fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বাংলাকে মিনি পাকিস্তান করার ষড়যন্ত্র চলছে! মূর্তি পোড়ানোর নিন্দায় সরব ভিএইচপি ও হিন্দু মহাসভা

ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত, নয়া দিল্লি: ‘বাংলাকে মিনি পাকিস্তান করার ষড়যন্ত্র চলছে’। এই অভিযোগ করলেন দিলীপ ঘোষ। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের আলমপুরে কালীমন্দিরে বিগ্রহ পুড়িয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি তুলেছে, তার প্রেক্ষিতেই এই মন্তব্য করেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি। যদিও এই ঘটনাকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে বিবৃতি দিয়েছে মন্দির কমিটি। কিন্তু তা মানতে নারাজ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, হিন্দু মহাসভার মতো হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তারা। সংগঠনগুলির দাবি, পুড়ে যাওয়া মন্দিরে নতুন বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করে ফের নিত্য পুজো শুরু করা হোক।

গত ৩১ আগস্ট গভীর রাতে নওদা থানার অন্তর্গত আলমপুর কালিমা নিমতলা কালীমন্দিরে গভীর রাতে পুড়ে যায় মন্দিরের ভিতরে প্রতিষ্ঠা করা কালী মূর্তি। ১৩৫৮ বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরের মাতৃমূর্তি পুড়ে যাওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈন বলেন, এতদিন আমরা মুখে বলতাম যে, মমতা প্রশাসন পশ্চিমবঙ্গকে জেহাদিদের আস্তানা বানানোর চেষ্টা করছে। এখন তো দেখছি সেই কাজে সম্পূর্ণ সফল তারা। আমি তীব্র ভাষায় এই ঘটনার ধিক্কার জানাচ্ছি এবং মুর্শিদাবাদ প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছি, রাবণের পাপে যখন লঙ্কা বিনষ্ট হয়েছিল তখন কিন্তু রামের ক্রোধের আগুন থেকে রাবণের কোনও অনুচরই পরিত্রাণ পায়নি। তাই যাঁরা আজ চোখে ঠুলি বেঁধে কানে তুলো দিয়ে চুপ করে আছেন বা এই ধরনের নোংরামিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন, তাঁদের সময় কিন্তু দ্রুত শেষ হয়ে আসছে’।

এই প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, আমরা খবর দেখি পাকিস্তানের বাংলাদেশ হিন্দু মন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে দেবদেবীর মূর্তি ভেঙে জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে কিন্তু আমাদের রাজ্যে যেখানে ৮৫ শতাংশ হিন্দুর বাস, এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে এটা এতদিন কল্পনার অতীত ছিল। নিমতলা কালীমন্দিরে কিভাবে মায়ের মূর্তি পুড়ে গেল এটা নিয়ে প্রশাসন নিজেদের মতো করে একটা গল্প তৈরি করেছে। তারা এটাকে নিছক দুর্ঘটনা বলে চালাতে চাইছে। মায়ের মূর্তি পুড়ে যাওয়ার আগে ওই মন্দিরে মায়ের গহনা চুরি হয়েছে একবার শুনেছি। কালী মায়ের মূর্তি পুড়ে যাওয়ার পর গ্রামবাসীরা যখন এটা নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন তখন এর কোনও তদন্ত না করেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীদের জোর করে মূর্তি বিসর্জন করিয়ে দিয়েছে। আমি ওই অঞ্চলের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি রাত পর্যন্ত মন্দির চত্বরে মানুষজন ছিলেন। ততক্ষণে প্রদীপ ধূপকাঠি সব নিভে গেছে। তাহলে প্রদীপের আগুন থেকে মাতৃ প্রতিমা আগুন ধরেনি এটা পরিষ্কার আর শর্টসার্কিটের কোনও প্রমাণ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন হল কালীমায়ের মূর্তিতে আগুন লাগল কি করে ? অদ্ভুতভাবে এক্ষেত্র প্রশাসন নির্বিকার বরং তারা জোর করে এই ঘটনাটা কে দুর্ঘটনা বলে ধামাচাপা দিতে চাইছে। আর এটা নিয়ে যখন আমরা সরব হলাম তখন পুলিশ আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমাদের বক্তব্য হল যদি পুলিশের কথা মতো মাতৃমূর্তি দুর্ঘটনাতেই পুড়ে যায় তাহলে অবিলম্বে ওই মন্দিরে নতুন মূর্তি কেন প্রতিস্থাপিত করা হল না ? কেনই বন্ধ রাখা হয়েছে পূজা পাঠ ? আসলে এগুলো দুর্গাপুজোর ভাসান বন্ধ করা সরস্বতী পুজো করতে না দেওয়া গণেশ পুজোর জন্য অনুমতি না দেওয়ার পর এক ধাপ এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে মিনি পাকিস্তান করার সুনিপূণ চক্রান্ত।

আরও পড়ুন:চিকিৎসায় বামেদের পিছনে ফেলল সংঘ….

