fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

সরকারি সিদ্ধান্তে সুরাহা তো দূরঅস্ত, উলটে বাড়ি ফিরতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে যাত্রীদের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  রাজ্যের বেসরকারি বাস মালিকদের সংগঠনেরা শর্ত দিয়েছিল, বাড়াতে হবে বাসের ভাড়া। নাহলে রাজ্যে চাকা গড়াবে না ৪৫ হাজার বেসরকারি বাসের। রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়েছিলেন  এক পয়সাও বাস ভাড়া বাড়াবে না রাজ্য সরকার। তাতে চালাতে হলে বাস চালাবে না হলে বাস চালাবেন না বাস মালিকেরা। সেই সঙ্গে রাজ্যবাসীকে আশ্বাস দিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, সময় একটু বেশি লাগলেও ধীরে ধীরে রাজ্যের সব রুটেই নামবে সরকারি বাস। প্রয়োজন পড়লে সরকারি বাস দিয়েই সব রুট মেকআপ করা হবে। তিনি এটাও জানিয়েছিলেন কলকাতার পথে বেশি করে সরকারি বাস নামবে। এই সিদ্ধান্তের পরই লকডাউনের বাজারের রাস্তায় বেরিয়ে চম ভোগান্তির সম্মুখীন সাধারণ মানুষ।

সোমবারের পর মঙ্গলবারও ছবির খুব একটা বদল ঘটেনি। শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ ছবিটা একই, শ্যামবাজার হোক, গড়িয়াহাট, উল্টোডাঙ্গা হোক, গড়িয়া। সরকারি বাসের জন্য হা-পিত্যেশ করে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা চূড়ান্ত নাকাল হলেন। বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, শুধু সরকারি বাস পরিষেবায় নাজেহাল সাধারণ যাত্রীরা। অফিস টাইমে বাস,ট্রেনে বাদুড়ঝোলা ভিড়। কলকাতা শহরের চেনা ছবি। কিন্তু লকডাউনে শুধুমাত্র সরকারি বাসই চলছে। তাও ২০ জন যাত্রী নিয়ে। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শেষ অংশের যাত্রীরা বাসে উঠতে উঠতেই বেশ কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে যাচ্ছে। স্বভাবতই নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন না অনেক যাত্রীই।  হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এক অফিস যাত্রীর বলেন, সকাল সাতটার মধ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন কিন্তু নয়টা বাজতে যায় লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, ২০জনের বেশি নিচ্ছে না। আবার অন্য এক যাত্রীর কাছ থেকে জানা গিয়ে রাতে বাড়ি ফিরতে কাল-ঘাম ছুটেগিয়েছে। সরকারি বাসে নির্ধারিত কুড়ি জন যাত্রীর উঠে পড়ায় মাঝপথে কোনও বাসই আর দাঁড়াচ্ছে না। ফলে চরম হয়রানির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। যাত্রীদের এই সমস্যার সুযোগ নিয়ে ট্যাক্সিও খেয়াল খুশি মতো ভাড়া দাবি করছে”। এত যাত্রী সামাল দিতে যথেষ্ট নয় সরকারি বাস। তাই বিকল্প চাইছেন যাত্রীরা।

আরও পড়ুন: আম্ফান মোকাবিলায় রাজ্যবাসীর পাশে এবিভিপি

দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে সরকারি বাসের সংখ্যা অনেকটাই কম। জনসংখ্যার তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ অনেকটা উপরে, সেখানে সরকারি বাসের সংখ্যার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ একেবারে নিচের দিকে। তামিলনাড়ুর জনসংখ্যা ৭.২১ কোটি, সরকারি বাসের সংখ্যা ৪১,৬৭৮, কর্ণাটক ৬.১১ কোটি ২৪,১৩৮, মহারাষ্ট্র ১১.২৩ কোটি ১৮,৪৪৯, উত্তরপ্রদেশ ১৯.৯৮ কোটি ১২,৪২৯, অন্ধ্রপ্রদেশ ৪.৯৭ কোটি ১১,০০০ তেলেঙ্গনা ৩.৫২ কোটি ১০,৪৭৯, গুজরাট ৬.০৪ কোটি ৭,৪৬৭ কেরালা ৩.৩৪ কোটি ৬,৭৪১, দিল্লি ১.৬৩ কোটি ৬,২০০। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা – ৯.১৩ কোটি আর সরকারি বাসের সংখ্যা মাত্র ২,৮০৩। স্বাভাবিকভাবেই শুধুমাত্র সরকারি বাস চালিয়ে এত যাত্রী সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। এদিকে কম যাত্রী নিয়ে বাস চালালে লোকসানের আশঙ্কা। তাই ভাড়া বাড়িয়ে তবেই রাস্তায় নামতে চায় বেসরকারি বাস সংগঠনগুলি। হয়রানি এড়াতে যাত্রীরা অবশ্য বাড়তি ভাড়া গুণতে রাজি। কিন্তু একলাফে এতটা ভাড়া দেওয়া কি সম্ভব! তাই যাত্রীরা চাইছেন, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করে রাস্তায় নামুক বেসরকারি বাস।

Related Articles

Back to top button
Close