fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণদেশপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মহারাষ্ট্রে সাধু হত্যায় ক্ষুব্ধ বাংলার সন্তরা! দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি ভিএইচপির

রক্তিম দাশ, কলকাতা: মহারাষ্ট্রের পালঘরে জুনা আখড়ার দুই সাধু এবং তাঁদের চালককে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এবার সরব হলেন বাংলার সন্তরা। তাঁরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মধ্য দিয়ে একটি প্রেস বিবৃতি দিয়েছেন। এই ঘটনায় দোষিদের কঠোর শাস্তির দাবি করে বাংলার সন্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দক্ষিণবঙ্গের দ্বারা প্রচারিত এই প্রেস বিবৃতিতে বাংলার সন্ত সমাজ দাবি করেছেন, ‘পালঘরে দুই শিশু সুলভ মহান সন্তের নির্মম হত্যা পুলিশের উপস্থিতিতে বামপন্থী গুন্ডাদের সংগঠিত হয়েছে। ওই গুন্ডাদের অকস্মাৎ আক্রমণে ও নির্মম প্রহারে দুই সাধু ও গাড়ির চালক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় সারা দেশ আজ শোকস্তব্ধ এবং তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছে। কিন্তু এই ক্রুর হত্যার বিরুদ্ধে ব্যতিক্রম কেবল সেকুলার বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদরা।’

বাংলার সন্তরা এই ঘটনার শাস্তি চেয়ে বলেছেন, ‘ আমরা গভীর ভাবে মর্মাহত ও আতঙ্কিত এবং নিরাপত্তাহীনতায় আশঙ্কিত। ভারতবর্ষে ধর্মের এবং আধ্যত্ববাদের পীঠভূমি এবং সাধু সমাজ সদা সর্বদা জগৎকল্যাণে সাধনারত। বামপন্থী গুন্ডাদের সাধু সমাজের উপর নির্মম আক্রমণ ও অনেক ঘটনার সাক্ষী এই দেশ। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাই।’

এই প্রেস বিবৃতিটিতে স্বাক্ষর করেছেন, স্বামী দেবানন্দ ব্রক্ষচারী (প্রেম মন্দির, রিষড়া), গুরুপদান্দজী মহারাজ ( ভারত সেবাশ্রম সংঘ, কলকাতা), স্বামী বন্ধুগৌরব দাস ( মহাউদ্ধারণ মঠ, কলকাতা), সারদাত্মানন্দজী মহারাজ (সারদা রামকৃষ্ণ আশ্রম,আলমবাজার), স্বামী জগদারতিহা দাস ( ইসকন, মায়াপুর), স্বামী বৃন্দাবন বিহারী দাস কাঠিয়াবাবা (কাঠিয়াবাবা আশ্রম,সুখচর ), ব্রক্ষচারী মুরাল ভাই (দক্ষিণেম্বর রামকৃষ্ণ সংঘ),  কুলদানন্দ তীর্থ ব্রহ্মচারী মহারাজ (শরণ্য মাতৃআশ্রম, বরাহনগর), প্রজ্ঞানস্বরূপ ব্রহ্মচারী মহারাজ, সনাতন বৈদিক আশ্রম, হুগলি), স্বামী পরমাত্মানন্দ ভৈরব গিরি মহারাজ,  ব্রহ্মচারী মহারাজ ( ব্রহ্মময়ী কালীবাড়ি, কলকাতা), স্বামী তিতিক্ষানন্দ মহারাজ (উত্তমআশ্রম, ডুমুরদহ, হুগলি) শ্রীমদ্ তদবর মহারাজ (জন্মস্থান মন্দির, মায়াপুর)।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পূর্ব ক্ষেত্র সংগঠন সম্পাদক স্বপন মুখোপাধ্যায় এবিষয়ে বলেন,‘পালঘর হত্যাকান্ড হিন্দু বিরোধী সুনিয়োজিত ষড়যন্ত্র। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এই নির্মম হত্যার ঘটনায় অত্যন্ত ব্যথিত ও মর্মাহত। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ মনে করে, এই ঘটনা কোনও সাধারণ ঘটনা নয়, পূর্বপরিকল্পিত ও সুনিয়োজিত আক্রমণ। ধীরে ধীরে এই বিষয়ে নানান তথ্য সামনে আসছে। প্রথমত যখন করোনা মহামারীর ঘোর আক্রমণে সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গে ভারতবর্ষেও এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে এমতাবস্থায় কিভাবে শতাধিক লোক একত্রিত হয়ে গেল, কাকতালীয় ব্যাপার তো নয়। ওখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা সত্বেও পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়নি।’

স্বপনবাবু বলেন, ‘ প্রথমাবস্থায় ওই দুজন মহান সাধুকে আটকানো হয়েছিল, মারধরও করা হয়েছিল। গ্রাম পঞ্চায়েত চিত্রা চৌধুরীর হস্তক্ষেপে মারপিট বন্ধ হয়। দুই সাধুকে বনবিভাগের চৌকিতে নিয়ে আসা হয়েছিল। এক ঘণ্টা বাদে পুলিশ তো এসেছিল, কিন্তু মূক দর্শকের ভূমিকায়। কার নির্দেশে পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল,  ভিড় হটানোর জন্য গুলি কেন চালানো হল না? এই সমস্ত ঘটনা বামপন্থী গুন্ডাদের দ্বারাই সংঘটিত হয়েছে, কারণ ওখানকার বিধায়কও কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে মহারাষ্ট্রে একমাত্র প্রতিনিধি। ওখানকার বনবাসী সমাজকে রামের বদলে রাবণের পুজো করতে প্ররোচিত করা হয়েছে। এইজন্য পরিষদের নিশ্চিত মত এটাই যে ওই রাতে বামপন্থী

গুন্ডাদের দ্বারাই সাধুদের হত্যা করা হয়েছে। কারণ সাধু সন্তদের উপর আক্রমণ বামপন্থী গুন্ডাদের দ্বারা ইতিপূর্বে এদেশে বহু ঘটনার সাক্ষী আছে।

স্বপববাবুর দাবি, ‘হত্যাকারীদের কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির হোক। তা না হলে হিন্দু বিদ্বেষী মানসিকতার বিরুদ্ধে দেশের লাখ লাখ সস্ত সমাজের সঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কঠিনতম আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।’

Related Articles

Back to top button
Close