fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কান ধরে ওঠবোস করানো থেকে উপদেশ কিছুই বাদ গেল না…কড়া হাতে লকডাউন কার্যকর পুলিশের

অলোক কুমার ঘোষ, ব্যারাকপুর: উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে তৎপর প্রশাসন। একদিকে কড়া হাতে লকডাউন কার্যকর করল পুলিশ, অন্যদিকে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় চলতি মাসের শেষ দিন পর্যন্ত লকডাউন চলবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় ক্রমশ বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের ২ দিনের লকডাউনের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বিভিন্ন পুরসভাগুলি নিজেদের মতো করে চলতি মাসের শেষ দিন পর্যন্ত লকডাউন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শনিবার ছিল চলতি সপ্তাহের সাপ্তাহিক লকডাউনের দ্বিতীয় তথা শেষ দিন। শনিবারও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে কড়া হাতে লকডাউন কার্যকর করল ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কর্মীরা । লকডাউন ভঙ্গকারী এবং ট্রাফিক আইন অমান্যকারী এক যুবককে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ প্রকাশ্য রাস্তায় কান ধরে ওঠবস করালেন। লকডাউন ভঙ্গকারী ওই যুবক প্রচণ্ড গতিতে গারুলিয়া মেন রোড দিয়ে বাইক চালাচ্ছিল। লকডাউনের দিন ফাঁকা রাস্তা পেয়ে সে অযথা বাইক চালাতে বেরিয়েছিল ওই রাস্তায়। পিনকল মোড়ের কাছে গারুলিয়া মেন রোডে তার পথ আটকান নোয়াপাড়া থানার পুলিশকর্মীরা । ওই যুবক লকডাউনভঙ্গ করার কারণে নিজেই কান ধরে ওঠবস করে পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পান ওই বাইক আরোহী যুবক কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের প্রতিশ্রুতি দেন, সে আর লকডাউনের নিয়ম ভাঙবে না। শুধু নোয়াপাড়া থানা এলাকাই নয়।

আরও পড়ুন:নৃশংসতা কী নেশা! ‘৫২৩০’ জনকে খুন… দোষী সাব্যস্ত ৯৩ বছরের বৃদ্ধ

পুলিশ কর্মীরা এদিন তৎপরতার সঙ্গে কর্তব্য পালন করেছে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়। ব্যারাকপুর ঘোষপাড়া রোডে, বিটি রোডে, ব্যারাকপুর কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে, ব্যারাকপুর বারাসাত রোডে, বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়েতে এদিন নাকা চেকিং এর ব্যবস্থা করে পুলিশ ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে এদিন দোকান, বাজার সবই বন্ধ ছিল । রাস্তায় যানবাহন ছিল না বললেই চলে। শুধুমাত্র কিছু ওষুধের দোকান ও দুধের দোকান খোলা দেখা গেছে।

এদিকে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ক্রমশ বাড়ছে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট অনুসারে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১১ হাজার পেরিয়ে গেছে। কলকাতার পরেই করোনা আক্রান্ত জেলা হিসেবে বিপজ্জনক জায়গায় রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা । এই জেলায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৬ হাজারের বেশি মানুষ । জেলায় মৃতের সংখ্যা ২৫৭ পেরিয়েছে । মোট পজিটিভ রোগীর সংখ্যা অন্তত ৪৭০০ জন। এদিকে এই পরিস্থতিতে উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করায় নতুন করে বিভিন্ন পুরসভাসগুলি নিজেদের মতো করে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার পক্ষ থেকে শনিবার ঘোষণা করা হয়েছে এই পুরসভা এলাকায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামী ২৭ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সম্পূর্ণ লকডাউন কার্যকর করা হবে। এই ৫ দিন এলাকার কোন দোকান, বাজার, কলকারখানা খুলবে না। শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবা খোলা থাকবে।

আরও পড়ুন:রাম মন্দির নির্মাণকাজের প্রস্তুতি পর্ব খতিয়ে দেখতে অযোধ্যা সফরে যোগী

উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার পৌর প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য অভিজিত মজুমদার বলেন, “উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভা এলাকায় বর্তমানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ পেরিয়েছে, মানুষকে পরিষেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন এই পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। আমরা মানুষকে পরিষেবা দিতে লকডাউনের মধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ড গুলিকে জীবাণুমুক্ত করে দিচ্ছি। মানুষকে বলছি তারা যেন পুরসভার সঙ্গে সহযোগিতা করেন এবং আগামী ৫ দিন বাড়ির বাইরে না বেরোন। এই পুরসভা এলাকায় সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা লকডাউনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আমরা ইছাপুর রাইফেল ও মেটাল ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষকে ওদের কারখানার উৎপাদন এই ৫ দিন বন্ধ রাখার আবেদন করেছি। ওই দুটি কারখানাতে বেশ কয়েকজন কর্মী করোনা আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন । তাই আমরা চাই কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন ওই দুই কারখানা ও আমাদের আবেদন মেনে সম্পূর্ণ লকডাউন প্রক্রিয়ায় শামিল হোন ।” এদিকে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নৈহাটি পৌরসভা, বীজপুর পৌরসভা, বরানগর পৌরসভা, কামারহাটি পৌরসভা, দমদম পৌরসভা। এই পৌরসভা এলাকা গুলিতে যাতে করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেই কারণে নতুন করে লকডাউনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close