fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের দাবিতে স্পিকারের না! ক্ষুব্দ বিজেপি বিধায়ক দুলাল

রক্তিম দাশ, কলকাতা: বিধানসভায় ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের দাবিকে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ে নাকচ করে দিয়েছেন বলে ক্ষুব্দ বাগদার বিজেপি বিধায়ক দুলাল বর। তাঁর অভিযোগ, এই দাবিকে নাকচ করে দেশভাগের বলি এপারে চলে আসা মানুষের স্বীকৃতির পাশাপাশি একটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে অস্বীকার করা হল।

 

 

এদিন দুলার বর বলেন, ‘আমি বুধবার সকালে বিধানসভার মাননীয় স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইমেল আইডি না থাকার কারণে আমার প্যাডে ওয়াটসআপে একটি চিঠি পাঠায়। এই চিঠিতে আমি আবেদন করি, ১৯৪৭ সালে ২০ জুন বঙ্গিয় বিধানসভা ভেঙে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা গঠিত হয়েছিল। এই দিনটি পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস এবং জন্মদিন। দিনটি যথাযোগ্য মর্যদায় বিধানসভা কক্ষে পালন করা হোক।’

 

 

দুলালবাবু আরও বলেন, ‘কিছুক্ষণ পরে মাননীয় স্পীকার মহোদয়কে আমি ফোন করি ওঁনার ইমেল আইডি নেওয়ার জন্য। সেই সময় ওঁনি আমাকে বলেন, আপনার চিঠি পেয়েছে। নতুন করে এখন দিবস পালন করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার একজন বিধায়ক হিসাবে আমি ব্যাথিত ও ক্ষুব্দ। ওই দিনটিতে আমার মতো দেশভাগের স্বীকার মানুষদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল তৈরি করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ওই দিনটিতে পশ্চিমবঙ্গের সব অমুসলিম বিধায়করা দলমত নির্বিশেষে ভোট দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ তৈরি করেছিলেন যার সাক্ষি আমাদের বিধানসভার অধিবেশন কক্ষ। দিনটি পালন করা শুরু হলে তৎকালিন সব বিধায়ক যাঁরা সেদিন ভূমিকা রেখেছিলেন তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা যেত।’

 

 

বিষয়টি নিয়ে বিধায়ক দুলাল বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিজেপির উদ্বাস্তু সেলে আহ্বায়ক মোহিত রায় বলেন,‘ দিনটি একটি ঐতিহাসিক দিন। দেশের অনেকের রাজ্যের প্রতিষ্ঠা দিবস আছে। পশ্চিমবঙ্গেরও আছে যা আজকের প্রজন্ম সহ অনেইে জানেন না। সেদিন ৫৮ জন অমুসলিম বিধায়ক পশ্চিমবঙ্গের সমর্থনে ভোট দিয়েছিলেন যাঁর মধ্যে কংগ্রেস ছাড়াও কমিউনিস্ট পার্টির জ্যোতি বসু ও রতনলাল ব্রাক্ষ্মণ ছিলেন তাঁদের যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরণ করা প্রয়োজন। দিনটিকে স্মরণ করে বিধানসভা একটি স্মারকও নির্মাণ করা হোক।’

 

বিশিষ্ট সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত বলেন, ‘দিনটিকে অবশ্যই স্মরণ করা হোক রাজ্য বিধানভায়। এটি পশ্চিমবঙ্গের সব মানুষের আশা-আকাংখার দিন। রাজনীতির উর্ধে উঠে উচিত সর্বদলিয় প্রস্তাব আনা হোক বিধানসভায় দিনটি পালনের জন্য। সেদিন যদি জিন্নার কবল থেকে শ্যামপ্রসাদ পশ্চিমবঙ্গকে ছিনিয়ে না আনতেন আজ তাহলে বাঙালি হিন্দুদের কোনও অস্তিত্ব থাকতো না। আমার দাবি বিজেপি সরকারের আসলে যেন দিনটি সরকারিভাবে পালন করা হয়।’

Related Articles

Back to top button
Close