fbpx
কলকাতাহেডলাইন

বকেয়া বেতন না মেলায় অনলাইন ক্লাস থেকে পড়ুয়াদের বাদ দিল স্কুল

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: বকেয়া বেতন না মেলায় স্কুল অনলাইন ক্লাস থেকে বাদ দিল পড়ুয়াদের। সোমবার কলকাতার মহাদেবী বিড়লা শিশু বিহার স্কুলের তরফ এমনই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে গেছে অভিভাবক মহলে। অন্যদিকে এদিন বেহালা ন্যাশনাল স্কুলে বেতন কমানো নিয়ে আলোচনায় বসার জন্য অভিভাবকদের দেখে রীতিমতো স্কুল কর্তৃপক্ষ। আবার বিবেকানন্দ মিশন স্কুল ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদমাধ্যমে অভিভাবকদের সঙ্গে দ্বিচারিতা করছেন বলেও আভিযোগ করেন অভিভবকরা।

এতদিন বেসরকারি স্কুলগুলিতে বেতন কমানোর দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল অভিভাবকরা। এবার অভিবাবকদের পাল্টা চাপে ফেলতে বেতন জমা না দেওয়ায় অনলাইন ক্লাসের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে সরানো হল পড়ুয়াদের। ১০ ই জুলাই এর মধ্যে বকেয়া বেতন না দিলে ছাত্রীদের আর অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে দেওয়া হবে না এই মর্মে অভিভাবকদের কাছে ই-মেইল মারফত জানিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। যা নিয়ে স্কুলের সামনেই অভিবাবকরা বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন।

মূলত এপ্রিল থেকে জুন মাসের স্কুলের বেতন না দেওয়ায় ক্লাস ওয়ান থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রীরা অনলাইন ক্লাস থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে স্কুলের তরফেই। রবিবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে অভিভাবকদের সরানোর পর সোমবার সকাল থেকে ছাত্রীদের কাছে আর নতুনভাবে কোন অনলাইন ক্লাস করার লিঙ্ক পাঠানো হয়নি। যা নিয়ে রীতিমতো বিতর্ক শুরু হয়েছে।

শুধু তাই নয় স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা চাইলেও স্কুলের তরফ সে অবশ্য আলোচনায় বসার কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। প্রসঙ্গে অবশ্য স্কুলের মুখপাত্র সুভাষ মোহান্তি বলেন ” স্কুলের তরফ সে প্রতিনিয়ত অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে কাদের কাদের টাকা দিতে সমস্যা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।”

টিউশন ফি-র পাশাপাশি কেন অন্যান্য ফি কেন নেওয়া হবে তা নিয়ে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে শহর কলকাতার একাধিক স্কুলে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন অভিভাবকরা। বিশেষত পরিবহন ফ্রী লাইব্রারি ফ্রী মত বর্তমানে যেগুলির কার্যকারিতা নেই সেই ফি কেন নেবে স্কুল তা নিয়েই গত কয়েকদিন ধরেই লাগাতার বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বিভিন্ন স্কুলের অভিভাবকরা। লাগাতার অভিভাবকদের বিক্ষোভের জেরে অবশ্য হাতেগোনা কয়েকটি স্কুল কয়েকটি খাতে ফি কমিয়েছে। লকডাউন এর কারণে অনেক অভিভাবকের আর্থিক পরিস্থিতি শোচনীয়। এমনকি অনেক অভিভাবকের চাকরি পর্যন্ত চলে গেছে। একাধিক স্কুলের কাছে অভিভাবকদের তরফে এমনকি ইমেল পৌঁছেছে।

যদিও স্কুলগুলির তরফে অবশ্য দাবি করা হচ্ছে এই সংক্রান্ত কোনও ইমেল বা কোনও চিঠি এলে সেই বিষয় মানবিকভাবে দেখছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বেসরকারি স্কুলের বেতন কমানো নিয়ে পরিস্থিতি যা ছিল এখনও তাই আছে, বদলাইনি এতটুকু। এ দিন তা আরও একবার প্রমাণিত হয়ে গেল। বেহালার ন্যাশনাল জেমস স্কুলে র অভিভাবকরা লকডাউন চালু হওয়ার পর থেকেই স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বেতন কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের এই দাবি শুনতে নারাজ ছিল। অবশেষে অভিভাবকদের জড়াজড়ির ফলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসতে রাজি হয়। এদিন স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অভিভাবকদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল বেতন কমানো নিয়ে। সকাল থেকেই অভিভাবকরা স্কুলের সামনে ভিড় জমালেও এদিন সকাল থেকেই ব্যাপারটা ছিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এমনকি বেলা গড়িয়ে গেলেও স্কুল কর্তৃপক্ষের কারো টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যায় নি।

অন্যদিকে বিবেকানন্দ মিশন স্কুল বেতন কমানোর দাবিতে এদিন স্কুল ক্যাম্পাস এর মধ্যেই সকাল ১১ টা থেকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখাতে থাকে অভিভাবকরা। গত কয়েকদিনে বেতন কমানোর দাবিতে বহুবার অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে। অবশেষে কথা হয় কিন্তু বেতন এতোটুকু কমেনি। উল্টে বেতন কমানো নিয়ে সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে আর তাই নিয়েই এদিন প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন বিবেকানন্দ মিশন স্কুলের অভিবাবকরা।

Related Articles

Back to top button
Close