fbpx
কলকাতাখেলাগুরুত্বপূর্ণদেশপশ্চিমবঙ্গফুটবলহেডলাইন

ফুটবলের প্রতি ছিল প্রেম

শ্রেনিক শেঠ: দাদার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ১৯৮৯ সালে। সেই সময় তিনি আবার কংগ্রেসে ফিরে আসেন। মহম্মদ হাজি মহসিন স্কোয়ারের সাবেক কংগ্রেস অফিসে। সেদিন ওঁনার সঙ্গে কথা হয়েছিল মাত্র ১০ মিনিট। দাদা শুনেছিলেন আমি বিজয় সিং নাহারের ভাগ্নে। প্রণবদা যখন জঙ্গিপুরের সাংসদ ছিলেন তখন অনেক ধরনের গঠনমূলক কাজ করছিলেন কিন্তু মানুষ সেই সম্পর্কে ঠিক মত খবর পাচ্ছিলেন না। একদিন ড. মানস ভুঁইয়ার সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে দাদা যখন এই বিষয় আলোচনা করছিলেন, তখন মানস ভুঁইয়া দাদাকে বলেন, আমাকে সেই কাজের দায়িত্ব দিতে। তখন উনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেন। দাদা আমাকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম জঙ্গিপুরে গেলেন জায়গাটা ভালো করে ঘুরে দেখিয়ে সব বুঝিয়ে দিতে। ওঁনার কনভয়তে গেলাম। সব দেখে একটা রির্পোট তৈরি করে ওঁনাকে দিয়েছিলাম। সেই রির্পোটে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিক দুটোই ছিল। সেটা দেখে উনি বেশ অবাক হয়েছিলেন কারণ সকলেই ভালো দিকটা তুলে ধরেন। আমাকে যখন উনি জঙ্গিপুরের সমস্ত কাজের দায়িত্ব দিলেন, তখন আমি বেশ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলাম। ততোদিনে উনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে চলে গিয়েছিলেন বিশেষ মন্ত্রকে।

জঙ্গিপুরে যুব সমাজের কাছে পৌঁছানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলাম। ‘অলস্পোর্ট ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষ থেকে দাদার বাবার নামাঙ্কিত ‘কামাদাকিঙ্কর মুখোপাধ্যায় ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর আয়োজন করেছি বেশ কয়েকবার। ২০০৮ সালের মধ্যে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সংস্কার করা হয়। কলেজ এবং ১১টা স্কুল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে দাদা দু’বার জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হন। এর আগে উনি যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন, তখন বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে আমরা মুর্শিদাবাদে অনুষ্ঠান করতাম। স্থানীয় সাংসদ হিসেবে যখনই জঙ্গিপুরে এসেছেন তখনই প্রায় প্রতিদিন ঘন্টা দুয়েক করে মানুষের কাছ থেকে স্থানীয় সমস্যার কথা শুনেছেন। ফুটবল টুর্নামেন্টের সময় দাদাকে অনুরোধ করেছি ফুটবলে শট মেরে টুর্নামেন্টের সূচনা করতে। সেটা করতে গিয়ে নিজের শৈশবের গল্প বলেছেন। ছোটবেলায় বাতাবি লেবুকে ফুটবল বানিয়ে খেলার কথা শুনেছিলাম ওঁনার মুখে।

১৯৮৩ সালে ভারত যখন বিশ্বকাপ জেতে সেই সময় আমি অফিসিয়াল ফটোগ্রাফার হিসেবে প্রচুর ছবি তুলেছিলাম। সেই সব ছবির মধ্যে থেকে নির্বাচিত কিছু ছবি নিয়ে বই করি। আমার অনুরোধে দাদা একদিনের মধ্যে বইয়ের ভূমিকা লিখে পাঠিয়ে দেন। শারদ পাওয়ার একটা ভূমিকা লিখে দেন। এরপর দাদা বইটা প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলেন। আমার অনুরোধে কলকাতার এক নামি পাঁচতারা হোটেলে উনি উপস্থিত থেকে বইটার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন। সেই অনুষ্ঠানে দাদার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অজিত ওয়াদেকর, সৈয়দ কিরমানির মত প্রাক্তন ক্রিকেটাররা।

Related Articles

Back to top button
Close