fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দের জেরে গ্রাম পঞ্চায়েতের অচলাবস্থা, আন্দোলনে স্থানীয়রা 

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা: তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দের জেরে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অফিসে আসেননি। ফলে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আর সেই কারণে এবার আন্দোলনে নামল তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যদের ও স্থানীয় কর্মী সমর্থকরা। সোমবার ঝাড়ু হাতে এলাকার মহিলাদের প্রধানের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে ঘিরে ব্যপক আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যরা অবিলম্বে গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিষেবা স্বাভাবিক করার দাবিতে সড়ক হলে ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ে।

এদিন মহিলারাও ঝাড়ু হাতে আন্দোলনে সামিল হলে অন্য মাত্রা পায়। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যালয় না আসায় স্থানীয় এলাকার বাসিন্দারা করোনা ভাইরাসের কঠিন সময়কালেও নূন্যতম পরিষেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ। তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের ফলে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে গ্রাম পঞ্চায়েতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ। বিধায়ক উদয়ন গুহ অনুগামী বলে পরিচিত গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পাপিয়া রায় বর্মন। অন্যদিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতা জেলা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য ধরণী কান্ত বর্মন এর ঘনিষ্ঠ উপপ্রধান সহ অন্যান্য পঞ্চায়েত সদস্যরা। এই দুইয়ের ক্ষমতা দখলের লড়াই কে ঘিরে বিগত এক বছর ধরে এই টানাপোড়েন চলছে বলে অভিযোগ।

বিধায়ক উদয়ন গুহ অবশ্য বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখানোর ফলেই তিনি কার্যালয়ে আসতে পারেন না। অপরদিকে তরুণী বর্মন অবশ্য বলেন এদিন যারা আন্দোলন করেছে তারা স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা। এই ঘটনার সাথে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। বিধায়ক উদয়ন গুহ অবশ্য বলেন, তার কোন গোষ্ঠী নেই। তৃণমূলের থেকে তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে যারা তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদের বিরুদ্ধে তার লড়াই। তাছাড়াও গত এক বছর ধরে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কে নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখানোর জন্য তিনি গ্রাম পঞ্চায়েতে যেতে না পারার বিষয়টিও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান শতাধিক কর্মী সমর্থকের 

এদিকে দলের অপর গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এই অচলাবস্থা দূরীকরণে প্রধান কে অপসারণের দাবিতে এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকার মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিতে সোমবার স্থানীয় এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা আন্দোলনে নামলে ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ে। দিনহাটা দুই ব্লকের নাজিরহাট দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের শালমারা এলাকায় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পাপিয়া রায় বর্মন কে অপসারণের দাবিতে সরব হন গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নবীর উদ্দিন মিয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য সদস্যরা। সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় এলাকার মহিলারাও এদিন ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নেমে গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিষেবা স্বাভাবিক করার দাবিতে সরব হলে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ে।

নাজিরহাট ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নবীর উদ্দিন মিয়া বলেন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রধান পাপিয়া রায় বর্মন অফিসে না আসার ফলে গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সব রকমের পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। কঠিন এই সময়কালেও গ্রামের মানুষকে এমনকি যারা পরিযায়ী শ্রমিক গ্রামে ফিরে এসেছেন তাদের কেউ ন্যূনতম পরিষেবা দেওয়া যাচ্ছে না। গ্রামের মানুষ নানা কাজে গ্রাম পঞ্চায়েতে উপর নির্ভর করে থাকে। অথচ কাজ করতে এসে মানুষ ফিরে যায় প্রতিদিন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে। এ নিয়ে তিনি কয়েকবার প্রধানকে গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় নিয়ে এলেও তারপর সেই একই অবস্থা । উপপ্রধান বলেন গ্রামের মানুষ পরিষেবা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে। এদিন তারাই পরিষেবা স্বাভাবিক করতে পঞ্চায়েত সদস্যদের নিয়ে আন্দোলনে নামেন। বিষয়টি নিয়ে দিনহাটা দুই ব্লকের বিডিও জয়ন্ত দত্ত বলেন নাজিরহাট দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কে নিয়ে যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close