fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনে বাধার মুখে ছিপ শিল্পীরা, সমস্যায় ব্যাধ কলোনির ছিপ শিল্পীরা

বাপ্পা রায়, ময়নাগুড়ি:  এ বছর বর্ষা নামলেও চাহিদা নেই ছিপ শিল্পের। প্রসঙ্গত বর্ষার আগমনে সাধারণ মানুষের মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে একটা আনন্দের পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। তাই মানুষ হন্যে হয়ে থাকেন মাছ ধরার উপকরণ কেনার জন্য। আর মাছ ধরার অন্যতম একটি উপকরণ হল ছিপ।

 

 

 

ময়নাগুড়ি ব্লকের চূড়াভান্ডার অঞ্চলের ব্যাধ কলোনির বাসিন্দারা এই ছিপ তৈরি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন।ওই গ্রামে ১৪ টি পরিবার আছেন যাঁরা এই পেশায় যুক্ত।অনগ্রসর জাতি এই ব্যাধ এক সময় পশু শিকার করলেও বর্তমানে তাঁদের এই পশু শিকার সরকারি ভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বাঁচার তাগিদেই তাঁরা ছিপ বানানোর শিল্পকে বেছে নিয়েছেন। তাদের মূল পেশা হলো ছিপ বানানো। কিন্তূ প্রতিবছর বর্ষা শুরুর আগে থেকেই চাহিদা থাকলেও এবছর করোনার দাপটে অনেকটাই চাহিদা কম। লকডাউনের ফলে বিভিন্ন জেলায় ছিপ পাঠানো সমস্যা হয়ে গিয়েছে। যদিও লোকাল বাজারে ছিপের চাহিদা অনেকটাই আছে। বিভিন্ন গ্রামের থেকে মানুষ এসে ছিপ কিনছেন। কিন্তূ পাইকারি ভাবে ছিপ বিক্রি এবছর তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। ফলে সমস্যায় পড়েছেন ঝাঁঝাঙ্গির ব্যাধ কলোনির ছিপ শিল্পীরা।

 

বিভিন্ন গ্রাম থেকে নল বাঁশ কিনে এনে তাকে মাছ ধরার উপযুক্ত করে তোলেন এই শিল্পীরা। একমাসে প্রায় ২০হাজার ছিপ তৈরি করতে পারেন তারা।এখানকার ছিপ ময়নাগুড়ি,ধুপগুড়ি,মালবাজার,জলপাইগুড়ি,শিলিগুড়ি সহ পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলায় রপ্তানি করতেন তারা । ছিপ শিল্পী বিশ্বজিৎ ব্যাধ জানান,”আমাদের এই ছিপ তৈরির জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়।তবুও কাজের দক্ষতার উপর প্রতিদিন ৩০-৪০টা ছিপ তৈরি করা সম্ভব হয়। সারাবছর এই ছিপ এর বাজার চলে না বর্ষার সময় এর চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তূ এবছর লকডাউন থাকায় বাইরে সেভাবে বিক্রি করতে পারছি না। খুচরো বিক্রি করতে হচ্ছে।”

Related Articles

Back to top button
Close