দিলীপ আরও বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে গ্রামবাসীদের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। তাঁরা বলছেন, মন্দিরের সন্ধ্যারতি হয়ে যাওয়ার দীর্ঘ সময় পর প্রায় রাত দশটা পর্যন্ত মন্দিরের চাতালে বহু মানুষ প্রতিদিনের মতোই উপস্থিত ছিলেন। ততক্ষণে নিয়ম অনুযায়ী প্রদীপ, ধূপকাঠি সব নিভিয়ে মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাই প্রদীপ বা ধূপকাঠি সব নিভিয়ে মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাই প্রদীপ, বা ধূপকাঠির মাতৃপ্রতিমা পুড়ে যাওয়ার কোনও সম্ভবনাই নেই। শর্ট সার্কিটের প্রসঙ্গও উড়িয়ে দিচ্ছেন গ্রামবাসীরা’।

এই প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদ বিজেপি জেলা সভাপতি গৌরীশংকর ঘোষ বলেন, যদি শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতো তার কোনও চিহ্ন থাকত। কারণ শর্ট সার্কিট থেকে লাগা আগুন অত্যন্ত তীব্র হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে মায়ের পিছনের কাঠামোটামো পুড়ে যায়নি, পুড়ে যায়নি পায়ের কাছে রাখা ঘটের তীর কাঠিও। এমনকী মায়ের হাতের চাঁদমালা উপর অংশটা অক্ষত ছিল। সুতরাং এটা বোঝাই যাচ্ছে বাইরে থেকে মোমবাতি বা দেশলাইয়ের আগুন ছুঁড়ে দিয়ে মাটির প্রতিমায় আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছে দুষ্কৃতীরা।

গৌরীশংকরবাবুর অভিযোগ, মা কালীর মূর্তি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ বলছে একরকম, আর গ্রামবাসীদের বক্তব্য আর একরকম। গ্রামবাসীরা এই নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক পোস্ট করেন। কিন্তু পুলিশ জোর করে তাদের থানায় ধরে নিয়ে গিয়ে পোস্টগুলি ডিলিট করায় এবং তাদের বাধ্য করে এই কালীমূর্তির পুড়ে যাওয়ার ঘটনাটা দুর্ঘটনাজনিত বলে স্টেটমেন্ট দিতে। এই নিয়ে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে গ্রামজুড়ে। আর এটা কোনও মুর্শিদাবাদের বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। প্রায় দিনই হিন্দুদের বিভিন্ন পুজো করতে বর্তমানে বাধা দিচ্ছে একটা বিশেষ শ্রেণী। আমার বাড়ির পাশেই একটা গাছ ছিল যেখানে গ্রামের মায়েরা বোনেরা ষষ্ঠী পুজো করত কিন্তু গাছটা কেটে দেওয়া হয়েছে। একটা গাছের নিচে শীতলা পুজো করা হত দীর্ঘদিন ধরে হঠাৎ করেই সেই পুজোতেও বন্ধ করে দেওয়া হল। যত দিন যাচ্ছে মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে ততবেশি করে হিন্দুদের কোণঠাসা করার চেষ্টা চলেছে আরে বা আলমপুরের নিমতলা মন্দিরের ঘটনা তো সবকিছু ছাপিয়ে গেছে।

আরও পড়ুন:সাংসদ জগন্নাথ সরকারের হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান শাসকদলের কর্মীদের

বুধবার সকালে এই নিয়ে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং একটি টুইট করেন। তিনি বলেন, মমতা প্রশাসন ভোটের রাজনীতি করার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গকে মিনি পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা করছে। ক্ষমতায় থাকার লোভে মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে দেবী পুজো করেন, তার মূর্তি জ্বালিয়ে দিলেও তিনি নির্বিকার থাকতেই পারেন। কারণ ভোট বড় বালাই। কিন্তু হিন্দু হিসাবে আমি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছি। আমার দাবি বর্ডার পার করে জেহাদী দুষ্কৃতীরা এসে এই মায়ের প্রতিমা জ্বালিয়ে দিয়েছে। এটা পশ্চিমবাংলায় হিন্দু ধর্মের উপর এক মারাত্মক আঘাত। আমি জানি এই বিষয়ে মুখ খোলার জন্য পুলিশ আমার বিরুদ্ধে আরও এক ডজন মিথ্যা মামলা তৈরি করবে। কিন্তু তার জন্য আমার ধর্মের দেবীর মূর্তি জ্বালিয়ে দেওয়া হবে, আমি চুপ করে থাকতে পারব না। আমি অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের এবং উপযুক্ত সাজা দানের দাবি জানাচ্ছি।

Related Articles

Back to top button
Close