fbpx
কলকাতাহেডলাইন

আদালতের রায়কে নীরবে সম্মতি রাজ্যের

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: পুজো হলেও মন্ডপ থাকবে দর্শকশূন্য। বুধবার এই মর্মে রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবে আদালতের এই রায় কে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্বাগত না জানালেও বিরুদ্ধাচরণ করেননি কেউই। যদিও আদালতের এই রাতে বিষাদের সুর স্পষ্ট। কারণ সমগ্র বাংলার মানুষ দীর্ঘ এক বছর ধরে এই কয়েকটি দিনের অপেক্ষায় থাকে। এই উৎসবকে ঘিরেই সীমাহীন উদ্দীপনা। কিন্তু এবারে কোভিড১৯ আবহে সবটাই মাটি হয়ে গেল। এই রায় শোনার পরেই খানিকটা মুষড়ে পড়েছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘ছোটদের জন্য  খুব খারাপ লাগছে।’ অন্য দিকে আদালতের রায় প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রী তথা তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আগে থেকে আদালতের রায় জানতে পারলে ক্লাবগুলো আরও সতর্ক হতে পারতো।’

এদিন দুর্গাপুজো নিয়ে আদালতের রায় প্রসঙ্গে ফিরহাদ বলেন, পুজো নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো চিন্তাভাবনা নেই। তাদের মণ্ডপে ইতিমধ্যেই ৩০ ফুট দূরত্ব রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা দূর থেকেই ঠাকুর দেখতে পারবেন সেক্ষেত্রে কোন অসুবিধা হবে না। অন্যান্য পুজো কমিটি গুলির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

এদিন ফিরহাদ হাকিম আরো জানান, ‘হাইকোর্টের রায় নিয়ে কিছু বলার নেই। আমরা সাধারন মানুষ। আদালত যা নির্দেশ দেবে তা মেনে নিতে হবে। দুর্গাপুজা মূলত উৎসবে উৎসবে সকলেই শামিল হবে। কিন্তু ছোটদের জন্য একটু খারাপ লাগছে।’ তিনি জানান, ‘এই করোনা আবহে প্রায় সাত-আট মাস ধরে ছোটরা ঘরবন্দি। স্কুল বন্ধ, পার্ক বন্ধ অনলাইনে পড়াশোনা করতে গিয়ে তারাও ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এভাবে তাদের ও মানসিক চাপ পড়ছে। তাই পুজোতে তারা কিছুটা আনন্দ করতে পারতো কিন্তু এবার সেটাও হবে না।’

[আরও পড়ুন-দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন, নির্দেশিকা কলকাতা পুরসভার]

এদিন তৃণমূলের মহাসচিব এর বক্তব্য কিছুটা হলেও বিস্ময় জনক। যেখানে কয়েকদিন আগেও শোনা গিয়েছিল আদালত এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাবে রাজ্য। সেখানে রাজ্যের আরেক মন্ত্রীর গলাতেও অন্য সুর। পার্থ বলেন, ‘আদালতের রায় যাই হোক না কেন আগে যদি হতো আমরা হয়তো পরিকল্পনা আরো করতে পারতাম। তবে এখন সর্বাগ্রে চিন্তা কি করে করোনামুক্ত করা যায়। সেদিকে দৃষ্টি রেখে আমরা অবিরাম কাজ করছি। তবে এলাকার পুজো কমিটি গুলি আগে থেকে অনেকটাই সতর্কতা অবলম্বন করেছে।’

সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘মাথায় রাখতে হবে কোভিডের আক্রমণ থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক, দূরত্ব, স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে আনন্দের দিনে যাতে সচেতনতার অভাব না হয়। রাজ্য সরকার স্বাস্থ্যবিধি বহু আগে থেকে ঘোষণা করেছে। বেহালা পশ্চিমের ক্লাব গুলি সেভাবেই এগোচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, সোমবারের রায়ের আংশিক পরিবর্তন করে আদালত জানায়, বড়পুজোয় মণ্ডপের ভিতরে প্রবেশের জন্য পুজো কমিটির সদস্য ও ঢাকি-সহ ৬০ জনের নামের তালিকা বানানো যাবে। তবে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৪৫ জন থাকতে পারবেন মণ্ডপের ভিতরে। ছোটপুজোর মণ্ডপে ৩০ জনের তালিকা তৈরি করা যাবে। তবে এক সঙ্গে সর্বোচ্চ থাকতে পারবেন ১৫ জন। প্রতিদিন সকাল আটটার মধ্যেই মণ্ডপের সামনে টাঙাতে হবে এই তালিকা। প্রতিদিন তা আপডেটও করতে হবে। বুধবার কিছুটা ছাড় দিয়ে, কার্যত আগের রায়ই বহাল রেখেছেন দুই বিচারপতি।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close