fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণশিক্ষা-কর্মজীবনহেডলাইন

রাজ্যে এখনই নয় নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি: পার্থ

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: রাজ্যে এখনই চালু হচ্ছে না নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি। সোমবার কেন্দ্রের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের শেষে সাংবাদিক বৈঠকে একথা স্পষ্ট করে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। করোনা পরিস্থিতিকে সামনে রেখে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা পিছিয়ে দিল পশ্চিমবঙ্গ। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয় এর আগে জাতীয় শিক্ষানীতির বিরোধিতা করে তামিলনাড়ু সরকারও স্পষ্ট জানিয়েছিল, নতুন শিক্ষানীতি তাদের রাজ্যে চালু করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে নতুন শিক্ষানীতিতে ধ্রুপদী ভাষার তালিকায় বাংলা না থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পার্থ।

এদিন নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি এন ই পি ২০২০ কীভাবে তা প্রণয়ন হবে, তার পরামর্শ করতেই এদিন সমস্ত রাজ্যের রাজ্যপাল, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক ডাকেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যোগ দিয়ে নিজের বক্তব্য রাখেন। তিনি শিক্ষাব্যবস্থায় ন্যূনতম সরকারি হস্তক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করেন।
কিন্তু নতুন শিক্ষানীতিতে যে পদ্ধতিতে পড়াশোনার কথা বলা হয়েছে, তার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে আর্থিক সংস্থান কী? কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে কার কতটা অংশীদারিত্ব থাকবে? এসব কোনও প্রশ্নের জবাবই মিলল না সোমবারের বৈঠকে। তাই জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে রাষ্ট্রপতির ডাকা ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এরপরই সংবাদমাধ্যমকে পার্থবাবু বলেন, ‘এখনই এ রাজ্যে নতুন শিক্ষানীতি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।’

এরপর একে একে অন্যান্যরা বিভিন্ন রাজ্য থেকে নিজেদের মতামত পেশ করা হয়। বৈঠকে সবার শেষে বক্তব্য রাখার সুযোগ পান পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মিনিট তিনেকের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য তিনি মূলত কয়েকটি প্রশ্ন তুলে ধরেন। জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে রাজ্যের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করে তিনি জানতে চান, নয়া পরিকাঠামো গড়ে তুলতে অর্থ কোথা থেকে আসবে? সেখানে রাজ্যের কতটা দায়িত্ব? কেন্দ্রের তরফেই বা কতটা আর্থিক সহযোগিতা মিলবে? নতুন শিক্ষানীতিতে ধ্রুপদী ভাষার তালিকায় বাংলা না থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বাংলা যাতে স্থান পায়, তার আবেদন করা হয় এদিন রাজ্যের তরফে।

রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এদিন অভিযোগ করে বলেন, ‘ভারতের মতো বহু ভাষাভাষির দেশে যে নমনীয়তা প্রয়োজন, কেন্দ্র তা দেখাচ্ছে না। শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।বিদেশে যেরকম শিক্ষানীতির চল আছে একই রকম ভাবে ভারতেও এই শিক্ষানীতি শুরু করতে চাইছেন কেন্দ্র সরকার।’ কিন্তু এই নীতি কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

তিনি এর আগে বলেন, ‘এই নীতি কার্যকর হলে যে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে তা রাজ্য গুলির ওপর বর্তাবে। ফলে রাজ্যের কোষাগারে টান পড়বে।’ পাশাপাশি তিনি এও বলেন, এই নীতি কার্যকর করতে হলে রাজ্যের সমস্ত স্কুলকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পরিণত করতে হবে যা কোনও ভাবেই সম্ভব হবে না উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবে। পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তরের স্কুলগুলির ভবিষ্যত প্রশ্ন চিহ্নের মুখোমুখি দাঁড়াবে।

Related Articles

Back to top button
Close