fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ঝড়ে বিধ্বস্ত সুন্দরবনে ফিরতে দেওঘর থেকে ৪০০ কিলোমিটার হেঁটে পাড়ি শ্রমিকদের

প্রদীপ্ত দত্ত, সিউড়ি:  সুপার সাইক্লোন আমফান বিধ্বস্ত করে দিয়েছে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা। বহু মানুষ পথে এসে দাঁড়িয়েছে। টিভিতে তা দেখে আর থাকতে পারেনি সুন্দরবনের পাথর প্রতিমা থেকে আসা দেওঘরের একদল পরিযায়ী শ্রমিক। লকডাউন চলাকালীন তাঁরা দেওঘরের কাজের ক্ষেত্রেই থেকে গিয়েছিল। কিন্ত ঘূর্ণিঝড়ে নিজেদের ভিটেমাটি তছনছ হয়ে যাবার খবর টিভিতে দেখতেই ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে বাবা ,মা স্ত্রী পুত্র কেমন আছে এই উৎকন্ঠায় তাঁরা সিদ্ধান্ত নেয় বাড়ি ফেরার । যে রাইসমিলে তাঁরা কাজ করেন সেখানকার মালিক পক্ষকে বাড়ি ফেরার বন্দবস্ত করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান । তা না মেলায় ১২ জনের দলটি সিদ্ধান্ত নেয় দেওঘরের বৈদ্যনাথপুর থেকে ৪০০ কিলোমিটার পথ তাঁরা পায়ে হেঁটেই পাড়ি দেবে।দেওঘর থেকে পায়ে হেঁটে শ্রমিক দলটি সিউড়ির ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের কাছে এসে পৌঁছান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজসেবী জয়দেব মুজুমদার বিধ্বস্ত শ্রমিক দলটির কাছে জানতে চান তাঁরা কোথা থেকে আসছেন ও কোথায় যাবেন । ওই পরিযায়ী শ্রমিকদলের হয়ে শুকদেব জানান,” আমরা দেওঘরের বৈদ্যনাথপুরের একটি রাইসমিলে কাজ করি । আমাদের বাড়ি সুন্দরবন এলাকার পাথরপ্রতিমায় । ঝড়ে আমাদের বাড়িঘর তছনছ হয়ে গেছে। পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিনা। ওখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক উড়ে গেছে। এই সময় পরিবারের পাশে থাকলে তাঁরা মনোবল ফিরে পাবেন । তাই বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ”

আরও পড়ুন: “দূরে থেকেও পশ্চিম মেদিনীপুরে “আমফান” এ বলি ২, বাড়ি হারালো ২১ হাজার

জয়দীপ মজুমদার জানান ,” পথে বিধ্বস্ত এই শ্রমিকদের দেখতে পেয়ে আমরা সিউড়ি থানায় খবর দি। সিউড়ি থানা থেকে ১২ জনের এই শ্রমিক দলটিকে রিলিফ সেন্টারে নিয়ে গিয়েছে। ”  সেইসঙ্গে তিনি জানান বহু পরিযায়ী শ্রমিক মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছে। জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই বহু পরিযায়ী শ্রমিককে গাড়ি করে ফেরানোর ব্যাবস্থা শুরু করেছে। এই পরিযায়ী শ্রমিকের দলটিকে সেইভাবে ফেরানোর ব্যাবস্থা করুক।

Related Articles

Back to top button
Close