কলকাতাবিজ্ঞান-প্রযুক্তিশিক্ষা-কর্মজীবনহেডলাইন

জাতীয় বিজ্ঞান দিবসে বিশেষ সম্মাননা পাচ্ছেন এই ১০ দিকপাল!

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: এবছর জাতীয় বিজ্ঞান দিবসে (National Science Day-2020) বিশেষ ভাবে সম্মানিত হতে চলেছেন বিজ্ঞান, শিক্ষা ও গবেষণা জগতের ১০ দিকপাল। ২৯ ফেব্রুয়ারি, বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়ামে তাঁদের সম্মাননা জানাবে ‘দ্য সাইন্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল’।

আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ১০ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।  এদের সকলকে ভারতের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও প্রযুক্তিবিদদের স্মরণার্থে সম্মাননা জানানো হবে।

১) ‘ডক্টর জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য মনোনিত হয়েছেন বোস ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর, অধ্যাপক ডক্টর উদয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

২) ‘আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন ডক্টর নকুল পরাশর (ডিরেক্টর, বিজ্ঞান প্রসার)

৩) ‘আচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু মেমোরিয়াল আওয়ার্ড’ তুলে দেয়া হবে ডক্টর কে. মুরলিধরণ (ডিরেক্টর, সিএসআইআর- সিজিসিআরআই) এর হাতে।

৪) ‘আচার্য জগদীশচন্দ্র বোস মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন ডক্টর অনুরাধা মুখোপাধ্যায় (উপাচার্য, ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়)।

৫) ‘ডাঃ নীলরতন সরকার মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন প্রফেসর ডাঃ প্লাবন মুখার্জি (ডীন, ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সাইন্স)।

৬) ‘প্রফেসর মেঘনাদ সাহা মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন ডক্টর মানস প্রতিম দাস, (প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ, বিজ্ঞান বিভাগ, অল ইন্ডিয়া রেডিও)।

৭) ‘প্রফেসর প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন ডক্টর রাজ্যশ্রী নিয়োগী (অধ্যক্ষা, বিজয়গড় জ্যোতিষ রায় কলেজ, কলকাতা)।

৮) ‘ডাঃ বিধান চন্দ্র রায় মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন ডাঃ শুভাশিস মুখার্জি, (অধ্যাপক, কলেজ অফ মেডিসিন এন্ড সাগর দত্ত হসপিটাল)

৯) ‘চার্লস ব্যাবেজ মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন কম্পিউটার সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া’র চেয়ারম্যান গৌতম হাজরা।

১০) ‘ডক্টর গোপালচন্দ্র মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন বিজ্ঞান গবেষক সৈকত বসু।

সেইসাথে এবছর ‘স্যার সি. ভি. রমন ন্যাশনাল সাইন্স ডে অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেয়া হবে ‘জগদীশ বোস ন্যাশনাল সাইন্স ট্যালেন্ট সার্চ’ (JBNSTS) সংস্থার হাতে।

জানা যাচ্ছে, জাতীয় বিজ্ঞান দিবসে এবারের মূল ভাবনা থাকছে ‘বিজ্ঞানে মহিলা’ বা ‘Women in Science’। সেইসাথে এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন অধ্যাপক ডক্টর সৈকত মৈত্র (উপাচার্য, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি), ভি এস রামাচন্দ্রন, (ডিরেক্টর, বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়াম) ডাঃ শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় (প্রেসিডেন্ট, সাইন্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল), ও ডক্টর শুভব্রত রায়চৌধুরী প্রমুখ।

আয়োজককারী সংস্থার পক্ষ থেকে প্রফেসর ডক্টর অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এদিনের অনুষ্ঠানে ‘ডক্টর জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ মেমোরিয়াল লেকচার’ দেবেন বোস ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর, অধ্যাপক ডক্টর উদয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

২৮ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় বিজ্ঞান দিবস কেন পালিত হয়?

১০ নভেম্বরকে ‘বিশ্ব বিজ্ঞান দিবস’ হিসেবে পালন করে গোটা বিশ্ব। এ দিনটাকে শান্তি আর উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে পালন করা হয়। তবে, ভারতে ২৮ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় বিজ্ঞান দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। তার পিছনে একটি কারণ আছে। কেননা, ১৯২৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে ভারতীয় পদার্থবিদ চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন ‘রমন এফেক্ট’ আবিষ্কার করেছিলেন। যিনি সকলের কাছে- ‘সি ভি রমন’ নামে বেশি পরিচিত। তাঁর এই আবিষ্কারের জন্য ১৯৩০ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারও পান। সি ভি রমন শুধু ভারতের নন, গোটা এশিয়ার মধ্যে প্রথম ব্যক্তি যিনি পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।

কী থেকে তিনি এই আবিষ্কারের কথা ভাবলেন?

১৯২১ সালে জাহাজে করে একবার তিনি লন্ডন থেকে দেশে ফিরছিলেন। খেয়াল করলেন সমুদ্রের জলের রং নীল। তিনি জানতেন আকাশের রংও নীল লাগে, কারণ আকাশের বিশেষ বর্ণ ছটার জন্য। কিন্তু সমুদ্রের রং কেন নীল লাগে! সেই ভাবনা থেকেই তিনি গবেষণা শুরু করেন। আর তার ফলাফল জগৎবাসীর সামনে স্পষ্ট। সেটাই ‘রমন এফেক্ট’ নামে পরিচিত। লম্বা গবেষণার পর অবশেষে ১৯২৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি সূত্র আবিষ্কার করেন। অবশ্য ১৬ মার্চ আনুষ্ঠানিক ভাবে এই সূত্র প্রকাশ করেন তিনি। এই সূত্রের মূল কথা হল, পদার্থের বিভিন্ন অণুপরমাণুই সেই পদার্থের বর্ণের প্রতিফলনের জন্য দায়ি, তা সে জল, মাটি, আকাশ বা যা কিছুই হোক না কেন। কোন বস্তুকে কী রঙের দেখাবে তা তার ওপরই নির্ভর করে।

এই দিবস উদযাপনের উদ্দেশ্য কী?

সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞান বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে, প্রাত্যহিক জীবনের বিজ্ঞানের গুরুত্ব আর প্রয়োজনীয়তা কী তা তুলে ধরার জন্য আর নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারের প্রতি আগ্রহী করে তোলার জন্যই এই দিনটি পালিত হয়। ১৯৮৭ সাল থেকে এই দিনটিকে সারা ভারতে ‘জাতীয় বিজ্ঞান দিবস’ হিসাবে পালন করা হচ্ছে। এমনি এক দিনে ‘দ্য সাইন্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল’ ও ‘বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়াম’ যৌথ উদ্যোগে বিজ্ঞান, শিক্ষা ও গবেষণা জগতের ১০ দিকপালকে সম্মাননা জানাচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close