fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

স্নান করতে নেমে কাঁকসায় অজয় নদীতে বালি খাদের জলে তলিয়ে গেল যুবক

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: ফের স্নান করতে নেমে নদীর বালি খাদে জলে তলিয়ে গেল এক যুবক। বুধবার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে কাঁকসা থানার শিবপুর অজয় নদীতে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ১৯ এর নিখোঁজ যুবকের নাম বাবলু হাজরা। এদিন সন্ধ্যা পর্যম্ত তাঁর কোন হদিশ না পাওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে অবৈধভাবে পাম্প মেশিন বসিয়ে বালি তোলার দরুন নদীতে বিশাল খাদ তৈরি হয়েছে। আর ওই খাদের জলে গভীরতা বুঝতে না পারায় স্নান করতে নেমে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। যদিও এদিন খবর পেয়ে তল্লাশি শুরু করেছে বিপর্যয় মোকাবিলাকারি দল।

ঘটনায় জানা গেছে, তলিয়ে যাওয়া যুবকের বাড়ি বীরভূমের বোলপুরে। কাঁকসার বিদবিহার পঞ্চায়েতের কৃষ্ণপুরে মামার বাড়ীতে এসেছিল। এদিন দুপুর নাগাদ বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে স্নান করতে গিয়েছিল ওই যুবক। বালি খাদের জলে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে আশপাশের গ্রামবাসীরা তল্লাশি শুরু করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল। সন্ধ্যা পর্যন্ত তল্লাশিতে কোন হদিশ মেলেনি। এদিকে বালি খাদ তৈরী হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে গ্রামবাসীরা। অভিযোগ, শিবপুরের ওই বালি ঘটে বালি মাফিয়ারা অবৈধভাবে পাম্প মেশিনের দ্বারা বালি উত্তোলন করে। ফলে নদীর মধ্যে গভির খাদ তৈরি হয়েছে ওই এলাকায়। ওই বালি খাদের জলে গভীরতা বুঝতে না পেরে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল লাউদোহায় অজয় নদীতে একইরকমভাবে বালিখাদে স্নান করতে নেমে জলে তলিয়ে মৃত্যু হয় কিশোর মন্ডল(১২) এক যুবকের। ঝাড়খন্ডের বাসিন্দা যুবকের বাবা ইঁটভাটার শ্রমিক ছিল। গত ১৫ জানুয়ারি কাঁকসার সাতকাহানিয়ায় মকর স্নান করতে গিয়ে একইরকমভাবে জলে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছিল এক যুবকের। বছরখানেক আগে সাতকাহানিয়ার ওই একই ঘাটে স্নান করতে নেমে জলে তলিয়ে মৃত্যু হয় স্কুলছাত্রের। অভিযোগ আঙ্গুল ওই অবৈধভাবে মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলনে। অজয় নদীর ওপর শিবপুর, কোটালপুকুর জঙ্গলঘাট, দেউল, পেয়ারাবাগান, নারকেলবাগান, সাতকাহানিয়ার বাঁশতলা, শ্মশানঘাট, লাউদোহার গৌরবাজার গোলাঘাট, পান্ডবেশ্বরেও একাধিক ঘাটে অবাধে চলছে বালি উত্তোলন। নদীতে জল থাকায় পাম্প বসিয়ে জলমিশ্রিত বালি তোলা হয়। জলবালি মিশ্রিত বিশেষ ছাকনির সাহায্যে বালি আলাদা করা হয় নদীতে। তারপর ওই বালি জেসিবি দিয়ে লরিতে ভর্তি হয়ে পাচার হয় শহরে। আর পাম্প বসিয়ে বালি তোলার ফলে নদীতে অচিরে খাদ তৈরি হচ্ছে। যদিও পাম্প বসিয়ে কিম্বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালি উত্তোলনে গ্রীনট্রাইবুনালের কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও রমরমিয়ে চলে পাম্প বসিয়ে বালি উত্তোলন। বেশ কিছু বৈধঘাটের পাশে অবাধে চলছে অবৈধঘাট। পর পর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, নদীতে অবৈধ বালিঘাটের নজরদারিতে। কয়েকদিন আগে লাউদোহার রসিকডাঙা এলাকায় অবৈধ বালিঘাটের বিরুদ্ধে সরব হয়।

অভিযোগ, অবৈধ বালি তোলার ফলে ভেঙে পড়ছে নদীর পাড়। বদলে যাচ্ছে নদীর গতিপথ। অবৈধ বালি বোঝাই লরি যাতায়াতে বেহাল হয়ে পড়ছে গ্রামের রাস্তা। এদিন বাসিন্দারা জানান,” মেশিন দিয়ে বালি তোলার ফলে নদীতে যত্রতত্র বড় খাদ তৈরী হয়েছে। জলপূর্ণ হওয়ায় ওইসব খাদের গভীরতা সহজে টের পাওয়া যায় না। এদিন জলের গভীরতা বুঝতে না পারায় তলিয়ে যায় ওই যুবক।”

পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি সমীর বিশ্বাস জানান,” এভাবে মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন বন্ধ হওয়া দরকার। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের কাছে জানানো হবে।” কাঁকসা বিডিও সুদীপ্ত ভট্টাচার্য বলেন, “কয়েকমাসে প্রায় ১০ বার মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়েছে। নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারের জন্য বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল’কে খবর দেওয়া হয়েছে। তল্লাশি চলছে।”

Related Articles

Back to top button
Close