fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নদীতে দূষণ নেই, ফিরে আসছে হারিয়ে যাওয়া মাছ

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : লক ডাউনের ফলে এখন দূষণ কমেছে নদীতেও। অবাধে এক যায়গার মাছ অন্য যায়গায় চলে যাচ্ছে অবাধে। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের নিম্ন গাঙ্গেয় অববাহিকার লুপ্তপ্রায় মাছ এখন সম্পূর্ণ বেমানান জায়গায় হাজির। IUCN এর দৃষ্টিতে Least Concern হিসাবে রয়েছে ‘বোগো’ মাছ। এখন তা পূর্ব মেদিনীপুরের ক্ষীরাই নদীতেও মিলছে। অথচ সুদূর নর্মদা নদীতেও এই মাছের অস্তিত্ব মিলেছে।

 

 

আসলে হারিয়ে যাচ্ছে জলজ বাস্তুতন্ত্র। ইতিমধ্যে এসব নদী থেকে হারিয়ে গেছে অনেক ধরনের ঘরোয়া মাছ। ঘুষো চিংড়ি, গুলে, ন্যাদোস, চাঁদা, চ্যাং, বটকই ভেতো, আড়, কর্কট, লালচাঁওয়াদের দেখা মেলে না আর। এমতবস্থায় এই বোগো তথা কাঁকিল্যা মাছ মেলায় আশার আলো দেখছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

 

 

বিশিষ্ট মৎস্য গবেষক হিরন্ময় ধাড়া জানান, দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ক্রান্তীয় অঞ্চলের নদনদীর নিম্ন অববাহিকায় এদের দেখা মেলে। মিষ্টিজলের প্রবাহমান বাস্তুতন্ত্র, মূলত নদনদী, খাল, বিলেই দেখা মেলে। অনেক সময় খাঁড়ি ও নোনাজলের বাস্তুতন্ত্রেও দেখা মেলে। তবে সংখ্যায় কমে গিয়েছে অনেকটাই। সচরাচর আর মিস্টি জলের নদনদীতে পাওয়া যায়না। এমতবস্থায় ক্ষীরাইয়ের মতো ছোট নদীতে মেলায় আশা জাগছে এদের ভালো ভবিষ্যত নিয়ে।

 

সুচের মতো ঠোঁটের কারণে মৎস্যজীবীদের কাছে এই মাছ নিয়ে প্রবল আতঙ্ক। মাছ ধরার সময় অনেকক্ষেত্রে বিপদ ডেকে আনে। খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হলেও খুব বেশি আকর্ষণ করেনা খাদ্যরসিকদের। অভিনব ও বিচিত্র দেহাকৃতির জন্য এখন মূলতঃ একোরিয়ামের মাছ হিসেবেই রাখা হয়। তবে এই মাছ খুব রাক্ষুসে প্রকৃতির। এরা জলের ছোট ছোট কীটপতঙ্গ, মাছ ও লার্ভা খায়। তবে জমিতে ইদানিং কীটনাশক প্রয়োগ বেড়ে যাওয়ায় এরা প্রবল খাদ্যসংকটে ভুগছে।

ক্ষীরাই নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জালে ধরেছেন সাহড়দার বিশ্বজিৎ সামন্ত। আগে কোনদিন এই মাছ পাননি। এই নদী থেকে প্রায় ২০-২৫ আগেই হারিয়ে গিয়েছে এটি। ‘একে আমরা গাঙা মাছ বলতাম’ জানান মৎস্যজীবী দুলাল কর। লম্বাটে প্যাকাল মাছের মতো দেখতে। আর মুখের চোয়াল দীর্ঘায়িত হয়ে সূচের মতো আকৃতির। তাই ‘নিডল ফিস’ও বলা হয় belonideae গ্রুপের এই মাছকে। বকের ঠোঁটের মতো মুখ বলেই নাম ‘বোগো’। হিরন্ময় ধাড়া জানান, এঁদের চোয়ালে সূক্ষ্ম ধারালো দাঁত থাকে। পৃষ্ঠ পাখনা দেহের শেষভাগের দিকে অবস্থিত। পায়ু ও পৃষ্ঠপাখনা পরস্পরের বিপরীতে থাকে।

পরিবেশবিদদের দাবি, দিন দিন যেভাবে জলজ বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাতে পরিবেশের এই অবহেলিত নান্দনিক মাছেরা কতদিন নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে তা অন্যতম আলোচনার বিষয়। গ্রীষ্মের শুরুতে নদনদীর জল কমতে থাকলে এরা হাওড় বা খাদানে আশ্রয় নেয়। এই সময় এরা প্রজনন করে। আর বর্ষার শুরুতে ডিম পাড়ে, যা থেকে নতুন প্রজন্ম গড়ে ওঠে। এদের প্রজনন প্রাকৃতিক, কোনো কৃত্রিম প্রজনন নেই। তাই সমস্যা এদের বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে। তবে লক ডাউনের ফলে নদনদীতে দূষণের প্রভাব কমে যাওয়ায় ফিরে আসছে প্রায় হারিয়ে যাওয়া এইসব মাছেদের আনাগোনা।

Related Articles

Back to top button
Close