fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খকলকাতাহেডলাইন

বাংলাদেশের ঘটনার পর অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক রাজ্য গোয়েন্দা প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে হিংসার আবহ। গত বুধবার অষ্টমীতে ভাঙচুর করা হয়েছে দুর্গা মণ্ডপ। আক্রান্ত হয়েছে একাধিক হিন্দু মন্দির, হামলা হয়েছে একাধিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উপর। আর সেই আঁচ যাতে পার্শ্ববর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে না পড়ে তার জন্য তৎপর রাজ্য প্রশাসন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।

রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের এক বার্তায় জানানো হয়েছে, “পরিস্থিতির উপর নজর রাখুন। সমস্ত অফিসার ও বাহিনীকে সক্রিয় থাকতে বলুন, যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।”  বাংলাদেশ সংবাদ মাধ্যমে এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমে প্ররোচনামূলক কিছু মেসেজ ছড়িয়ে পড়েছে। সেগুলি বাংলায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিতেই বাড়তি সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের এডিজি (ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ) পুলিশ কর্তাদের পাশাপাশি ডিজি (রেল)কেও চিঠি দিয়ে এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও নোয়াখালি জেলায় কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। তার পরিপ্রক্ষিতে সামাজিক মাধ্যম ভরে গিয়েছে বিভিন্ন মেসেজে। এর ফলে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলি অতি স্পর্শকাতর হয়ে রয়েছে। প্রশাসনের কাছে তথ্য রয়েছে, এই ঘটনার পর থেকেই বেশ কয়েকটি কট্টর গোষ্ঠী সংবাদমাধ্যমে তাদের উত্তেজনামূলক বক্তব্য পেশ করেছে।

অন্যদিকে, কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আবেদন জানানো হয়েছে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।  রাজ্যে দুর্গাপুজোর বিসর্জন চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। অন্যদিকে ১৮ ও ১৯ অক্টোবর রাজ্যে ফতেহ দোহাজ দাহাম (নবি দিবস) পালিত হবে। এই অবস্থায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা কোথাও না ঘটে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে বলে সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন এডিজি (আইবি)।

বাংলাদেশ লাগোয়া জেলাগুলির পুলিশ সুপারদের বিষয়টির উপর নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রথম থেকেই সতর্ক রয়েছে পুলিশ। গোয়েন্দারাও প্রতিটি ক্ষেত্রে নজর রাখছেন বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

রাজ্যের পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার, এসবি’র অতিরিক্ত সিপি, রাজ্যের সমস্ত পুলিশ সুপার, সব রেঞ্জের ডিআইজি ও আইজিপি, উত্তরবঙ্গের আইজি (আইবি), আঞ্চলিক আইজি, এডিজি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা), রেলের ডিজিপি-কে এডিজি (আইবি)-র তরফে এই সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এমনিতেই পুজোর সময় নাশকতার শঙ্কা থাকায় একগুচ্ছ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও উস্কানি বা প্ররোচনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে যাতে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজর রেখেছে নবান্ন।

Related Articles

Back to top button
Close