fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খগুরুত্বপূর্ণদেশ

রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন নয়, কৃষক আন্দোলন নিয়ে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের 

নিজস্ব প্রতিনিধি:  কেন্দ্রীয় সরকারের বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে এক বছর ধরে চলছে কৃষক আন্দোলন। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল রাস্তা আটকে আন্দোলন করা চলবে না। যদিও সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে রাস্তা আটকে আন্দোলন করা হচ্ছে না। যদিও আদালতের পর্যবেক্ষণ রাস্তা আটকে আন্দোলনের প্রশ্নই উঠছে না।

দিল্লি-পঞ্জাব সীমানায় কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ আদালত জানায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ-আন্দোলন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তবে দীর্ঘ দিন ধরে রাস্তা আটকে তা চলতে পারে না। তবে সর্বোচ্চ আদালত আন্দোলন বন্ধ করার কথা বলেনি। এদিনের শুনানিতে সরকার পক্ষ এবং কৃষক পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে  বাদানুবাদ চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

কৃষক পক্ষের আইনজীবী দুষ্যন্ত দাভে ও প্রশান্ত ভূষণ আদালতে জানান, কৃষক আন্দোলনের বিরুদ্ধে জনমত গড়তে পরিকল্পনা করে রাস্তা আটকে রেখেছে পুলিশ। তাঁদের দাবি, নয়া কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য দিল্লির রামলীলা ময়দান ও যন্তর মন্তর ছেড়ে দেওয়া হোক কৃষকদের জন্য। কৃষক পক্ষের এই দাবির বিরোধিতা করে চলতি বছরের গত জানুয়ারি মাসে ঘটে যাওয়া লালকেল্লার ঘটনা মনে করিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তথা এই মামলায় হরিয়ানা সরকারের আইনজীবী তুষার মেহেতা।

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি এস কে কলের ভিভিশন বেঞ্চ জানায়, ‘‘রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে যাতায়াতে যে সমস্যা হচ্ছে, তা স্বীকার করতেই হবে।’

গত বছর দিল্লিতে শাহিনবাগ আন্দোলনের সময় সু্প্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, রাস্তা আটকে অন্যের চলাফেরায় সমস্যা তৈরি করে দীর্ঘ দিন বিক্ষোভ দেখানো যেতে পারে না। এ দিনও শীর্ষ আদালতের ওই পর্যবেক্ষণ মনে করিয়ে দিয়ে বিচারপতি কল বলেন, ‘‘এ বিষয়ে আইন তৈরিই আছে। একই ব্যাপারে বার বার আইন তৈরির প্রয়োজন নেই। রাস্তা আটকে রাখা যাবে না। এর সমাধান খুঁজতেই হবে।’ এই মামলায় পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ ডিসেম্বর।

উল্লেখ্য, কৃষক আন্দোলনের জেরে রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, এই অভিযোগ তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নয়ডার বাসিন্দা মণিকা আগরওয়াল। সেই মামলার শুনানি চলাকালীন সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার কাছে জবাব তলব করে সর্বোচ্চ আদালত। সেখানে মোর্চা জানায় রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পুলিশের। পুলিশ সেটা ঠিকঠাক করতে না পারলে কৃষকদের রামলীলা ময়দান কিংবা যন্তর-মন্তরের কাছে আন্দোলন করতে দেওয়া হোক। কৃষকদের সাফ কথা, তাঁরা রাস্তা আটকে রেখে আন্দোলন করছেন না। তাঁদের কথায় অর্থাৎ এটা স্পষ্ট আন্দোলন চলতেই থাকবে। তাই এদিন সর্বোচ্চ আদালতের এমন পর্যবেক্ষণের পর আগামীদিনে কৃষক আন্দোলন কোন দিকে বাঁক নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Related Articles

Back to top button
Close