fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ধর্মরাজের মেলা মহামারীর দাপটে বন্ধের মুখে, বিষাদের সুর শতায়ু রাধারানী দেবীর গলায়

বাবলু ব্যানার্জি , কোলাঘাট:  ম্যালেরিয়া ,কলেরা ,গুটিবসন্ত ,৪৯ সালের বিধ্বংসী ঝড় ,৭১ সালের খাদ্যসংকটে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু ,৭৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর সর্বশেষ করোনার সাক্ষী কোলাঘাট ব্লকের খন্যাডিহি অঞ্চলের ১০৭বছরের বৃদ্ধা রাধারানী রায়। বয়সটা আধার কার্ড অনুযায়ী ১০৭ বছর হলেও পরিবারের লোকজনদের কথা অনুযায়ী আরও কয়েক বছর বাড়তে পারে। শতায়ু পেরিয়ে গেলেও মনের ইচ্ছা শক্তিতেই এখনো বৌমা নাতি নাতনিদের সঙ্গে সাতসকালে উঠে ঘরের উঠোনে  ঝাট দিতেও দেখা  যাচ্ছে। মাত্র ৭ বছর বয়সে স্বামী দাশরথি রায়ের হাত ধরে সংসারে আশা। বাড়ি পাশের গ্রামের রামচন্দ্রপুর গ্রামে হলেও রাধামনির কাছে  খামারচক  গ্রামে এক  নিঃসন্তান পরিবারে থাকতেন। সেখান থেকেই  বিয়ের পিঁড়িতে বসা ,তারপর পরিণত বয়সে  সংসার। ছেলে অনিল ,বিশ্বনাথ  মেয়ে আশা ,দিপালী ,রেবা।

এদের প্রত্যেকের বয়স প্রায় আশির  দোরগোড়ায়।  প্রত্যেক মেয়েই স্বামীহারা। ৫০এর দোরগোড়ায় স্বামী মারা যাওয়ার পর এক কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবন কাটতে থাকে কোলাঘাট ব্লকের কুলিয়া গ্রামের রাধারানী দেবীর। এই গ্রামেই অতীত ঐতিহ্য ৩০০ থেকে ৪০০ বছরের  ধর্মরাজের পুজো হয়। কেবল পূর্ব মেদিনীপুর নয় দূরদূরান্ত থেকে যাত্রীরা এসে ভিড় জমায়।  পূজা উপলক্ষে চলে প্রায় এক মাস ধরে মেলা। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিষাদের সুর লক্ষ্য করা গেল   শতায়ু অতিক্রান্ত রাধারানী দেবীর গলায়। আদো আদো  কথায় বললেন জানিনা অতীত ঐতিহ্যকে এবারে ধরে রাখতে পারবে কিনা আমার পরিবার।  করোনা নামক ভাইরাস থাবা বসানোর জন্য মেলাও পুজো হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে কিছুটা সময় এখনও আছে পয়লা ভাদ্র হতে, এর মধ্যে কোন কিছু করা যায় কিনা সেটাও দেখছে বাড়ির  ছেলেরা।

আরও পড়ুন: বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে করোনাবিধি মেনেই পালিত হবে দুর্গাপুজো, নির্দেশ শিবরাজ সিং চৌহানের

পরিবারের বড় ছেলে  অনিল রায়ের কথা হচ্ছিল তিনি বললেন বাবা মারা যাওয়ার পর  মা আমাদের  বাবার শূন্যস্থান পূরণ করেছে।  এতদিন ধরে এই পরিবারের  অতীত ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা করে গেছে এবারেও যাতে হয় সেই চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি। তবে বর্তমান সরকার ১০০০ টাকা বৃদ্ধ ভাতা দিচ্ছে। মাকে নিয়ে যাওয়া আসা খুবই সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে এই লকডাউন থাকায়। তারপর ঘণ্টার পর  ঘন্টা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ব্যাংকের দোরগোড়ায়। মন্দিরের দোরগোড়ায় বসে থাকা রাধা দেবীকে  জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল করোনা নামক ভাইরাস নিয়ে। সাদা সাপটা উত্তরে তিনি বললেন জীবনে বেশ কয়েকটি মহামারী অতিক্রান্ত হয়ে এসেছি,এখন যে ভাইরাসের কথা শুনছি তা নাকি সমস্ত মহামারীকে ছাড়িয়ে যাবে।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close