fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

টাকা আছে, খাবার নেই, জাতীয় সড়কে হোটেল, ধাবা বন্ধ থাকায় বিপাকে গাড়ির চালকরা

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: টাকা আছে। নেই খাবার। লকডাউনের জেরে বন্ধ জাতীয় সড়কের হোটেল, ধাবা। এক প্রকার না খেয়েই এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে মাল নিয়ে পাড়ি দিচ্ছেন লরির চালকরা। কেউ কেউ ছাতু, বিস্কুট খেয়েই কাটিয়ে দিচ্ছেন রাত। নদীয়ার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে লরির চালকদের সাথে কথা বললেই উঠে আসছে খাবার না পাওয়ার অভিযোগ।

লকডাউন জারি থাকলেও বেশ কিছু শর্তে সরকারের তরফ থেকে মিলেছে দোকান খোলার ছাড়পত্র। সেই শর্ত মেনেই অনেকে হোটেল, ধাবা খুললেও সন্ধ্যের মধ্যে তাঁরা ঝাঁপ নামিয়ে ফেলেন। ফলে , রাতেরবেলা যে সব চালকরা লরি নিয়ে যান তাঁরা পড়েছেন মহা বিপাকে। না খেয়েই চলে যাচ্ছেন এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে। এমনই এক লরি চালক রাজু যাদব বলেন, বিহারের বাসিন্দা। হরিদ্বার থেকে মাল নিয়ে নদীয়ায় এসেছি। দুদিন, ছাতু আর বিস্কুট খেয়ে কাটিয়েছি। হোটেল, ধাবা সব বন্ধ। জলও পাওয়া যায় না। ৫০-৭০ কিলোমিটার অন্তর চা পাওয়া যায়, তবে সেটাও খেতে হয় লুকিয়ে।

নদীয়ার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বহু হোটেল, ধাবা রয়েছে। লক ডাউনের পর থেকে সবটাই ঝুলছে তালা। সম্প্রতি কিছু হোটেল, ধাবা খুললেও বেশিরভাগ হোটেল, ধাবা মালিকরা “হোটেল বন্ধ” বলে প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে রেখেছেন এখনো।
হরিণঘাটা, কল্যাণী, চাকদা, রানাঘাট, শান্তিপুর এলাকায় যে কয়েকটি হোটেল বা ধাবা খোলা রয়েছে তার মধ্যে মাত্র কয়েকটিতে এক থেকে দুজন গাড়ির চালকদের খেতে দেখা গিয়েছে। বাকিগুলিতে মাছি,মশা তাড়াচ্ছেন হোটেল, ধাবার মালিকরা। ফতে আলী মন্ডল নামে এক হোটেল মালিক বলেন, আগে ২৪ঘন্টা হোটেল খোলা থাকত। এখন সকাল ৭-৮ থেকে সন্ধ্যেবেলা ৮-৯টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয় হোটেল। আমাদের বেশি বিক্রি হয় রাতে। যেহেতু দূরপাল্লার বাস বা লরি রাতেই বেশি যাতায়াত করে। কিন্তু এখন আর সেই বিক্রি নেই। সন্ধ্যেই বন্ধ ঝাপ। দিনের বেলা চালকদের দেখা যায় না বললেই চলে।

আরও পড়ুন: হিঙ্গলগঞ্জে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ, গ্রেফতার উপপ্রধান সহ তিন

জাতীয় সড়কের পাশে দিনেরবেলা দেখা গেল বেশ কয়েকটি লরি দাঁড়িয়ে রয়েছে। লরির নীচে চলছে রান্নাবান্না। সঞ্জয় কুমার সিং নামে এক লরির চালক বলেন,  রাতে রওনা দেবেন। বাইরের রাজ্য থেকে এসেছেন। খাবারের কোনো ব্যবস্থা নেই। হোটেল বন্ধ। সকালে আশপাশ থেকে একটু চাল ও আলু জোগাড় করেছেন। আলুসেদ্ধ ভাত খেয়ে দুপুরটা কাটিয়ে দেবেন।
রাতে খাবার জুটবে কিনা তা জানা নেই সঞ্জয়,রাজুর মত বহু চালকদের। এইভাবে অনাহারেই কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবেন তাঁরা।

Related Articles

Back to top button
Close