fbpx
অন্যান্য খেলাঅসমখেলাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিল শিলচরের বিজয়ী সংঘ

তাজ উদ্দিন, শিলচর: ১৯৪৫ সাল। ভারত তখনও ব্রিটিশ শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়নি। সেই সময় যুব প্রজন্মের স্বাস্থ্যের উন্নতির কথা চিন্তা করে শিলচরে গঠিত হয়েছিল বিজয়ী ব্যায়াম সংঘ। স্বাধীনতা আন্দোলনে যুবকদের অংশগ্রহণ করতে হলে শারীরিকভাবে সক্ষম থাকতে হবে। তাই নতুন এই ব্যায়াম সংঘের আবির্ভাব। পরবর্তীতে সেই ক্লাব বিজয়ী সংঘ নামে পরিচিতি লাভ করে।

ধারাবাহিকতার কথা বলতে গেলে এই ক্লাবে সেটা প্রবলভাবে অনুপস্থিত। কিন্তু উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে হলেও ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি চর্চায় এখনও টিকে রয়েছে বিজয়ী সংঘ। আসা যাক ক্লাবের গোড়ার দিকের ইতিহাসে। ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রথমেই আসে শরদিন্দু দেবের নাম। তাকে সত্যিই এভাবে সহযোগিতা করেছিলেন ধীরেশ চন্দ্র সেন এবং খগেশ চন্দ্র সেন।
ব্যায়ামের পাশাপাশি ক্লাব সদস্যরা যখন খেলাধুলাকে বেছে নিলেন, তখন তারা ভলিবল কোর্টে বেশ দাপিয়ে বেড়াতে লাগলেন। সেই সময় বিজয়ী সংঘ প্রচুর নামীদামি ভলিবল খেলোয়াড় উপহার দিয়েছিল। পূর্ণেন্দু দাস, পীযূষ দাস, মাণিক ঘোষ, সজল দত্ত, দীপু চন্দ, ঝুনু ভট্টাচার্য, রাণা দেব পুরকায়স্থ, টুলু ভট্টাচার্য, নন্দন ঘোষ, অসীম সেন, রামেন্দ্র দেশমুখ্য প্রমুখের নাম উল্লেখ করা যায়। ক্লাবের ছেলেরা মূলত বর্তমান কাছাড় কলেজের জমিতেই ভলিবল খেলতেন। কিন্তু এরপর ধীরে ধীরে ক্লাবটি ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে হারিয়ে যায়।

১৯৭২ সালে কিছু উঠতি যুবকের প্রচেষ্টায় প্রাণ ফিরে পায় বিজয়ী সংঘ। রুপু চন্দ, বাবলু চৌধুরী, সীমান্ত ভট্টাচার্য সহ অনেকেই এতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। শুভঙ্কর রাহা, নূপুর চন্দ, তপু সেন, বাবলু চৌধুরী, সন্দীপ ভট্টাচার্য প্রমুখ ক্রিকেটাররা বিজয় সংঘের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। ‘৭২ সালেই শিলচর ডি এস এ-র সদস্য পদ লাভ করে বিজয়ী সংঘ। খেলতে খেলতে আবারও হারিয়ে যাওয়ার পথ ধরে বিজয়ী সংঘ!

১৯৯৪ সালে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষমোহন দেব বিজয়ী সংঘকে এক লক্ষ টাকা অনুদান দেন। এই অর্থে জেগে ওঠে ক্লাবের কর্মকাণ্ড। সেই সময় বাবলু চৌধুরী ছিলেন সচিব, আশিস গুপ্ত সভাপতি। ক্রিকেটে ক্লাবটি তখন দুরন্ত ফর্মে ছিল। পরবর্তী পাঁচ বছরে শিলচর ডি এস এ-র সিনিয়র ডিভিশন ক্রিকেটে তারা তিন বার চ্যাম্পিয়ন এবং দুবার রানার্স-আপ হয়।
১৯৯৮ সালে নিজেদের মাঠে বিজয়ী সংঘ ক্রিকেট কোচিং সেন্টার গড়ে তোলে। এতে স্পনসর হিসেবে এগিয়ে আসে ও এনজিসি। টার্ফ পিচ এবং শেড তৈরি করা হয়। কোচ হিসেবে এসেছিলেন দিল্লির প্রাক্তন রনজি ক্রিকেটার কে পি বর্মা। এই কোচিং ক্যাম্পের ক্রিকেটাররা পরবর্তীতে ক্লাবের জার্সিতে খেলেছিলেন। তবে দুর্ভাগ্যের কথা, বছর তিনেক পরে সেই অ্যাকাডেমিও বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: নিজের দেহকে করোনা টিকা পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করার আবেদন ছাত্রের

খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক জগতে বিজয় সংঘের অবদান উল্লেখযোগ্য। তারা রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা (১৯৯৮ সালে) এবং মিতা হকের (২০০০) মতো প্রথিতযশা রবীন্দ্র সংগীত শিল্পীদের দিয়ে শিলচরে অনুষ্ঠান করিয়েছিল। মূলত কোচিং সেন্টারের তহবিল গড়ার লক্ষ্যে হয়েছিল ওই দুটি অনুষ্ঠান।

বিজয়ী সংঘের শুভানুধ্যায়ীরা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। শিলচর স্টিমার ঘাটে কাজ করতেন মহীতোষ রায়। তিনি করিমগঞ্জে বদলি হয়ে গেলে সেখানে বিজয় সংঘ নামে একটি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। শিলচরের ক্রীড়াঙ্গনে বর্তমানে এ ডিভিশন ক্রিকেটে রয়েছে বিজয়ী সংঘ। প্রথম বছর (২০১৯-২০) যেসব ক্লাব সুপার ডিভিশন খেলেছে তাদের তালিকায় তারা জায়গা করে নিতে পারেনি। ফুটবলে তেমন নামডাক নেই তাদের। অথচ অতীতে ইন্ডিয়া ক্লাব মাঠে জুনিয়রদের কৃষ্ণা মেমোরিয়াল শিল্ড ফুটবলে অংশ নিয়েছিল এই ক্লাব। ক্লাবের সভাপতি পদে রয়েছেন পূর্ণেন্দু দেশমুখ্য, সচিব সুদীপ রায় চৌধুরী। কিন্তু ক্লাবের কাজকর্মে আবারও ভাঁটার টান। ২০২০ সাল যে তাদের প্ল্যাটিনাম জুবিলি বর্ষ, সেই ব্যাপারটা কিন্তু টের পাওয়াই যাচ্ছে না।

Related Articles

Back to top button
Close