fbpx
অন্যান্যঅফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নিজের দেহকে করোনা টিকা পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করার আবেদন ছাত্রের

মিল্টন পাল, মালদা: করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারের ক্ষেত্রে মানব শরীর ব্যবহার করার জন্য নিজের দেহ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন মালদার এক প্রাক্তন কলেজ ছাত্র। ইতিমধ্যে ওই প্রাক্তন কলেজ পড়ুয়া ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারে অনলাইনের মাধ্যমে নিজের দেহকে করোনা টিকা পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করার জন্য ইচ্ছার কথা জানিয়ে আবেদন করেছেন। ওই প্রাক্তন কলেজ পড়ুয়ার এমন উদ্যোগে শুধু ছাত্র সংগঠনই নয়, মালদার বিভিন্ন মহলে প্রশংসার ঝড় উঠেছে।

বামন গোলা ব্লকের পাকুয়াহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের সালালপুর এলাকার বাসিন্দা দেবাশীষ বাইন (২৮)। সেই স্থানীয় পাকুয়াহাট ডিগ্রী কলেজ থেকে ২০১৩ সালে বি.এ. পাশ করেছেন। বর্তমানে ওই ছাত্র প্রাইভেট টিউশনের সঙ্গে যুক্ত।

ওই কলেজ ছাত্রের বাবা শ্যামলচন্দ্র বাইন, পেশায় পাকুয়াহাট হাইস্কুলের পার্শ্বশিক্ষক। মা খুকু বাইন গৃহবধূ। বাইন দম্পতির দুই ছেলে। দেবাশীষ বাড়ির বড় ছেলে। সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলের দেশ সেবায় নিজের দেহ করোনা পরীক্ষার কাজে প্রয়োগ করার বিষয় অবশ্য কোনরকম বাধা দেননি ওই কলেজ ছাত্রের অভিভাবকেরা।

তাঁরা বলেন, দেশের জন্য আমার ছেলে যদি কোন কাজ করতে পারে, তাহলে আমরা গর্বিত। যদিও কোন বাবা-মা চাইবেন না তার ছেলের এমন উদ্যোগ নিক। তাও আমরা খুশি, ছেলে দেশের জন্য সদর্থক এরকম চিন্তা ভাবনা করেছে।

আরও পড়ুন:জাতিভেদ প্রথার বলি! আত্মঘাতী প্রেমিক প্রেমিকা

বলাবাহুল্য, বিশ্ব জুড়ে করোনা মহামারীর প্রকোপে জেরবার মানুষ। বহু দেশের চিকিৎসা গবেষক থেকে বিজ্ঞানীরা করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য রাত দিন এক করে কাজ করে চলেছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত করোনা প্রতিষেধক আবিষ্কারের ক্ষেত্রে সাফল্য আসে নি। ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের দেহ করোনার পরীক্ষার জন্য টিকা প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে মালদার প্রত্যন্ত গ্রামের ওই প্রাক্তন কলেজ পড়ুয়া উদ্যোগ নেওয়ায় জেলার বিভিন্ন মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

পরিবারের সঙ্গে দেবাশিস বাইন

ওই কলেজ ছাত্র দেবাশীষ বাইন বলেন, প্রথমে তো ভয় লাগছিল। কিন্তু আমি নিজেকে মানুষের সেবায় নিযুক্ত করতে চাই। আমার শরীরে করোনার টিকা পরীক্ষার প্রয়োগ করা হোক। এই ভাবনা চিন্তা করেই এগিয়েছি। অনলাইনের মাধ্যমে দিল্লিতে অবস্থিত ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারে নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়ে আবেদন করেছি। যদিও এখনও পর্যন্ত সেই আবেদনের কোন সবুজসংকেত আমার কাছে আসেনি। ওই সংস্থা চাইলেই আমি নিজের দেহকে করোনা টিকা আবিষ্কারের ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য ব্যবহার করতে দিতে উদ্যোগী। মানুষের জন্য কাজ করতে পারি এটাই আমার স্বপ্ন। দেশের সেবায় যদি আমার শরীর প্রয়োজন হয়, তাহলে নিজেকে গর্বিত মনে করবো। আমার মত এই ভাবেই যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

ওই কলেজ ছাত্রের বাবা শ্যামলচন্দ্র বাইন এবং মা খুকু বাইন বলেন, ছেলের মুখ থেকে এমন কথা শোনার পর প্রথমে আমরা হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম।কোনও বাবা-মা চাই না তার ছেলে এমন ইচ্ছা প্রকাশ করুক। কিন্তু আমার ছেলে দেশের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করতে চেয়েছে। তাই কোন আপত্তি করিনি। যদি দেশের মানুষের জীবন রক্ষার্থে ছেলের এই ইচ্ছাশক্তি কোনও কাজে আসে, তাহলে আমরাই নিজেদের গর্বিত মনে করব।

আরও পড়ুন: যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, চিনের সঙ্গে ৫ হাজার কোটি টাকার চুক্তি বাতিল মহারাষ্ট্র সরকারের

উত্তর মালদার সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, ওই পড়ুয়ার এরকম উদ্যোগকে প্রশংসা জানাচ্ছি। ধন্যবাদ জানাচ্ছি ওই কলেজ পড়ুয়ার অভিভাবকদের। ওই প্রাক্তন কলেজ ছাত্র এমন ইচ্ছা প্রকাশ মালদার যার নাম গর্বিত করেছে।

পাকুয়াহাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপকেরাও ওই প্রাক্তন ছাত্রের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি ওই পাড়া-প্রতিবেশীরাও কুর্নিশ জানিয়েছেন প্রাক্তন কলেজ ছাত্রের এমন সিদ্ধান্তকে।

Related Articles

Back to top button
Close