fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বাঁদনা পরব ঘিরে উৎসবের মেজাজ নেই, করোনা আবহে মন্দা বাজার হাট, ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি,(ঝাড়গ্রাম): আর মাত্র কয়েকদিন পরেই কালীপুজো ভাইফোঁটা ও বাঁদনা পবর। এই কালীপুজোকে কেন্দ্র করে বাঁদনা পরবে মেতে উঠেন জঙ্গলমহলের আমজনতা। কিন্তু এই মহামারী পরিস্থিতির জন্য বাজার হাট একেবারেই ফাঁকা। অন্যান্য বছর এই সময় বাজার হাট জমে উঠত। যার ফলে মার খাচ্ছেন কাপড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে প্রায় সব ব্যবসায়ীরা। এবার বাজারে একেবারে বিক্রি পাটা নেই বললেই চলে। এবার দুর্গাপুজোতে সেভাবে বিক্রি পাটা করতে পারেনি কাপড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে অন্যান্য ব্যবসায়ীরা। জেলা শহর ঝাড়গ্রাম সহ ব্লকের বাজারগুলিতেও কাপড়ের দোকানে অন্যান্য বার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভীড় সামলানো ছিল মুশকিল ব্যাপার। কিন্তু এবার খদ্দেরের দেখা নেই সেইভাবে।

ঝাড়গ্রাম জেলা শহর ছাড়াও অন্যতম বাজার লালগড়, শিলদা, বেলপাহাড়ী, গোপীবল্লভপুর, নয়াগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলিতে মানুষজনেরা অন্যান্য কাজের জন্য বাজারে গেলেও জামা কাপড় দোকানগুলিতে ভিড় লক্ষ করা যায়নি। যার ফলে এবার দুর্গাপুজোর পর এবার কালীপুজো, ভাইফোঁটা ও বাঁদনা পরবেও কাপড় ব্যবসায়ীদের মাথায় পড়েছে। করোনা পরিস্থিতির জন্য দুর্গাপুজোতে সেভাবে কাপড় ব্যবসায়ীদের বিক্রি না হলেও কালীপুজো, ভাইফোঁটা ও বাঁদনা পরবে ভালো বিক্রির আশায় বুক বেঁধেছিলেন কাপড় ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সব আশাতে জল ঢেলে দিয়েছে কোভিড। এমনিতেই এই করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনের জেরে গত চার মাস ধরে প্রায় দোকান বাজার বন্ধ ছিল। পরে লকডাউন কাটার পরে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করেও করোনার কাছে হার মানতে হয়েছে।

করোনা সংক্রমণের জেরে বারে বারে বন্ধ করতে হয়েছে দোকান বাজার। তার জন্য ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবার গুলির অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। আর তারেই প্রভাব পড়েছে এই পুজোতে। এমনিতেই লকডাউনের সময় থেকেই ব্যবসায় মন্দা চলছে। ব্যবসায়ীদের আশা ছিল দুর্গাপূজোতে না হলেও কালী পুজো, ভাইফোঁটা ও বাঁদনাপরবে ব্যবসায় লাভের মুখ দেখবেন। কিন্তু দুর্গাপুজোর পরে আবারও সংক্রমণের হার উত্তরোত্তর বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কন্টেনমেন্ট জোনগুলিতে আবার নতুন করে লকডাউন ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। যদিও ঝাড়গ্রাম জেলায় সংক্রমণের হার বাড়লেও এখনও পর্যন্ত কোনও কন্টেনমেন্ট জোন নেই ঝাড়গ্রামে। তবে অনেকে ব্যবসায়ী ঋণ নিয়ে পূজোর আগে দোকানের কাপড় সহ অন্যান্য মালপত্র তুলেছিলেন। দুর্গাপুজোয় বিক্রি না হলেও কালীপুজো, ভাইফোঁটা ও বাঁদনাপরবে তা বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এখন কিভাবে সেই ঋণ পরিশোধ করবেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন:দুর্গাপুজোর পর এবার কালীপুজোতেও পুজো মণ্ডপকে দর্শক শূন্য রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের

এবিষয়ে দহিজুড়ী বাজারের কাপড় ব্যাবসায়ী তাপস দাস বলেন,” বিক্রিপাটা একেবারে নেই বললেই চলে। দূর্গাপূজোর পর কালীপুজো, ভাইফোঁটা ও বাঁদনাপবরের সময় ভেবে ছিলাম বিক্রি ভালো হবে কিন্তু সেভাবে বিক্রি নেই। এবছর পুজোর সময় মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বিক্রি করেছি। ঋণ কিভাবে শোধ করব সেটাই ভাবছি। তবে অনলাইন কেনাকাটাকেও দায়ী করেন এই কাপড় ব্যবসায়ীরা। তরুণ থেকে প্রবীণ সকলেই কেনাকাটা করতে ছুটছেন শপিংমলে বা ঘরে বসেই অনলাইনে অর্ডার করে পেয়ে যাচ্ছেন পছন্দসই জিনিস। শপিংমলেও এক ছাদের নীচে পরিবারের সকলের জন্য কেনাকাটা করার সুবিধা তারা হাতছাড়া করতে চান না। ফলে বাজারে গিয়ে এ দোকান ও দোকান ঘুরে কেনাকাটার ঝামেলা পোয়াতে হচ্ছে না খদ্দেরদের।

Related Articles

Back to top button
Close