fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে গতি আনতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার

নয়াদিল্লি(সংবাদ সংস্থা):করোনার মহামারীর সময়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে গতি আনতে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।  এই সিদ্ধান্তগুলি গ্রহণের ফলে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে উন্নয়নে গতি আসবে বলে আশাবাদি কেন্দ্র।

১) প্রাণীসম্পদ পরিকাঠামো উন্নয়ন তহবিল গঠন:

বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি সুনিশ্চিত করার জন্য সদ্য ঘোষিত আত্মনির্ভর ভারত অভিযান সংক্রান্ত উৎসাহ বর্ধক প্যাকেজের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পৌরোহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে ১,৫০০ কোটি টাকার প্রাণীসম্পদ পরিকাঠামো উন্নয়ন তহবিল গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। ডেয়ারি পরিকাঠামো ক্ষেত্রের উন্নয়নে ডেয়ারি সমবায় সমিতিগুলির মাধ্যমে সরকার বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়ার জন্য একাধিক কর্মসূচি রূপায়ণ করছে।

অবশ্য, সরকার এ বিষয়টিও উপলব্ধি করেছে যে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্র এবং বেসরকারি সংস্থাগুলির জন্য মূল্য সংযুক্তিকরণ পরিকাঠামোয় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আরও বেশি উৎসাহদানের প্রয়োজন রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে প্রাণীসম্পদ পরিকাঠামো উন্নয়ন তহবিল সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আকর্ষণে উৎসাহিত করার একাধিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে। এই তহবিলের সুফলভোগীরা হবে কৃষক উৎপাদক সংগঠন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্র, কোম্পানি আইনের ৮ নং ধারা মান্যতাকারী বিভিন্ন সংস্থা এবং সেই সমস্ত বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান যাদের ন্যূনতম মার্জিন মানি ১০ শতাংশ। অবশিষ্ট ৯০শতাংশ ঋণ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে তপশিলভুক্ত ব্যাঙ্কগুলি থেকে।

আরও পড়ুন:উত্তরপ্রদেশের কুশীনগর বিমানবন্দরকে International Airport-এ উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদন কেন্দ্রের

কেন্দ্রীয় সরকার যোগ্য উপভোক্তাদের ৩ শতাংশ হারে সুদে ছাড় দেবে। প্রাথমিকভাবে গৃহীত মূল ঋণ পরিশোধের সময়সীমা হবে দু’বছর এবং এরপরেও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধের ছয় বছর সময় পাওয়া যাবে। এছাড়াও, কেন্দ্রীয় সরকার নাবার্ডের পরিচালনায় ৭৫০ কোটি টাকার ঋণ নিশ্চয়তা তহবিল গঠন করবে। এই তহবিল থেকে সেই সমস্ত অনুমোদিত
প্রকল্পগুলিকে ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে যেগুলি ক্ষুদ্র ও মাঝারি সংস্থা
হিসেবে পর্যবসিত হয়েছে। ঋণ গ্রহীতার মোট ঋণের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত গ্যারান্টির সুবিধা মিলবে। সরকারের এই উদ্যোগ বেসরকারি সংস্থাগুলির কাছে বিনিয়োগের এক বিপুল
সম্ভাবনার সুযোগ সৃষ্টি করবে। প্রাণীসম্পদ পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্পগুলিতে ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ তথা সুদ ছাড় সুবিধা বেসরকারি লগ্নিকারীদের মূলধন গ্রহণের ব্যাপারে আরও বেশি আকৃষ্ট করবে। ভারতে ডেয়ারি ক্ষেত্র থেকে মোট লেনদেনের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই গবাদি পশুপালকদের কাছেই ফিরে যায়। তাই, এই ক্ষেত্রের সামগ্রিক উন্নয়ন গবাদি
পশুপালকদের উপার্জনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাণীসম্পদ পরিকাঠামো উন্নয়ন তহবিলের মাধ্যমে আজ ঘোষিত ব্যবস্থাগুলির ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৩৫ লক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

২) উত্তরপ্রদেশের কুশিনগর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরার ঘোষণা:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্তর প্রদেশের কুশিনগর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। কুশিনগর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি সাংস্কৃতিক পীঠস্থান। কুশিনগর
বিমানবন্দরের কাছাকাছি শ্রাবস্তী, কপিলাবস্তু, লুম্বিনী সহ বিভিন্ন বৌদ্ধসাংস্কৃতিক কেন্দ্র রয়েছে। এই বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করলে বিমান যাত্রীদের সুবিধা হবে এই অঞ্চলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আসা-যাওয়া বৃদ্ধি পাবে এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিকাশ ঘটবে। উত্তরপ্রদেশের উত্তর-পূর্ব দিকে গোরক্ষপুরের ৫০ কিলোমিটার পূর্বে কুশিনগর বৌদ্ধতীর্থযাত্রীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র স্থান।

৩) মায়ানমারে শি তেল ও গ্যাস প্রকল্পের উন্নয়নের জন্য ওএনজিসি বিদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিনিয়োগে অনুমোদন

মায়ানমারে শি তেল ও গ্যাস প্রকল্পের উন্নয়নের জন্য ওএনজিসি বিদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিনিয়োগে অনুমোদনওএনজিসি বিদেশ লিমিটেড মায়ানমারে শি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্পের উন্নয়ন তথা নতুন ব্লক অনুসন্ধানের কাজে ২০০২ সাল থেকে যুক্ত রয়েছে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও মায়ানমারের বেশ কয়েকটি সংস্থাকে নিয়ে যে কনসর্টিয়াম বা সংগঠন গঠিত হয়েছে, ওএনজিসি বিদেশ লিমিটেড তার অন্যতম।  ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গ্যাস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড
(গেইল) মায়ানমারের এই প্রকল্পে আরও একটি বিনিয়োগকারী সংস্থান। ওএনজিসি বিদেশ লিমিটেড মায়ানমারের এই তেল ও গ্যাস প্রকল্পটিতে ২০১৯-এর ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৭২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। মায়ানমারের শি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্প থেকে প্রথমবার গ্যাস উত্তোলন প্রক্রিয়া ২০১৩-র জুলাইতে শুরু হয়।

আরও পড়ুন:শিলচরের হকিতে নিয়মিত প্রতিনিধিত্ব করে মালুগ্রাম ক্লাব

এরপর, বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৪-র ডিসেম্বরে। ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষ থেকেই এই
প্রকল্পটিতে বাণিজ্যিক লেনদেন শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পৌরোহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে আজ মায়ানমারে শি তেল ও গ্যাস প্রকল্পের এ-১ ও এ-৩ ব্লকের উন্নয়নে ওএনজিসি বিদেশ লিমিটেডের পক্ষ থেকে ১২১.২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯০৯ কোটি টাকা) বিনিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলিতে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান তথা প্রকল্পগুলির উন্নয়নে ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ ভারতের ‘পূবে তাকাও নীতি’র সঙ্গে যুক্ত এবং নিকট প্রতিবেশী দেশগুলিতে শক্তিক্ষেত্রে সেতুবন্ধনের লক্ষ্যে ভারতের প্রয়াসের অঙ্গস্বরূপ।

Related Articles

Back to top button
Close