fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মাস্ক পড়ে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিয়ের অনুষ্ঠান রায়গঞ্জে

শান্তনু চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জ: বর-নববধূ সহ পরিবাবের সকলের মুখে ত্রিস্তরীয় মাস্ক, বিবাহস্থলে ঢোকার আগে হাত, পা স্যানিটাইজেশন, ছাদনা তলার চারদিকে লাল রিবন দিয়ে আটকানো-করোনা আবহে এমনই অভিনব বিয়ের স্বাক্ষী হয়ে রইলো শহরবাসী। উল্লেখ্য, মাস ছয়েক আগে রায়গঞ্জ শহরের বীরনগরের বাসিন্দা ত্রিজা দাসের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় উদয়পুরের দেবব্রত দেবনাথের। কিন্তু করোনা সংক্রমনের কারনে লকডাউন শুরু হওয়ায় ভেস্তে যায় সামগ্রীক পরিকল্পনা। সরকারী নিয়ম মেনে ২৫ জন নিয়ে যে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্ভব নয় তা বুঝতে পেরে দুই পরিবার সিদ্ধান্ত নেয় মন্দিরেই হবে বিয়ের অনুষ্ঠান। এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসে রায়গঞ্জের একটি ক্যাটারার সংস্থার কর্ণধার সুজয় নন্দী। দুই পক্ষকেই সুজয় বাবু আশ্বস্ত করেন সরকারী নিয়ম মেনেই ভবনে যাবতীয় বিয়ের অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করে দেবেন তিনি। সেই মতো মঙ্গলবার রায়গঞ্জের একটি উৎসব ভবনে সামাজিক দূরত্ব ও সবধরনের স্বাস্থবিধি মেনেই সাতপাঁকে বাঁধা পড়লো ত্রিজা ও দেবব্রত।

ত্রিজা বলেন,” ভাবতেই পারি নি এভাবে বিয়ে করতে হবে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে এছাড়া কোনো উপায় ছিল না। তবে পাড়া প্রতিবেশী ও সব আত্মীয়দের আমন্ত্রন না আক্ষেপ থেকে গেলো।”

আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে বস্ত্র ব্যাবসায়ীর পরিবারে ৬ জন করোনা আক্রান্ত, স্যানিটাইজ হল বাজার

অন্যদিকে পাত্র দেবব্রত বলেন,” সারাক্ষন মাস্ক পরে আছি। ভাবি নি যে এইভাবে বিয়ে করবো। তবে সমস্ত নিয়ম মেনে বিয়ে হচ্ছে আমাদের। যাই হোক ঠিক আছে সব। ” বিয়ের পুরোহিত প্রশান্ত ব্যানার্জি বলেন,” এভাবে বিয়ে দেওয়া জীবনে প্রথমবার। ছাদনাতলা পর্যন্ত আটকে দেওয়া হয়েছিল ভীড় নিয়ন্ত্রনের জন্য। তবে ক্যাটারার সংস্থার কর্নধার সুজয় বাবুর উদ্যোগেই গোটা বিবাহ পর্ব নির্বিঘ্নে শেষ হয়েছে। ”

সুজয় বাবু বলেন,” মার্চ মাস থেকে আমাদের ব্যবসা বন্ধ। ক্যাটারার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বসে গিয়েছে। কীভাবে সংসার চালাবো? অনেক বুঝিয়ে এই কাজ টা পেয়েছি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে একেকটা ভবনে দুশো জন লোকের ব্যবস্থা করা যায়। সরকার বা প্রশাসন আমাদের সমস্যার কথা না ভাবলে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে।

Related Articles

Back to top button
Close