fbpx
দেশহেডলাইন

বেআইনি ভাবে রাজনীতিকদের বন্দি করে রেখেছে সরকার, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের গণতন্ত্র মেহবুবার মুক্তির দাবিতে সরব রাহুল

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: এবার জম্মু ও কাশ্মীরের নেত্রী মেহবুবা মুফতির মুক্তির দাবিতে সরব হলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বলেন ভারত সরকার অবৈধভাবে রাজনৈতিক নেতাদের অটক করে রাখলে তা যা দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর হবে। মেহবুবা মুফতিকে মুক্তিদেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী। মেহবুবা মুফতিকে অবিলম্বে মু্ক্তি দিতে হবে বলে দাবি তুলেছেন তিনি।

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খর্ব করার আগে, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে গত বছর ৫ অগস্ট মেহবুবা মুফতি, ওমর আবদুল্লা-সহ কাশ্মীরের বহু রাজনীতিককে উপত্যকায় বন্দি করা হয়। তার পর যত সময় এগিয়েছে ওমর আবদুল্লা, সাজ্জাদ গনি লোনের মতো রাজনীতিকদের একে একে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মেহবুবাকে মুক্তি দেওয়া নিয়ে ভাবনা চিন্তা করা তো দূর, বরং সম্প্রতি তাঁর বন্দিদশার মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানো হয়েছে।

শুক্রবার পিপলস কনফারেন্সের নেতা সাজ্জাদ গনি লোনকে মুক্তি দেয় জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন। তার পর একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়, জন নিরাপত্তা আইনে মেহবুবা মুফতির বন্দিদশা আরও তিন মাসের জন্য বাড়ানো হল। এই তিন মাস শ্রীনগরের গুপকার সাব জেলে রাখা হতে পারে তাঁকে। চাইলে জন নিরাপত্তা আইনে কাউকে দু’বছর পর্যন্ত বন্দি করে রাখা যায়। সেই আইন প্রয়োগ করে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার মেহবুবার বন্দিদশার মেয়াদ বাড়ানো হল। তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে উপত্যকার সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি। পিটিপির তরফে বলা হয়, ”বিজেপির বোঝা উচিত যে এ ভাবে কাশ্মীরিদের দমিয়ে রাখা যাবে না।”

মেহবুবা মুফতির বন্দিদশার মেয়াদ বাড়ানোর তীব্র সমালোচনা করে ন্যাশনাল কনফারেন্সও (এনসি)। দেশের আর কোথাও জন নিরাপত্তা আইনের অস্তিত্ব না থাকলেও, শুধুমাত্র কাশ্মীরে কেন এই আইনের প্রয়োগ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তারা। দলের নেতা ওমর আবদুল্লা টুইটারে লেখেন, ”বেআইনি ভাবে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল সাজ্জাদ লোনকে। উনি মুক্তি পেয়েছেন শুনে ভাল লাগল। আরও অনেককেই বেআইনি ভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আশাকরি তাঁদের মুক্তি দিতে খুব বেশি দেরি করবে না সরকার।”

আরও পড়ুন: রাম মন্দির ভূমি পুজোর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাঠানো হল ওয়াইসিকে

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদম্বরমও মেহবুবা মুফতির বন্দিদশার মেয়াদবৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ করেন। টুইটারে তিনি লেখেন, ”আইনের অপব্যবহার করে মেহবুবা মুফতির বন্দিদশার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এটা প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সংরক্ষিত সাংবিধানিক অধিকারের উপর আক্রমণ।”

মেহবুবার মুক্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে কাশ্মীরের রাজনৈতিক দলগুলি। কিন্তু জন নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী কোনও ব্যক্তিকে টানা দুবছর অবধি আটকে রাখা যায়। কিন্তু পিটিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এভাবে কাশ্মীরিদের দমিয়ে রাখা যাবে না। অন্যদিকে এনসিও মেহবুবার আটক নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। তারই মধ্যে রাহুল গান্ধীর এই ট্যুইট রাজনৈতিক ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কাশ্মীরের বিজেপি বিরোধী দল গুলিতে এক ছাতার তলার আনতে রাহুলের এই ট্যুইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Articles

Back to top button
Close