fbpx
দেশহেডলাইন

ওমিক্রন আটকাতে এবার টিকা আনছে জেনোভা, চলছে তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল

যুগশঙ্খ,ওয়েবডেস্কঃ দেশজুড়ে ওমিক্রনের বাড়বাড়ন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই করোনা ও ওমিক্রনকে রুখতে একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে আসা কোনও যাত্রীর কলকাতা বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। কোভিড-১৯ –এর বিরুদ্ধে দেশের লড়াইকে আরও জোরদার করে তুলতে কেন্দ্রীয় ওষুধ মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক গত বছরের ডিসেম্বরে দুটি অতিরিক্ত টিকাকে অনুমোদন দিয়েছে। বায়োলজিক্যাল-ই –এর করবিভ্যাক্স টিকা এবং এসআইআই-এর কোভোভ্যাক্স টিকা দুটিকে জরুরি পরিস্থিতিতে সীমিত ব্যবহারের ওপর ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে দেশে জরুরি পরিস্থিতিতে মোট ৮টি টিকার সীমিত ব্যবহারের ছাড়পত্র মিলেছে।

ওমিক্রনকে বশে আনতে দেশটির জেনোভা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস ‘মেসেঞ্জার আরএনএ’ ভ্যাকসিন আনছে। বর্তমানে এই ভ্যাকসিনটির তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল চলছে। এখানেও বেশ সাফল্য দেখা গেছে। সব  ঠিক থাকলে শীঘ্রই ‘মেসেঞ্জার আরএনএ’ ভ্যাকসিন বাজারে নিয়ে আসার অনুমতি দেওয়া হবে। সেরাম ইনস্টিটিউটের মতোই পুণের জনপ্রিয় টিকা প্রস্ততকারক সংস্থা জেনোভা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস। মডার্না,  ফাইজারের মতোই আরএনএ (মেসেঞ্জার আরএনএ) সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে টিকা তৈরি করা হয়েছে।

মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানি এইচডিটি বায়োটেক কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে টিকা বানিয়েছে জেনোভা। ল্যাবরেটরিতে এই টিকার প্রি-ক্লিনিকাল ট্রায়ালে সাফল্যের পর তিন পর্যায়ের ট্রায়ালের অনুমতি দেয় ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালেও সাফল্যের পথে এই টিকা। সব ঠিক থাকলে খুব তাড়াতাড়ি এই টিকা নিয়ে আসার অনুমতি দেওয়া হবে।

মেসেঞ্জার আরএনএ (এমআরএনএ) সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে টিকা ক্যানডিডেট এইচজিসিও১৯ তৈরি করেছে জেনোভা। কোন কোষে কী প্রোটিন তৈরি হচ্ছে, তার জিনগত তথ্য বা জেনেটিক কোড শরীরের নির্দিষ্ট কোষে পৌঁছে দেওয়াই এর কাজ।

আরএনএ ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন দিয়েই এই টিকা তৈরি হয়েছে। এমআরএনএ সিকুয়েন্সকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে দেহকোষে ঢুকলে সেটি ভাইরাল  প্রোটিনের মতো প্রোটিন তৈরি করতে কোষকে উদ্দীপিত করতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১৬ই জানুয়ারি, জাতীয় কোভিড-১৯ টিকাদান অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত যোগ্য নাগরিকদের ৯০ শতাংশ প্রথম ডোজ এবং ৬৫ শতাংশের বেশি দ্বিতীয় ডোজ দিয়েছে। এই অভিযানে ভারত বিশ্বে বেশ কয়েকটি অভূতপূর্ব মাইলফলন অর্জন করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো টিকাদান পর্ব শুরু হওয়ার ৯ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ১০০ কোটি ডোজ দেওয়ার লক্ষ্যপূরণ, একদিনে ২ কোটি ৫১ লক্ষেরও বেশি ডোজ প্রদান এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিদিন ১ কোটি ডোজ দেওয়া।

 

অন্যান্য উন্নত দেশগুলির তুলনায় দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে ৯৩.৭ কোটি যোগ্য প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিকদের কোভিড টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে।

 

উল্লেখ্য, আমেরিকায় মোট জনসংখ্যার মাত্র ৭৩.২ শতাংশ, ব্রিটেনে ৭৫.৯ শতাংশ, ফ্রান্সে ৭৮.৩ শতাংশ এবং স্পেনে ৮৪.৭ শতাংশ যোগ্য ব্যক্তিকে প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ভারতে ইতিমধ্যেই যোগ্য জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ ব্যক্তিকেই কোভিড-১৯ –এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে।

 

একইভাবে, আমেরিকায় মোট জনসংখ্যার ৬১.৫ শতাংশ, ব্রিটেনে ৬৯.৫ শতাংশ, ফ্রান্সে ৭৩.২ শতাংশ এবং স্পেনে ৮১ শতাংশ যোগ্য ব্যক্তিকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে। ভারতে যোগ্য জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশেরও বেশি ব্যক্তিকে কোভিড-১৯ –এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে।

 

দেশে ১১টিরও বেশি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ইতিমধ্যেই ১০০ শতাংশ প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। এমনকি, তিনটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ইতিমধ্যেই কোভিড-১৯ –এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ১০০ শতাংশ প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই একাধিক রাজ্য প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে ১০০ শতাংশ সম্পূর্ণ টিকাদান পর্বের সাফল্য অর্জন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই টিকাদানের একবছর পূর্ণ হয়েছে। এই সাফল্যের কারণে সমস্ত দেশবাসীকে টুইটে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

Related Articles

Back to top button
Close