fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সময়ের অপেক্ষা…রেলের তরফে আঁকা হচ্ছে সুরক্ষা বলয়, ট্রেন চলার আশায় সুন্দরবনবাসী

শ্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনা: লোকাল ট্রেন চালানোর দিনক্ষণ এখনও ঠিক না হলেও স্টেশনগুলির প্রস্তুতি জোরকদমে চলেছে।ইতিমধ্যে যাত্রী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে স্টেশনগুলিকে সুরক্ষা বলয় তৈরি করার চিন্তাভাবনা চলছে রেল দফতরের তরফ থেকে।

সুন্দরবনের প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম এই রেল। যেমন যোগেশগঞ্জ, হিঙ্গলগঞ্জ ও হাসনাবাদ। তাই ঢেলে সাজানো হচ্ছে সুন্দরবনের প্রান্তিক হাসনাবাদ ও টাকি স্টেশনগুলিকে। এইদিন নির্দিষ্ট দূরত্বে সুরক্ষা বলয় আঁকা হচ্ছে রেলের তরফ থেকে। এখনও রেল চলাচল নির্দিষ্ট দিন ঠিক না হলেও রেলে তরফ থেকে এই সুরক্ষা বলয় আকার প্রস্তুতি দেখে আশায় বুক বাঁধছেন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষরা। শহর এবং শহরতলীর বেশিরভাগ মানুষের আয়ের উৎস কলকাতা এবং শহরতলীতে। রাজমিস্ত্রি , ঠিকা শ্রমিক, কল কারখানা ছোট বড় কোম্পানি, বড় শপিংমলে কাজ করে দিন গুজরান করেন এই সমস্ত প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষজন।

আরও পড়ুন:এখনই শুরু হচ্ছে না ফুলবাগান মেট্রো পরিষেবা, নয়া অনুমোদনের অপেক্ষায় মেট্রো কর্তৃপক্ষ

শুধু জীবিকার তাগিতে নয় জীবনের তাগিদে চিকিৎসা কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য অনেক অংশে রেল যোগাযোগের উপায় নির্ভর করেন গ্রাম অঞ্চলের মানুষরা। শিক্ষাক্ষেত্রে কিছুদিন বিরাম পাওয়া গেলেও জীবিকা বা জীবনের তাগিদ মেটাতে এই দীর্ঘ বিরতি কতটা দুঃসহ হতে পারে ইতিমধ্যেই তা উপলব্ধি করেছে সাধারণ মানুষ। তাই নিজেদের তাগিদে চাইছেন ইতিমধ্যেই চালু হোক রেল পরিষেবা। অল্প সংখ্যক যাত্রী নিয়েই শুরু হোক রেল পরিষেবা। সচল হোক জীবন।

ট্রেন চলাকালীন শম্ভু কাহার প্রতিনিয়ত ডেলি প্যাসেঞ্জারি করতেন কলকাতা শহরের ঠিকা শ্রমিক হিসাবে। এতে কোনও রকমে টেনেটুনে সংসার চালানোর মত রোজগার হত। কিন্তু ট্রেন বন্ধ হবার সঙ্গে সঙ্গে তেমন ভাবে গ্রামগঞ্জে আর কাজ পাওয়া যাচ্ছে না সংসার প্রায় অচল কি করে সংসার চলবে তা আর ভেবে পাচ্ছেন না শম্ভু কাহার।

আরও পড়ুন:নিট পরীক্ষার্থীদের জন্য আজ সকাল থেকে ১০ টা থেকে চলবে মেট্রো, রাস্তায় থাকছে অতিরিক্ত বাস

এমনই অভিযোগ দেবনাথ ও সহদেবের সকাল পাঁচটায় ট্রেন ধরে যেতেন দমদমে কিন্তু তা এই মহামারী করোনার আবহে বন্ধ হয়ে গেছে ট্রেন। ছেলে মেয়ে পড়াশোনা করে আমার একমাত্র উপার্জনের উপর নির্ভর করে থাকে গোটা সংসার বৃদ্ধ মায়ের ওষুধ কেনার পয়সা নেই, অসুস্থ বাড়ির স্ত্রী কলকাতায় এনআরএস হসপিটাল চিকিৎসা করাতে নিয়ে যেতাম কিন্তু তার উপায় আর নেই। ভাড়া গাড়ি করে যাওয়ার মতো অর্থ আমার নেই, ভেবে পাচ্ছি না এরপরেও যদি দীর্ঘদিন না ট্রেন চলে অসুস্থ রোগী বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে। ছেলে মেয়ের পড়াশোনা কিভাবে চলবে সংসার দুবেলা দুমুঠো ভাত জোগাড় করার মত সংস্থান আমার নেই বর্তমানে। তার উপরে সমিতির মানুষ বাড়ি এসে নিত্যদিন তাগাদা করছে কেননা তাদের কাজ থেকে লোন নিয়ে পরিবারের সুখ দুঃখের কাজে খরচ হয়ে যায়, এখন আমরা কাজ হারিয়ে ঘরে বসে আছি, লোনের কিস্তি দিতে পারছি না, সন্তানদের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দিতে পারছিনা সব মিলিয়ে এই করোনার আবহে যাঁতাকলে পড়েছি আমরা।

Related Articles

Back to top button
Close