fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বাড়ছে ফুলহার-মহানন্দার জল, বন্যার আশঙ্কায় মালদাবাসী

মিল্টন পাল, মালদা: জেলার প্রধান নদী গঙ্গা ফুলহার মহানন্দার জল বাড়ছে। আর তাতেই বন্যার আশঙ্কা। মালদা জেলার তিনটি নদীর জল বিপদসীমার কাছ দিয়ে বইছে বলে জানা গিয়েছে। ইংরেজবাজার শহরের ৮,৯,১২ এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু মহানন্দা নদী সংলগ্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

প্রায় ২০০টি পরিবার মহানন্দা নদীর জলে প্লাবিত হওয়ার পরে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। পাশাপাশি রতুয়া ১ ব্লকের কাহালা গ্রাম পঞ্চায়েতের ফুলহার নদী সংলগ্ন সূর্যাপুর এলাকা, মানিকচক ব্লকের শংকরটোলা এলাকা, ভূতনি থানা এলাকার হীরানন্দপুর গ্রাম এবং কালিয়াচক ৩ ব্লকের শোভাপুর পারদেওনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কয়েকটি গঙ্গা নদী সংলগ্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। যদিও সেচ দফতরের কর্মীরা তৎপরতার সঙ্গে কাজ করে চলেছে।

আরও পড়ুন:সাক্ষী গোটা বিশ্ব, মারণ করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অন্যতম সফল দেশ ভারত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সেচ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার মহানন্দা নদীর জলস্তর ছিল ২৩.৪৫ মি.মি. বিপদসীমা রয়েছে ২৪.৬৯ মি.মি। বিপদসীমার সামান্য কিছু নীচ দিয়ে বইছে মহানন্দা নদীর জল। পাশাপাশি গঙ্গার জলস্তর রয়েছে ২০.৯১ মি.মি। বিপদসীমার সংকেত রয়েছে ২২ মি.মি। এই নদীর জল বিপদসীমার সামান্য কিছু নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে ফুলহার নদীর জল বইছে ২৬.২৫ মি.মি. মধ্য দিয়ে। বিপদসীমার সংকেত রয়েছে ২৭.৪৩ মি.মি.। এই নদীর জল বিপদসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে বন্যা এবং ভাঙনের আশঙ্কা করেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিভিন্ন নদীর বাঁধ এলাকায় কাজ শুরু করেছে সেচ দফতর। গত ২৪ ঘন্টায় ৩.৪০ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে মালদায়। চলতি বছর এখনো পর্যন্ত ৯৯৯.৩ মি.মি বৃষ্টিপাত হয়ে গিয়েছে। যার ফলে বিভিন্ন এলাকার খাল, বিল, পুকুর, জলাশয়গুলিও ভরে গিয়েছে।

আরও পড়ুন:গণপতি উৎসব নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি মহারাষ্ট্র সরকারের, বেধে দেওয়া হল প্রতিমার উচ্চতা

বিভিন্ন নদীর জল বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে মালদা শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মহানন্দা নদী সংলগ্ন বালুচর এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, বর্ষার মরশুম শুরু হলেও জুলাই মাসে এইভাবে বিগত দিনে নদীর জল বাড়ছে দেখা যায়নি। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি হয়েছে, তাতে নদী সংলগ্ন বস্তি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্কুল অথবা খোলা মাঠে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন। জুলাই মাসে যদি এই পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে এখনও ভরা বর্ষার মরশুম পড়ে রয়েছে। নদীর জল এখনও আরও বাড়বে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে রতুয়া সূর্যাপুর এলাকায় ফুলহার নদীর একটি অংশে ভাঙন হওয়ায় সেখানে অস্থায়ীভাবে বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু করেছে সেচ দফতর। যদিও সূর্যাপুর এলাকার বেশ কিছু অসংরক্ষিত জায়গা প্লাবিত হয়েছে। নদীর জল ক্রমাগত বাড়লে এবং বিপদসীমা পেরিয়ে গেলে ওই এলাকায় বন্যার আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসীরা।

আরও পড়ুন:ইউজিসির নির্দেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পাশাপাশি ভুতনি থানার হীরানন্দপুর এবং কালিয়াচকের শোভাপুর পারদেওনাপুর এলাকাতেও গঙ্গা নদীর জল ক্রমাগত বাড়ছে। এসব এলাকায় ভাঙ্গনের খবর পেয়ে বাঁধ মেরামতির কাজ অস্থায়ীভাবে শুরু করেছে সেচ দফতর।

সেচ দফতরের মালদার এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রণব কুমার সামন্ত জানান, তিন নদীর জল বাড়ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত বিপদসীমায় যায়নি। এই তিনটি নদীর পুরো পরিস্থিতির ওপর নজরদারি রয়েছে। পাশাপাশি যেসব এলাকায় নদীপথগুলি দুর্বল রয়েছে, সেখানে অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের কাজও করা হচ্ছে।আমাদের কর্মীরা কাজ করে চলেছেন।

Related Articles

Back to top button
Close