fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণবাংলাদেশহেডলাইন

প্রাচীন মন্দিরের জায়গা দখল করেছে মেয়রের পরিবার, শেখ হাসিনাকে স্মারকপত্র দিল হিন্দু ঐক্য পরিষদ

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: প্রাচীন একটি মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ সিটির মেয়র
সেলিনা হায়াত আইভির পরিবারের লোকজন। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বুধবার মানবশৃঙ্খল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্মারকপত্র দিয়েছে তারা।

এদিন বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে সমাবেশ করেছে জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। এতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীরা যোগ দেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জের সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পরিবার শহরের দেওভোগ লক্ষ্মীনারায়ণ আখড়ার মালিকানাধীন ঐতিহ্যবাহী জিউজ পুকুরের ৩৭৭ শতাংশ দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে রেখেছে। এখন শতকোটি টাকার এই সম্পত্তি বিক্রির পায়তারা চালাচ্ছে আইভীর পরিবার। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নির্মল চ্যাটার্জি, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা সভাপতি চন্দন শীল প্রমুখ। বক্তারা মেয়র আইভীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, প্রচলিত আইনে দেবোত্তর সম্পত্তি যেখানে হস্তান্তর বা বিক্রি করা নিষিদ্ধ, সেখানে জাল দলিল করে দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা করছেন মেয়র আইভী ও তার পরিবার। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া স্মারকপত্রতে তারা অভিযোগ করেন, ‘নারায়ণগঞ্জ নগরী স্থাপনের সময় শ্রী ভিকন লাল ঠাকুর শহরের দেওভোগ আখড়া এলাকায় আমাদের উপাস্য দেবতা। লক্ষ্মীনারায়ণের নামে শ্রী শ্রী রাজা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউর বিগ্রহ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। শত শত বছর ধরে এ মন্দিরটি নারায়ণগঞ্জের লাখো হিন্দুধর্মাবলম্বীর জন্য একটি পবিত্রতা ও শুদ্ধতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।’

স্মারকপত্রতে হলা হয়, ‘মেয়রের পরিবারই এ মন্দিরের তথা দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছে। ইতিপূর্বে এ পুকুর ভরাটেরও চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু নারায়ণগঞ্জের আপামর মানুষের বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি। উপায়ান্তর না পেয়ে মন্দিরের পক্ষে আদালতে মামলা করা হলেও বাদীসহ সংশ্লিষ্টদের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী নিজে ডেকে নিয়ে এবং লোক মারফত ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছেন।’

আরও বলা হয়, ‘দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষার জন্য আইনের দ্বারস্থ হয়েও আজ আমরা অসহায়, নিরাপত্তাহীন। এ দেবোত্তর সম্পত্তিটির বর্তমান মূল্য ১০০ কোটি টাকার ওপরে হলেও একে ঘিরে লাখ লাখ সনাতন ধর্মাবলম্বীর অনুভূতির কোনো মূল্য নির্ধারণ করা যাবে না।’

আরও পড়ুন: নতুন করে করোনা আতঙ্কে দিল্লি, ২৪ ঘন্টায় রেকর্ড হারে বাড়ল সংক্রমণ, একদিনে মৃত্যু ১০৪ জনের

স্মারকপত্রতে স্বাক্ষর করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন, মহানগরের সভাপতি অরুণ কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার সাহা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কমান্ডার গোপীনাথ দাস, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দাস, মহানগরের সভাপতি লিটন চন্দ্র পাল ও সাধারণ সম্পাদক নিমাই দে।

Related Articles

Back to top button
Close