fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশব্লগহেডলাইন

চন্দা কোচারের উত্থান-পতন….

আর কে সিনহা: সত্যিই সমাজ ও দেশের কোনও সম্মানিত ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব যখন ভুল কাজের জন্য ফেঁসে যান, তখন তাঁদের ভক্ত ও অনুরাগীরা হতাশ হয়ে পড়েন। তাঁদের অগণিত ভক্তরা নিজেদের প্রতারিত মনে করতে থাকেন। আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের প্রাক্তন ম্যানেজিং ডিরেক্টর চন্দা কোচারের স্বামী দীপক কোচার গ্রেফতার হওয়ার পর ঠিক এমনই মনে হয়েছিল। চন্দা কোচারের স্বামী নিজের স্ত্রীর মাধ্যমে বড় বড় শিল্পপতিদের মোটা অঙ্কের ঋণ পাইয়ে দিতেন। পরিবর্তে বিশাল অঙ্কের কমিশন হজম করবেন তিনি। এখন চন্দা কোচার ও তাঁর স্বামীর কুকীর্তি সকলের সামনে চলে এসেছে। আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের থেকে ভিডিওকন গ্রুপকে বেআইনি লেনদেন মামলায় দীপক কোচারকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এই ধরনের মামলায় এটাই প্রথম গ্রেফতারি। এবার চন্দা-সহ আরও কয়েকজন জেলে যেতে পারেন।

এর আগে চন্দা কোচারের মুম্বইয়ে অবস্থিত ফ্ল্যাট এবং তাঁর স্বামী দীপকের কোম্পানির কিছু সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৭৮ কোটি টাকা। যে চন্দাকে দেশের সফলতম মহিলাদের মধ্যে একজন বিবেচনা করা হয়, তাঁর এই কুকীর্তিতে প্রায় সকলেই লজ্জিত। ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারির কারণে ইতিমধ্যেই চাকরি হারিয়েছেন তিনি। ছোট থেকেই ভারতীয় মহিলাদের শালীনতা, সৌম্য ও সৌন্দর্য্যের প্রতি যে ধারণা তৈরি হয়েছিল, চন্দার কুকীর্তি সেই ধারণায় রীতিমতো কুঠারাঘাত করল। এর থেকে দুর্ভাগ্যপূর্ণ আর কী হতে পারে? চন্দার বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ রয়েছে, তার ফলে হাজার হাজার মানুষকে তিনি বিচলিত করেছেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

আরও পড়ুন:প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে ৭০ সংকল্প বিজেপির

ব্যাঙ্কিং সেক্টরের সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের রোল মডেল মনে করা হত তাঁকে। দিল্লিতে একবার শিল্প ও বাণিজ্য কনফেডারেশন আয়োজিত সম্মলেনে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা (মহিলারা) বিশেষাধিকারের দাবি করি না, পরিবর্তে যোগ্যতার ভিত্তিতে যেন চাকরি মেলে।’ এই কথা শুনে যে কেউ তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেই। কিন্তু, তাঁর দুর্নীতিগ্রস্ত আচরণের ফলে কোটি কোটি মহিলারা হতাশ হয়েছেন। চন্দা কোচার, অরুন্ধতী ভট্টাচার্য, শিখা শর্মা, নৈনালাল কিদওয়াই, বিজয়লক্ষ্মী আইয়ার প্রমুখ সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্কের শীর্ষে পৌঁছনোয় গোটা দেশের সম্মান পেয়েছেন। আসলে একজন সচেতন নাগরিকের অভিযোগের পরই চন্দা কোচারের ব্যাঙ্ক ম্যানেজমেন্ট তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল। তখন কারও মাথাতেই আসেনি চন্দা কোচারও এত বড় দুর্নীতি করতে পারেন।

প্রথমে মনে হয়েছিল, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যে। কয়েকমাস আগে ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা রাণা কাপুরকে ভালোভাবেই ফেঁসে গিয়েছিলেন। তিনিও বিভিন্ন উদ্যোগপতিকে মোটা অঙ্কের ঋণ দিয়ে নিজের সাম্রাজ্য তৈরি করেছিলেন। এখন তিনিও জেলে রয়েছেন। মুম্বই ও দিল্লি সংলগ্ন এলাকায় ব্যয়বহুল সম্পত্তি কেনা রাণা কাপুরও ব্যাঙ্কিং সেক্টরের একজন নাম। সর্বদা সংবাদের শিরোনামে রাখতেন রাণা কাপুর। ইয়েস ব্যাঙ্কে সঙ্কট দেখা দেওয়া মাত্রই রাণা কাপুরের মুম্বইয়ের বাসভবনে অভিযান চালায় তদন্তকারী দল। দিল্লিতে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন রাণা কাপুর।

তাঁর বড় মেয়ে রাখির বিয়ে হয়েছে দিল্লির প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আলোকেশ ট্যান্ডনের সঙ্গে। স্টিল কিং লক্ষ্মী মিত্তলের জামাই অমন ভাটিয়ার চাচাতো ভাই হলেন আলোকেশ। রাণার দ্বিতীয় মেয়ে রাধার বিয়ে হয়েছে আদিত্য খান্নার সঙ্গে। আদিত্য একজন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ।

আরও পড়ুন:অধীরেই আস্থা রাখলো কংগ্রেস, ফিরলেন পুরনো মসনদে

ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা রাণা কাপুরের সমস্ত কুকীর্তি এখন প্রকাশ্যে আসছে। সপরিবারে এখন সম্পত্তি মামলায় জড়িয়ে পড়ছেন তিনি। সিবিআই এবং অন্যান্য এজেন্সি তাঁর বাড়ি এবং অন্যান্য দফতরে তল্লাশি চালাচ্ছে। আসলে ব্যাঙ্কে উল্টোপাল্টা ঋণ দেওয়ার কালো-ব্যবসা আগে থেকেই চলছে। ঋণ দেওয়ার নামে ব্যাঙ্কের বড় বড় অফিসাররা মোটা অঙ্কের কমিশন নেন।
আগে যেহেতু এখনকার মতো জবাবদিহি হত না, এজন্য ভালোই চলত। সুনিয়োজিত এই লুট বন্ধ করার জন্য বদ্ধপরিকর মোদি সরকার।
তবে, মোটা চামড়ার কিছু দুষ্টরা এখনও কালো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বহু দিনের পুরানো রোগ, তাই দূর করতে কিছুটা সময় লাগবে। ব্যাঙ্কগুলিতে জঞ্জাল পরিষ্কার করতে ব্যস্ত মোদি সরকার।

ব্যাঙ্কিং সেক্টরের বড় বড় মাছ ইতিমধ্যেই সিবিআই-এর জালে ধরা পড়েছে। তারা অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের কালো ধান্দা করত। দেশকে প্রকাশ্যেই প্রতারণা করত তারা। মনে হচ্ছে ব্যাঙ্কিং সেক্টর এখন ধীরে ধীরে সঠিক লাইনে আসছে। ব্যাঙ্কে সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মী আগেও ছিলেন এবং এখনও আছেন। ধরা যাক ব্যাঙ্কিং সেক্টরকে নতুনভাবে তৈরি করতে হবে। ব্যাঙ্ক থেকে সমস্ত জঞ্জাল পরিষ্কার করতে হবে। ভবিষ্যতে চন্দা কোচার অথবা রাণা কাপুরের মতো কেউ তৈরি হতে না পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে মোদি সরকার।

(মতামত নিজস্ব)

Related Articles

Back to top button
Close