fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

যৌন মিলনে লিপ্ত হবার টোপ দিয়ে প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে খুন করল স্ত্রী

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: যৌন মিলন লিপ্ত হবার টোপ দিয়ে স্বামীকে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে গিয়ে প্রেমিককে দিয়ে খুন করালো স্ত্রী। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের জামতারা গ্রাম নিবাসী মধুসুদন বাউরিকে খুনের ঘটনার পুলিশি তদন্তে উঠে এল এমনি হাড়হীম করা তথ্য। রবিবার বেলায় মৃতের স্ত্রী প্রীতি বাউরি ও তাঁর প্রেমিক মঙ্গল বাউরিকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে আউশগ্রাম থানার পুলিশ খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করায়। মধুসুদনকে খুনের ঘটনার সবিস্তার রোমহর্ষক ঘটনাবলি প্রীতি ও মঙ্গল এদিন পুনর্নিমাণের
সময়ে পুলিশের কাছে তুলে ধরে। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে নিজের ছেলেকে খুনের ঘটনার প্রকৃত কাহিনী জানার পর পুলিশের কাছে বৌমা ও তাঁর প্রেমিকের ফাসির দাবি জানান মধুসুদনের বাবা নাড়ু বাউরি।

পুলিশ জানিয়েছে, আউসগ্রাম থানার জামতাড়া গ্রামে বসবাস বছর ২৭ বমধুসূদন বাউড়ির পরিবারের। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে মধুসুদনের খোঁজ মিলছিল না। পরে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে আম বাগান ঘেরা নির্জন জায়গায় মেলে পেশায় লটারি টিকিট বিক্রেতা মধুসুদনের গলা কাটা মৃতদেহ। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্তে নামে। পরদিন মধুসুদনের স্ত্রী প্রীতি ও তাঁর প্রেমিক মঙ্গলকে গ্রেফতার করে পুলিশ হেপাজতে নেয়। জেরায় ধৃতরা খুনের কথা কবুল করে। এদিন ধৃত দুজনকেই ঘটনাস্থলে নিয়েযান তদন্তকারী পুলিশ অফিসার। তাঁর এবং এলাকাবাসীর সামনে ধৃতরা খুনের ঘটনার পুনর্নিমাণ করে দেখায়। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই প্রীতি ও মঙ্গল পুলিশের কাছে খুনের সবিস্তার ঘটনা খুলে বলে এবং কিভাবে খুন করেছে তার সবিস্তার পুলিশকে দেখায়।

আরও পড়ুন: বসিরহাটে লকডাউন অমান্য, আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক পাচারকারী সহ গ্রেফতার ৩০

প্রীতি বাউড়ি এদিন পুলিশকে জানায়, এলাকার যুবক মঙ্গলের সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মধুসুদন এই সম্পর্কের বিষয়ে জানার পর থেকে তাঁর সঙ্গে অশান্তি করা শুরু করে। সেই কারণে সে ও তাঁর প্রেমিক মিলে পথের কাঁটা মধুসুদনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেবার পরিকল্পনা কষে ফেলে। পরিকল্পনা মাফিক সে তাঁর স্বামীকে বলে বাড়িতে যৌন মিলনে লিপ্ত হবার সময়ে তাঁদের নাবালক ছেলে মেয়েরা জেগেযায়। সেই কারণে বাড়ির বাইরে আমবাগানে গিয়ে যৌন মিলনে লিপ্ত হবে বলে মধুসুদনকে বলে প্রীতি। এমন টোপ দিয়ে প্রথম দিন রাতে খাওয়া দাওয়া সেরে প্রীতি তাঁর স্বামীকে বাইরে নিয়ে গেলেও খুনের কাজ হাঁসিল করতে পারেনি।

এরপর গত সোমবার রাতে একই কথা বলে প্রীতি তাঁর স্বামী মধুসুদনকে ওই আমবাগান ঘেরা নির্জন জায়গায় ফের নিয়েযায়। তাদের যৌন মিলনের সময়েই সেখানে পৌছে যায় মঙ্গল। মধুসুদন কিছু বুঝে ওঠার আগেই মঙ্গল পিছন দিকথেকে তার মুখ টিপে ধরে গলায় ধারালো ব্লেড চালিয়ে দেয়। মধুসুদনের মৃত্যু নিশ্চিৎ করতে পরে মঙ্গল গামছা দিয়ে মধুসুদনের গলায় ফাঁস দিয়ে চেপে ধরে। এই গোটা ঘটনায় প্রীতি ছিল মধুসুদনের একমাত্র সঙ্গী। ওই দিন ভোরের আলো ফোটার আগেই স্বামীর মৃতদেহ
আমবাগানে ফেলে রেখেই প্রীতি শ্বশুরবাড়ির ঘরে এসে ঢুকে পড়ে। আউসগ্রাম থানার পুলিশ জানিয়েছে, হাড়হিম করা এই গোটা ঘটনাই পুনর্নিমাণ পর্বে প্রকাশ করেছে ধৃতরা। নিহতের পরিবার পরিজনরা ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই দুই অভিযুক্তের ফাসির দাবি জানান পুলিশ কর্তাদের কাছে।

Related Articles

Back to top button
Close