fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

এবার পূর্ব মেদিনীপুরের চাষিদের দেওয়া হবে কে.সি.সি.

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : দামাল আমফান ঝড়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১২০০ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। বোরো চাষে ক্ষতি হয়েছে ৫৫০ কোটি টাকার। জেলা উপ কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) আশিষ কুমার বেরা জানান, মূলতঃ পাঁচ ধরনের চাষে ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ইতিমধ্যেই রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে জেলাশাসককে। জেলা উপ কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) জানান, খুব শিগগিরই জেলা জুড়ে চাষিদের কে.সি.সি. দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই জেলায় ৬ লক্ষ ৫৯ হাজার জনকে কৃষি পেনশন দেওয়া হয়েছে। ১১৫২ জন কৃষকবন্ধু পেয়েছেন ডেথ পেনশন।

 

 

জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চিনাবাদাম চাষে। মোট ১৫৩২৫ হেক্টর জমিতে চাষ হলেও নষ্ট হয়েছে ১৩০৫০ হেক্টর জমিতে। টাকার অঙ্কে ১৫৬.৬ লক্ষ টাকার। মোট ২০০০ হেক্টর জমির ফুলচাষের মধ্যে ১০৫০ হেক্টর জমির ফুল নষ্ট হয়েছে। প্রায় ১৮.৯০ লক্ষ টাকার ফুল ক্ষতির মুখে আমফানে। ৪০০০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হলেও ঝড়ে ভেঙেছে ৩২০০ হেক্টর জমির পান বরোজ। মোট ৯৫.৯৮ লক্ষ টাকার পানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলায় ৮১৫০ হেক্টর জমির সব্জির মধ্যে ৪৯২০ হেক্টর সব্জির ক্ষতি হয়েছে। ৭৮.৭২ লক্ষ টাকার ক্ষতি এক্ষেত্রে। প্রায় ৬.৩৪ লক্ষ টাকার তিল চাষে ক্ষতি হয়েছে ১৯৮০ হেক্টর জমিতে। চাষ হয়েছিলো ২৬৪০ হেক্টর এলাকায়।

 

 

স্বাভাবিকভাবে এই ক্ষয়ক্ষতির ফলে কৃষকরা এখন আতান্তরে। শুধু আমফান ঝড়ে নয় , এর আগে বোরো ধান তোলার সময় অকাল বর্ষনেও যথেষ্ট পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। এবছর জেলায় মোট ১ লক্ষ ৩০ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছিলো। কৃষি দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে এর মধ্যে ৫৪ হাজার ৬৮২ হেক্টর জমির বোরো ধানের চাষ জলডোবা হয়েছে। খুব বেগ পেতে হয়েছে চাষীদের। এই বোরো ধানের চাষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫৫০ কোটি টাকার মতো। সব মিলিয়ে কৃষিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৭৭০ কোটি টাকার।

 

 

জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পান চাষ হয় ময়না, নন্দকুমার, তমলুক, শহীদ মাতঙ্গিনী, পাঁশকুড়া, রামনগর ১, ২ এবং মহিষাদল ব্লক এলাকায়। আমফান ঝড়ঝঞ্ঝাতে উপড়ে গিয়েছে পানের বরোজ। এগরা, পটাশপুর, পাঁশকুড়া এবং কাঁথি এলাকায় চিনাবাদাম চাষেও খুব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোলাঘাট, তমলুক, পাঁশকুড়া ও শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকে যথেষ্ট পরিমাণ ফুল চাষে ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলা জুড়ে চাষিদের দুরবস্থা ব্যাপক।

 

 

জেলার কৃষক সংগঠনগুলোর দাবি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যথার্থ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভাগ্যে জোটেনা ক্ষতিপূরণের টাকা। চূড়ান্ত দলবাজি হয় সবক্ষেত্রে। সরকারের পেটোয়া লোকজন পায় সব অনুদান। কোনো রকম ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি না হয়েও তাঁদের কপালে জোটে সরকারি অনুদান। এই আমফান পরবর্তী পর্যায়েও আবারও ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালাবে শাসকদলের নেতারা। স্বজন পোষনের নমুনা দেখতে পাবে জেলাবাসী।

Related Articles

Back to top button
Close