fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা সংক্রমণ বাড়ায় শিলিগুড়িতে দোকান বাজার খোলায় ক্ষোভ স্থানীয়দের মধ্যে

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: বাইরে আটকে থাকা শ্রমিকরা ফিরতেই শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে শিলিগুড়িতে আরও এক ব্যক্তির দেহে করোনা ধরা পড়ায় শিলিগুড়িতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখন চার। শুক্রবার শিলিগুড়ি মহকুমা ঘেঁষা চোপড়াতেও নতুন করে পাঁচজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরা সকলেই বাইরে শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন। শিলিগুড়িতে নতুন করে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিও অসম গিয়েছিলেন। সেখানেই তার লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গুয়াহাটি থেকে সরকারিভাবে শিলিগুড়ি মহকুমা শাসকের কাছে সেখবর আসতে ওই ব্যক্তিকে রাতেই শিলিগুড়ির কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার স্ত্রী ও পুত্র সন্তানকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে।

এদিন সকাল থেকে মাটিগাড়া পতিরামে ওই ব্যক্তির বাড়ি ও তার চারপাশ দমকল জীবানুমুক্ত করে। মাটিগাড়ার বিডিও রুনু রায় এলাকা পরিদর্শনে যান। তিনি বলেন, ‘ পরিবারের লোক ছাড়াও ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে কে কে এসেছিলেন তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। কয়েকজনকে কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়েছে। ঘনিষ্ট প্রতিবেশীদের লালারসের নমূনা সংগ্রহ করা হয়েছে পরীক্ষার জন্য। ‘ এই ঘটনায় বাইরো থেকে আসা মানুষের উপর প্রশাসনের বিরুদ্ধে করোনা বিধি মেনে নজরদারিতে শিথিলতার অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: আমফান ঝড়ে বিধ্বস্ত বারুইপুর,সোনারপুর সহ ভাঙড় পরিদর্শনে সাংসদ মিমি চক্রবর্তী

অভিযোগ,,এতদিন লকডাউন মেনে শিলিগুড়িতে করোনা পরিসবথিতি নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু বাইরে থেকে লোক আসতেই একের পর এক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান মিলছে। বাইরে থেকে আসার সঙ্গে সঙ্গে সকলকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে রাখা হলে এই আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে আজ করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণের বিপদ তৈরি হতো না। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লকডাউনের মধ্যে নতুন করে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। কেননা বৃহস্পতিবার থেকে শিলিগুড়ি শহরে সব দোকান বাজার খুলতে যেভাবে মানুষ বাজার মুখো হয়ে উঠেছেন তাতে ওয়াকিবহাল মহল প্রমাদ গুনছেন। এদিনও শিলিগুড়ি শহরে সব বাজারেই দেখা গিয়েছে মানুষ গাদাগাদি করে বাজার করছেন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে না। এভাবে বাজারে ভিড় হতে থাকলে শিলিগুড়িতে করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণ ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহলের আশঙ্কা।

লকডাউন শুরুর দিন থেকে শিলিগুড়িতে একটা অংশের মানুষ বেপরোয়াভাবে রাস্তায় ঘোরাফেরা করেছেন। এখন সব দোকান বাজার খুলে যাওয়ায় বাইরে বের হওয়ার ব্যাপারে সকলে এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। ব্যবসায়ীদের একাংশও এদিন জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে এভাবে দোকান বাজার খুলে দেওয়া ঠিক হয়নি। কেননা সবে যখন বাইরে আটকে থাকা মানুষ আসতে শুরু করেছে তখন লক ডাউন আরও কঠোরভাবে মানার ব্যাপারে প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার ছিল। কেননা কে কোথা থেকে কী অবস্থায় এসেছেন, কোথায় যাচ্ছেন তা কেউ জানে না

Related Articles

Back to top button
Close