fbpx
আন্তর্জাতিকএকনজরে আজকের যুগশঙ্খদেশ

কোভিড মোকাবিলায় ভারতে বুস্টার ডোজ চালুর সুপারিশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার, দোটানায় কেন্দ্র 

নিজস্ব প্রতিনিধি: করোনা মোকাবিলায় প্রধান অস্ত্র দ্রুত হারে টিকাকরণ। দেশে টিকাকরণের গতি আগের চেয়ে বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনও কোনও রাজ্যই নাগরিকদের দুটি টিকার ডোজ সম্পূর্ণ করতে পারেনি। তার মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা টিকাকরণ নিয়ে নতুন পরামর্শ দিল। সংস্থার সাবজেক্ট অ্যাডভাইসরি গ্রুপ অফ এক্সপার্ট  রাষ্ট্রসংঘকে জানিয়েছে, ভারতের মতো দেশে যে সব নাগরিক বিভিন্ন রোগে ভুগছেন বা কোমর্বিডিটি রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই বুস্টার ডোজ নিতে হবে। কারণ, দ্বিতীয় ডোজ  নেওয়ার ছ’মাস পর থেকেই অ্যান্টিবডি কমতে শুরু করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এমন প্রস্তাবে স্বাভাবিকভাবেই দোটানায় পড়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

 

কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই পরামর্শ দিলেও আইসিএমআর জানিয়েছে দেশের সব মানুষকে এখনও দুটি ডোজের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তার মধ্যেই বুস্টার ডোজ চালু করতে গেলে গোটা ব্যবস্থাটাই ধাক্কা খাবে। আবার কোভিড বিশেষজ্ঞদের মত, যাদের কোমর্বিডিটি রয়েছে বা বিভিন্ন রোগে ভুগছেন, তাঁদের অ্যান্টিবডি ছ’মাস পরই কমতে শুরু করবে। তাই কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে বুস্টার ডোজ চালু করতেই হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি পরিবর্তন করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ডোজ সম্পূর্ণ হওয়ার ৬ মাস পর্যন্ত ভ্যাকসিনের অ্যান্টিবডি সক্রিয় থাকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হলেও ভাইরাস তেমন প্রাণঘাতী হতে পারে না। কিন্তু ছ’মাস পর থেকেই অ্যান্টিবডির ক্ষমতা ক্রমশ কমতে শুরু করে। এটাই ভ্যাকসিনের স্বাভাবিক নিয়ম। কোভিড টিকার ক্ষেত্রেও এর অন্যথা হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। তাই দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার এক বছর পর যাঁদের কোমর্বিডিটি রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই বুস্টার ডোজ নিতে হবে।

কিন্তু আইসিএমআর সূত্রে খবর, এ ব্যাপারে কেন্দ্র কোনও রকম আলোচনাই শুরু করেনি। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের অন্যতম গবেষক ডাঃ সমীরণ পাণ্ডা বলেন, ”আগে দেশের প্রাপ্তবয়স্ক সমস্ত মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। তারপরই বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবা যেতে পারে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে, তাও যথেষ্ট বিজ্ঞানভিত্তিক। কারণ, কোমর্বিডিটি যাদের রয়েছে, তাঁরা ইমিউনো কম্প্রোমাইসড।” উল্লেখ্য প্রথম দফায় ৬০ ও তার বেশি বয়সিদের এবং তারপর ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সি নাগরিকদের মে মাসের মধ্যে দুটি ডোজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রস্তাব কতটা কার্যকরী হবে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।

Related Articles

Back to top button
Close