকে নদীতে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় এক স্কুলছাত্রের। ফি বছর এভাবে শাক নির্মাণে যেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় হচ্ছে তখন এলাকার শাখাগুলোকে এতদিনেও কেন কংক্রিটের সাঁকো পরিণত করা হচ্ছে না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এলাকার বাসিন্দারা জানান যেকোনও সময় দুর্ঘটনার হাত থেকে গ্রামের মানুষকে রক্ষা করতে তারা নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে বাঁশের সাঁকোটি এদিন নতুন করে সংস্কার করেন।

এদিকে মাতালহাট গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গেছে প্রতিবছর এলাকায় বেশ কয়েকটি বাঁশের সাঁকো তৈরি হয়ে থাকে। এর ফলে সরকারি ভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা নষ্ট হয়। তাই ব্লক প্রশাসনের সাথে কথা বলে বাঁশের সাঁকো গুলির পরিবর্তে যাতে কংক্রিটের সাঁকো নির্মাণ করা যায় তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্লক প্রশাসনের সাথে কথা বলে খুব শীঘ্রই সেই কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে বলেও গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানান।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য আরতি রায়ের সবামী অতুল রায় জানান, সাঁকোটি বেহাল হয়ে পড়ায় বাসিন্দারাই উদ্যোগী হয়ে সেটিকে সংস্কার করে। বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে সেখানে কংক্রিটের সাঁকো নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঞ্জিনিয়াররা এলাকার মাপজোক করে যায়। লকডাউন এবং বর্ষা শেষ হলেই সেই কাজও শুরু হবে বলে তিনি জানান।লকডাউন শেষে দ্রুত যাতে কাজটি শুরু করা যায় তার জন্য তারা বিশেষভাবে উদ্যোগী হবেন বলেও জানান।

Related Articles

Back to top button
Close