fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

এবার বাজি শূন্য মেদিনীপুরের ‘বাজি গ্রাম’ নামে খ্যাত ছেড়ুয়া

তারক হরি , পশ্চিম মেদিনীপুর: এ বছর দীপাবলিতে পুরোপুরি ভাবে বাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাজি নিষিদ্ধ গোটা দেশে। দেশের ২৩টি রাজ্যে বাজি নিষিদ্ধ করল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার সরকারি ভাবে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। বর্তমান এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নিজেদের মূল পেশাটাই আমূল বদলে ফেলে রীতিমত দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ‘বাজি গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত পশ্চিম মেদিনীপুরের ছেড়ুয়া।

 

মেদিনীপুর শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে পাঁচকুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ছেড়ুয়া গ্রাম। ছেড়ুয়া, বামনডাঙা দুই গ্রামে মোট ১৫০টি পরিবার বাস করে। প্রতি বছর দীপাবলির আগে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে চোখে পড়ে চূড়ান্ত ব্যস্ততা। গ্রামজুড়ে বারুদের গন্ধ। বাড়ির সামনে মেলা থাকে তুবড়ির খোল, পটকা বানানোর সুতলি, রসবাতির কাগজ কিংবা তারাবাতির বারুদ। বাড়ির সামনে বাজির পসরা সাজিয়ে বসে পড়েন বিক্রেতারা। দিন পনেরো আগে থেকে ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা যায় ছেড়ুয়া গ্রামে। তবে এ বছরের ছবিটা একদম একটু অন্যরকম। হাইকোর্টের নির্দেশের পর গ্রামে বাজি বিক্রিতে ‘না’ শুনিয়েছেন গ্রামের মোড়লরা।

 

দু’দফায় গ্রামে অভিযান চালিয়েছে মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। চেনা ছবি বদলে গিয়েছে দেখে খুশি পুলিশকর্তারা। তবুও মাইকিংয়ের মাধ্যমে চলছে পুলিশের সতর্কবার্তা। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, এবছর আর বাজি বিক্রি নয়, তাঁরা মন দিয়েছেন রাজ্য সরকারের একশো দিনের কাজে। গ্রামের মহিলারাও ব্যস্ত বিভিন্ন কাজে। যে গ্রামে খোলা মাঠে মেলা থাকত বারুদের খোল সেই মাঠ আজ কচিকাঁচাদের খেলার জায়গা হয়ে গিয়েছে। পরিদর্শনে গিয়ে কচিকাঁচাদের সঙ্গে খেলায় মেতে ওঠেন পুলিশ আধিকারিকরা। গ্রামবাসীদের কাছে পুলিশের আবেদন, শুধু দীপাবলি নয় বছরের অন্যান্য সময়ও বারুদ বর্জন করুক পশ্চিম মেদিনীপুরের ‘বাজি গ্রাম’ ছেড়ুয়া ।

Related Articles

Back to top button
Close