fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

এবার শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষের নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার!

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: আগামী ৭ তারিখ জেলায় আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শুভেন্দুর অন্যতম শক্তিশালী গড় বলে পরিচিত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর কলেজ ময়দানে এই প্রথম শুভেন্দুহীনভাবেই শক্তি প্রদর্শন পরীক্ষার আয়োজন চলছে, তার ঠিক আগেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতির নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার করে নিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাইতির দু’জন নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে জানিয়ে দেন যে উঁচুতলার নির্দেশ মোতাবেক তাঁদের পুলিশ লাইনে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে এরপর তাঁরা আর মাইতির নিরাপত্তারক্ষী হিসাবে কাজ করতে পারবেন না।

দেহরক্ষী তুলে নেওয়ার পরেই একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন সংবাদ মাধ্যমে।

অমূল্য মাইতি বলেন, ‘আমি সিকিউরিটি নিয়ে জন্মাইনি, আর সিকিউরিটি নিয়ে মরব না। আমি বরাবর বলে এসেছি আমার অধিকারী পরিবারের সঙ্গে একটা দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও সম্পর্ক রয়েছে। যেই লোকটা আমাকে সাহায্য করেছে, তাকে ভুলবো কি করে? আমি অকৃতজ্ঞ নই।”

মূলত শুক্রবার দিনের শুরু থেকেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতির দেহরক্ষী দুজনকেই তুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কি কারণে তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘না আমি দল ছেড়েছি, না দল বিরোধী কাজ করেছি। আমাকে মিটিং করতে দেবে না, মিটিংয়ে ডাকবে না। তাহলে আমি কি করবো। তাই সমাজসেবী হিসাবে দিদির উন্নয়ন তুলে ধরছি। ২০১১ সালে যখন আমার গাড়ি ভাংচুর করা হয়, সেই সময় আমাকে দেহরক্ষী দেওয়া হয়েছিল। আমি শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ বলে ২০১৫ সালেও নিরাপত্তা তুলে দেওয়া হয়েছিল। আজকে দিদি মনে করেছেন অমূল্যর নিরাপত্তা রক্ষী লাগবে না, তাই তুলে নিয়েছেন। এতে আপত্তি নেই। তবে দিদিকে অনুরোধ করব সবংয়ে কাগুজে বাঘকে ভালো করে পরিস্কার চোখে দেখুন।”

আরও পড়ুন: কলেজের সমস্যায় ফিরহাদের নামে নালিশ, রাজ্যপালের দ্বারস্থ শোভন–বৈশাখী

উল্লেখ্য, মাইতি বাস্তবিকই শুভেন্দু অধকারী ঘনিষ্ঠ তার ওপর বর্তমান রাজনৈতিক অনুষঙ্গে তিনি জেলা তৃণমূলের মূল রাজনৈতিক ধারাতে নেই। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবংয়ে তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা কার্যত তাঁর হাত ধরে হলেও বর্তমানে রাজ্যসভার সাংসদ মানস ভুঁইয়ার দাপটে তিনি কোন ঠাসা। দুই গোষ্ঠীর বিবাদও চরমে আর সেই পরিণতিতে সবং তৃণমূলের একটি অংশ শুভেন্দু অধিকারীর ‘দাদার অনুগামী’ হয়ে বিভাজিত। অমূল্য মাইতির ছেলে শেখর মাইতি ‘দাদার অনুগামী’র সবং নেতৃত্ব বলেই পরিচিত। খুব স্বাভাবিক ভাবেই মাইতির নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহারের পেছনে সেই জল্পনাই ঘোরা ফেরা করছে বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের।

Related Articles

Back to top button
Close