fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

করোনা রুখতে আয়ুর্বেদে আস্থা আয়ুষ মন্ত্রকের, আইসোলেশনে থাকা রোগির ওপর হবে প্রয়োগ

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: আমেরিকা, ইউরোপের তুলনায় দক্ষিণ এশীয় দেশগুলিতে আয়ুর্বেদের কারণেই করোনা সংক্রমণের প্রকোপ কম, এমন দাবি আগেই করেছিলেন একাধিক আয়ুর্বেদ চিকিৎসক। এবার শুধু ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য নয়, করোনায় চিকিৎসার জন্য সবুজ সংকেত দিল কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক। এ রাজ্যের আইসোলেশনে থাকা

করোনা সংক্রামিত রোগিদের ওপরও আয়ুর্বেদ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী ২২ এপ্রিল জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের সময়েই এই সংক্রমণ প্রতিরোধে আয়ুর্বেদের উপকারিতা উল্লেখ করেছিলেন। করোনা প্রতিরোধে বিশ্বে এখনও নির্দিষ্ট কোনও ভ্যাকসিন নেই কখনও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনিন, কখনও অ্যাজিথ্রোমাইসিন আবার কখনও এইচআইভি বা ম্যালেরিয়ার ওষুধ বা প্লাজমা থেরাপি রোগীদের সুস্থ করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে এবং করোনা চিকিৎসায় গুজরাট, হরিয়ানা, জম্মু-কাশ্মীর, কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, রাজস্থান ইতিমধ্যেই করোনা প্রতিরোধে আয়ুর্বেদ পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু করেছে। গোয়া চিকিৎসায় আয়ুর্বেদ নির্দেশিকা জারি করে উল্লেখযোগ্য ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ রাজ্যে করোনা চিকিৎসায় উপেক্ষিত ছিল আয়ুর্বেদ।
আয়ুষ মন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, চিকিৎসকরা চাইলে এখন আইসোলেশনে থাকা করোনা পজিটিভ রোগির চিকিৎসা করতে পারবেন। উপসর্গ থাকলে বা না থাকলেও সমস্যা হবে না।

১৯৪০ সালের ‘ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক্স আইন অনুযায়ী আয়ুষকে কার্যকর করা হবে। তবে যেসব সংস্থা আর্য়ুবেদ, ইউনানি বা হোমিওপ্যাথি মতে চিকিৎসা ও গবেষণা করবে, তাদের বেশ কিছু নিয়মও মানতে হবে বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, আয়ুষ মতেই চিকিৎসা করতে হবে। আইসিএমআর প্রকাশিত ন্যাশন্যাল এথিক্যাল গাইডলাইন এবং হেলথ গাইডলাইন মেনে চিকিৎসা করতে হবে। অতি সংকটজনক রোগীর ক্ষেত্রে আয়ুষ প্রয়োগ করা যাবে না।

ভারত সরকারের আয়ুষ মন্ত্রকের পক্ষে জানানো হয়েছে, কোভিড-১৯ ভাইরাস মূলত শ্বাসনালীকে আক্রমণ করে। ভারতীয় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের হাতে এমন অনেক অস্ত্র আছে যার সাহায্যে শ্বাসনালী ও ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে সুরক্ষিত রাখা যায়। করোনার প্রকোপে অসুস্থ হয়ে পড়লে আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে কয়েকটি ওষুধের সাহায্য নিয়ে রোগের বাড়বাড়ন্ত থামিয়ে দেওয়া সম্ভব। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, প্রথম দিকে করোনা হাসপাতালগুলির আইসোলেশন ওয়ার্ডে বেছে বেছে রোগিদের আয়ুর্বেদ প্রয়োগে সুস্থ করে তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট বা সাধারণ মানুষকেও সুস্থ থাকতে আয়ুর্বেদের পথ অনুসরণ করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দেশের সর্ববৃহৎ আয়ুর্বেদ চিকিৎসক সংগঠন ন্যাশনাল আয়ুর্বেদ স্টুডেন্টস অ্যান্ড ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন (নস্য) এর পূর্ব ও উত্তর পূর্ব ভারতের কো-অর্ডিনেটর ডাঃ সুমিত সুর ও ডাঃ বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ”দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ইতিমধ্যেই করোনা প্রতিরোধে ও চিকিৎসায় আয়ুর্বেদ নির্দেশনামা জারি হয়েছে। ভালো ফলও হাতে নাতে পাওয়া যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতরের অনুমতি প্রদানও সাধুবাদ যোগ্য। আয়ুর্বেদের সাহায্যেই বাংলাও করোনার অভিশপ্ত গ্রাস থেকে রক্ষা পাবে।”

Related Articles

Back to top button
Close