fbpx
কলকাতাহেডলাইন

আমফান-ত্রাণের টাকা দুর্গতরা আদৌ পাবেন তো, প্রশ্ন বাবুলের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বুলবুল ঝড়ের পর দেখা গিয়েছিল, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গেলে বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন বাংলা থেকে কেন্দ্রের দুই মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় ও দেবশ্রী চৌধুরী। সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে আমফান বিধ্বস্ত এলাকার পরিদর্শণে গিয়ে বাধা পেয়েছে বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা। আমফান পরিস্থিতি নিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ লাগলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে। যে মানুষগুলোর মাথায় ছাদ নেই, ঘরে আলো নেই, পাতে খাবার নেই—তাঁরা জানতেও চান না, ত্রাণ নিয়ে যাঁরা পৌঁছেছেন তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় কী। অথচ তৃণমূলের অলিখিত নিদান, বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা ত্রাণ পৌঁছে দিতে পারবেন না। ত্রাণ দেওয়ার অধিকার শুধু শাসক দলের। তা সে যতই দুর্ভোগ হোক মানুষের”।

এদিন তিনি বলেন, তিনি তৃণমূলকে আর কোনওরকম সৌজন্য দেখবেন না। বাবুলের অভিযোগ, বুলবুলের সময়ও ত্রাণ দিতে গেলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়েছিল। শাসক দলের ভূমিকায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে বাবুল বলেন, ‘আমি বরাবরই মনে করি, বিরোধীরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, তাঁরা শত্রু নন। তাই ব্যক্তিগত সম্পর্কে সৌজন্য দেখানোই দস্তুর। কিন্তু এখন ঠিক করেছি, যাঁরা দুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছতে দেয় না, তাঁদের কোনও সৌজন্য দেখাব না।’

বাবুল সুপ্রিয়র অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী নিজে বলছেন, রাজনীতি করবেন না অথচ মানুষের দুর্ভোগের দিনেও ত্রাণ দেওয়া নিয়েও রাজনীতি করছে তৃণমূল। তিনি বলেন, ‘এনজিও হোক বা বিরোধী দল—বিপর্যয়ের সময়ে সরকারের সঙ্গেই উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। তাহলে এখন কেন এত বাধা! বিজেপি, সিপিএম বা কংগ্রেসের কর্মীদের ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার সামর্থ্য থাকলেও কেন তাঁদের বাধা দেওয়া হবে?’ বাবুল বলেন, ‘ বর্ষীয়ান বাম নেতা শ্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় সুন্দরবনের মাটিতে নেমে কাজ করছেন, মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে তো এই সময় কাজে লাগানো উচিত। তা না করে কেবল রাজনৈতিক কারণে কি তাঁকে বাধা দেওয়া উচিত?’

আরও পড়ুন: বিপর্যয় মোকাবিলায় ব্যর্থ রাজ্য সরকার, মোদিকে হাল ধরতে অনুরোধ অধীরের

উল্লেখ্য, আমফানের তান্ডবের পর ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে বারুইপুরের দিকে যাওয়ার পথে গড়িয়ায় ঢালাই ব্রিজে বিজেপির রাজ্য সভাপতিদিলীপ ঘোষের গাড়ি আটকে দেয় পুলিশ। তার পরের দিনও তমলুকের রাস্তায় দিলীপ ঘোষের গাড়ি আটকানো হয়েছিল।একই ভাবে বনগাঁয় স্থানীয় সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের পথও আটকানো হয়।

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বাংলায় কংগ্রেসি ঘরানার রাজনীতিতে এই মানসিকতা কখনওই ছিল না। কিন্তু বাম জমানার শেষ দিকে ক্রমশ এ হেন পরিবেশ তৈরি হতে থাকে। পঞ্চায়েত ভোটে বিরোধীদের মনোনয়নই জমা দিতে দেব না। অনায্য ভাবে তাদের রুখে দেব, ভোট লুঠ করে হারাব, প্রয়োজনে ঘর ছাড়া করে দেব—এ সবই শুরু হয়ে যায় বাম জমানার শেষ দিক থেকে। সেই সংক্রমণ থামানো যায়নি।

Related Articles

Back to top button
Close