fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চারেরবাড়ি হাট বন্ধ করল মন্দির কমিটি

বাপ্পা রায়, ময়নাগুড়ি: চারেরবাড়ি বাজারের হরি মন্দির প্রাঙ্গনের সাপ্তাহিক হাট বন্ধ করলো মন্দির কমিটি। ময়নাগুড়ি ব্লকের আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের চরেরবাড়ি বাজারে অস্থায়ী সব্জি হাট বসে হরি মন্দির চত্বরে। সেই সাপ্তাহিক হাট বন্ধ করে দিলেন বৃহস্পতিবার। ব্যবসায়ী সমিতির সাথে বৈঠক না করা পর্যন্ত হাট বন্ধ থাকবে বলে স্পষ্ট জানায় মন্দির কমিটি। ময়নাগুড়ি ব্লকের আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের চারেরবাড়ি বাজার অনেক পুরোনো একটি বাজার।

 

 

এখানে সোমবার এবং বৃহস্পতিবার হয় সাপ্তাহিক হাট। এবার সেই হাটকেই বন্ধ করলেন হরি মন্দির কমিটি এবং হাট কমিটি। মন্দির কমিটির অভিযোগ, ঝড়ে অনেক গাছ পড়েছে বাজারে। সেই গাছ কেটে বিক্রি করেছে ব্যবসায়ী সমিতির বেশ কিছু ব্যবসায়ী। চারেরবাড়ি বাজারে যৌথ কমিটির সিদ্ধান্তে কাজ হয়। সেক্ষেত্রে হাট কমিটি এবং মন্দির কমিটিকে না জানিয়ে তারা চুপি চুপি গাছ বিক্রি করেছে। তারা আরো অভিযোগ করেন প্রতি বছর হাটের ডাক হয়। সেখান থেকে যে টাকা হয় তা ভাগ হয়। সেখানে বাজারের আবর্জনা এবং হাটের উন্নয়নের কাজে লাগানো হয়। কিন্তু মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে এবছর হাট ডাক দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হলে ব্যবসায়ী সমিতি মাইক যোগে ছয় মাস খাজনা মুকুব করার কথা ঘোষণা করেন।

 

 

 

চারেরবাড়ি হরিমন্দির কমিটির সদস্য অনিল রায় বলেন, “চারেরবাড়ি বাজার ব্যবসায়ী সমিতি মন্দির কমিটির সাথে কথা না বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাজনা মুকুব করার। আমরা হাট ডাকের কথা ঢোল পিটিয়ে জানালেও তারা সেদিন রাতেই মাইকে ছয় মাস খাজনা মুকুবের কথা বলেন। তারা যদি ঐ সিদ্ধান্ত নেবেন তবে মন্দির এবং হাট কমিটিকে জানালো না কেনো? তাই আমরা আজকে আমাদের মন্দিরের জায়গায় যে অস্থায়ী হাট বসতো তা বন্ধ করে দিয়েছি। যতদিন তারা আমাদের সাথে বৈঠকে বসবে না ততদিন হাট বন্ধ থাকবে।” চারেরবাড়ি হাট কমিটির সম্পাদক তপন রায় বলেন, “আমরা এর আগেও বৈঠক করার জন্য ডেকেছি কিন্তূ তারা আসেন নি। আবারো আমরা প্রস্তাব দিয়েছি । আলোচনা করে মিটিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা ব্যবসায়ী সমিতিকে বলেছি।

 

 

অন্যদিকে চারেরবাড়ি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি প্রতাপ কুমার বিশ্বাস বলেন, “আজকে চারেরবাড়ি হরি মন্দিরের সামনে যে হাট বসতো সেটা বন্ধ করে দেয়। তাই আমরা তাদের এই রাস্তায় বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমরা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হাটের খাজনা মুকুব করেছি লকডাউনের জন্য। এখন যদি উভয় কমিটি বৈঠক করে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় তো বৈঠক হবে।” বেতগারা চারেরবাড়ি এন এন হাই স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি মেঘলাল সরকার বলেন, ” আমি সকালে বাজারে এসে দেখি অস্থায়ী বাজার যেটা মন্দির এর ওখানে হতো সেটা বন্ধ করে দিয়েছে। এখন স্কুলে ঢোকার রাস্তায় সমস্ত সব্জি বিক্রেতারা বসেছে। আমরা চাই যে সমস্যা রয়েছে তা মিটিয়ে নেওয়া হোক আলোচনার মাধ্যমে।” এই বিষয়ে আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বলেন,” উভয় পক্ষের তরফে একটা বৈঠক ডাকা হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছি।”

Related Articles

Back to top button
Close