fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

হাসপাতালে বেড নেই, অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই মৃত্যু হল এক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির

মিলন পণ্ডা, পাঁশকুড়া (পূর্ব মেদিনীপুর): হাসপাতালের বেড নেই, তাই বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রোগীর আত্মীয় ও পরিজনরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে রোগী মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুকে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই মৃত্যু হল এক করোনা আক্রান্ত রোগীর।এভাবেই স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে গাফিলতি অভিযোগ রোগীর পরিবারের।

জানা গেছে, শনিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া থানার গোগ্রাসের বাসিন্দার জ্বর ও শ্বাসকষ্ঠ দেখা দেয়। পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার জন্য পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওই ব্যক্তিকে তমলুকে আইসোলেশানে রাখা হয়। পাশাপাশি র‍্যাপিড টেস্ট করা হয়। জেলা হাসপাতাল থেকে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, রিপোর্ট আসতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে। ওইদিন রাতেই আচমায় পরিবারের সদস্যদের জানানো হয় ব্যক্তি করোনা পজিটিভ। অতএব রোগীকে করোনা চিকিৎসার জন্য পাঁশকুড়ার বড়মা করোনা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

তড়িঘড়ি করে রোগীকে পরিবারের সদস্যরা রাতেই পাঁশকুড়া বড়মা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পাঁশকুড়ার বড়মা হাসপাতালে যাওয়ার পর সেখানে কোনও বেড খালি না থাকায় রোগীকে ভর্তি নেওয়া সম্ভব নয় এমনটাই জানিয়ে দেওয়া হয় পরিবারের সদস্যদের। সেখান থেকে রোগীকে চন্ডীপুরে বা অন্য কোনও করোনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়। চন্ডীপুর যাওয়ার পথে তমলুকের কাছে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই মৃত্যু হয়। পরিবারের লোকেরা মৃত ব্যক্তিকে আবারও তমলুক হাসপাতালে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। তমলুক জেলা হাসপাতাল ওই ব্যক্তির দেহ প্রথমে দেহ রাখতে রাজী হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ। বাধ্য হয়ে রোগী পরিবার তমলুক হাসপাতালে যোগাযোগ করেন।

অবশেষে বাধ্য হয়ে তমলুক থানার চেষ্টায় হাসপাতাল দেহ নিলেও তমলুক হাসপাতালের ইমার্জেন্সির সামনে দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা পড়ে থাকে। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যায় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা। অভিযোগ সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের দেখার পর তড়িঘড়ি করে মৃতদেহটি হাসপাতালের মর্গে পাঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।মৃত ব্যাক্তির মেয়ে বলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনও লিখিত তথ্য দেয়নি। শুধু মাএ মুখের কথায় বলা হয়েছে। মৃতদেহ নিয়ে বেশ সমস্য পড়ছেন মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য থেকে আত্মীয় পরিজনরা।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাই চন্দ্র মণ্ডল বলেন এই বিষয়ে জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবো। যদিও তমলুক হাসপাতাল সুপারকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তাই কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলা শাসক পার্থ ঘোষ ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেনি।

Related Articles

Back to top button
Close