fbpx
হেডলাইন

বাংলায় উর্দু চাপানোর গভীর ষড়যন্ত্র চলছে! দাবি হিন্দুত্ববাদীদের

রক্তিম দাশ, কলকাতা: বাংলায় উর্দু চাপানোর গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। অভিযোগ হিন্দুত্ববাদীদের। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি নয়, উত্তর দিনাজপুর জেলার দাঁড়িভিটে উর্দু ভাষার বিরুদ্ধে আন্দোলনে শহিদ ছাত্র রাজেশ বর্মন এবং তাপস সরকারের আত্মবলিদানের দিন ২০ সেপ্টেম্বরকে পশ্চিমবঙ্গে মাতৃভাষা দিবস পালনের দাবি তুললেন তাঁরা।

সূত্রের খবর, বাংলায় পাঠ্যপুস্তক-সহ সর্বত্র আরবি সংস্কৃতিকে চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে হিন্দু বাঙালির আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসাবে এবার দিনটিকে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হিন্দুত্ববাদীরা। ২০ সেপ্টেম্বর দিনটিকে মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বাংলার সর্বত্র পালনের আহ্বান জানিয়ে বিশিষ্ট সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত বলেন,‘ দাঁড়িভিটে রাজেশ,তাপস প্রাণ দিয়েছিলেন। তাঁদের স্কুলে জোর করে উর্দু পড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল। এটা কোনও বিচ্ছিন ঘটনা নয়। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির উপর আরব সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন। সুপরিকল্পিত ভাবেই এটা এখন বাংলায় চলছে। আর তা হচ্ছে সরকারি মদতেই। আকাশকে আসমান, বাবাকে আব্বা, রামধনুকে রংধনু বলে চালানোর চেষ্টা চলছে। তারই অঙ্গ হিসাবে দাঁড়িভিটে উর্দু চাপানোর চেষ্টা হয়েছিল। এটা হালকা ভাবে নিলে চলবে না। রাজেশ,তাপস ইসলামিক আগ্রাসন রুখতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন। আমরা যদি এখনও সচেতন না হই, তাহলে এই আগ্রাসন পশ্চিমবঙ্গকে অচিরেই গ্রাস করবে।‘

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. অচিন্ত্য বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, ‘বাংলায় উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষত, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে এসব করা হচ্ছে। এমন কিছু গদ্য পাঠ্য করা হচ্ছে, যেখানে আরবীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু এই উর্দু এবং আরবীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলন হয়েছিল। কিন্তু আজ বাংলাদেশিরা এই আন্দোলনের উত্তরাধিকার বহন করছে।  তাই পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষাকে যদি বাঁচাতে হয়, তবে অবশ্যই দাঁড়িভিটকে স্মরণ করতে হবে।’অচিন্ত্যবাবু আরও বলেন, ‘এখন বাংলা ভাষায় প্রার্থণা বদলে এবাদত, জলের বদলে পানি। এমনকি জলখাবার বলা হচ্ছে না। জল বলতে হবে বলে। তাই বলা হচ্ছে নাস্তা। এই ভাষাকে আমরা কিছুতেই বাংলা বলতে পারি না।’

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহিত রায় বলেন, ‘দাঁড়িভিটের ঘটনা বাংলা ভাষার ওপর উর্দু ভাষার আক্রমণ। এটা শুধু শিক্ষার বিষয় ছিল না। পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতে হিন্দু সংস্কৃতির ওপর যে আক্রমণ চলছে তার একটা অংশ। বাংলাদেশে যে বাংলা চলছে, সেখানে ইসলামিকরণ হয়েছে। সেই চেষ্টা আমাদের এখানে হচ্ছে। দাঁড়িভিট  অঞ্চলে কোনও উর্দু ভাষি নেই। এমন একটি জায়গা যেখানে গত ৩০ বছরে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়েছে। সেখানে ছাত্ররা গ্রামবাসীরা সাহসী প্রতিবাদ করেছিলেন মাতৃভাষাকে রক্ষা করার জন্য। এটা একটা বড় উদাহরণ। ’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯ মে বরাকে মাতৃভাষার জন্য ১১ জন বাঙালি প্রাণ দিয়েছিলেন। তার মধ্যে একজন ছিলেন মহিলা। কিন্তু গত ৫০ বছরে আমাদের রাজ্য বা কলকাতায়  সরকারিভাবে তা পালিত হয়নি। কলকাতায় এঁদের স্মৃতিতে রাস্তা বা স্মৃতিসৌধ তৈরি হয়নি। বাংলাদেশের ইসলামি বাংলা ভাষাকে চাপিয়ে দেওয়ার জন্যই এই অবস্থা হয়েছে। সেখানে দাঁড়িভিট আমাদের সামনে মাতৃভাষাকে রক্ষা করার নতুন দিশা দিল।’

অধ্যাপক অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা পূর্ব পাকিস্তানের একটি ঘটনা নিয়ে মাতৃভাষা দিবস পালন করি। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাংলায় আকাশ-পাতাল তফাৎ। বিশেষত বাংলাদেশের বাংলায় বহু পরিমাণ আরবী-ফারসি শব্দের অনুপ্রবেশের ফলে তা এক অদ্ভুত জগাখিচুড়ি ভাষায় পরিণত হয়েছে- যা পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ বাঙ্গালীর কাছেই দুর্বোধ্য। তা-ই ইংল্যান্ড ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইংরেজির যেমন পৃথক মর্যাদা আছে- সেভাবেই পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বাংলাকেও পৃথকভাবে দেখা উচিত। এবং আমি মনে করি পূর্ব পাকিস্তানে ঘটা কোন ঘটনার পরিবর্তে পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষার শিক্ষকের দাবিতে দুটি তরুণ প্রাণ যেদিন চলে গেল- সেই ২০-এ সেপ্টেম্বরকেই পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীর মাতৃভাষা দিবস হিসাবে পালন করা উচিত।’

Related Articles

Back to top button
Close